বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কঠোর ভিসা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ও বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এতদিন এসব ভিসাধারীরা তাদের শিক্ষা, কর্মসূচি বা পেশাগত দায়িত্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেলেও এখন তাদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিসা চালু করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, পড়ালেখার লক্ষ্য বদল ও কোর্স শেষের পর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করেছে। ফেডারেল রেজিস্ট্রারে প্রকাশের ৬০ দিন পর কংগ্রেসের পর্যালোচনা সাপেক্ষে এটি কার্যকর হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে আসছেন। অবৈধ অভিবাসন দমনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল, আদর্শিক অবস্থানের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শত শত হাজার অভিবাসীর বৈধ অবস্থান বাতিলের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। নতুন এই বিধিমালাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কী পরিবর্তন আসছে

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ‘এফ’ ভিসা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ‘জে’ ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে চার বছর। বর্তমানে এসব ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, বরং শিক্ষা বা কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি থাকে।

অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ‘আই’ ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ আরও কমিয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা যাবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ যুক্ত করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আর অনুমতি ছাড়া তাদের শিক্ষাগত লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারবেন না বা অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হতে পারবেন না। এ ছাড়া ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য যে ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ছিল, তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।

এর অর্থ— পড়ালেখা শেষ করার পর চাকরি, নতুন শিক্ষা কর্মসূচি বা অন্য কোনো বৈধ অবস্থানে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে আগের তুলনায় অর্ধেক সময় থাকবে।

নতুন নিয়মে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিএইচএসের কাছে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে পুনরায় নতুন করে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে।

এদিকে চীনা সাংবাদিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসার বিধান নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিল বেইজিং। গত আগস্টে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবকে বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর এ বিষয়ে চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

শিক্ষার্থীরা বিপাকে

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতুন ভিসানীতির সমালোচনা করেছেন। সাবেক ডিএইচএস কর্মকর্তা ডগ র‌্যান্ড বলেন, বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিকই জানেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো ও অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো দেশের জন্য উপকারী। কিন্তু নতুন এই নিয়ম ঠিক উলটো কাজ করবে।

অন্যদিকে ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা বিভাগের পরিচালক ডেভিড জে বিয়ার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন বা পড়ালেখার লক্ষ্য পরিবর্তনের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তার মতে, বহু শিক্ষার্থী বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা করার পর এখন মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে চাকরিদাতা খুঁজে বের করতে বাধ্য হবেন, নইলে তারা অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

ডিএইচএস অবশ্য এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ভিসাধারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। একই অর্থবছরে পাঁচ লাখের বেশি সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং ৩৭ হাজার ৩০০ বিদেশি সাংবাদিককে ভিসা দেওয়া হয়েছে।

ডিএইচএসের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক অ-অভিবাসীকে কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা অনুমোদিত উদ্দেশ্যের তুলনায় কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন। সেই কারণেই নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিসা চালুর মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের পালটা হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের গ্রেটার তুনব দ্বীপ, প্রধান বন্দর বান্দার আব্বাসসহ বিভিন্ন শহরের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে দুই দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অভিযানের অংশ হ

১৪ ঘণ্টা আগে

প্রতিরক্ষায় মনোযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার পরিকল্পনা নেই: ইরান

গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ‘প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করায়’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

১৪ ঘণ্টা আগে

পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ইমরান খানের দলের

১৫ ঘণ্টা আগে

পালটাপালটি হামলার মধ্যেই তেহরানকে 'ভদ্র আচরণ' করার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

বুধবার দিনের শেষে সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে জানতে চান এমন করার আগে ইরানকে কোনো ডেডলাইন দেওয়া হবে কি না। তিনি বলেন, "আমি ডেডলাইন দিতে পছন্দ করি না। কিন্তু তারা খুব ভালো করেই জানে, তারা পুরো বিষয়টাই জানে.... তাদের ভদ্র আচরণ করা উচিত।"

১৫ ঘণ্টা আগে