ভয়াবহ হামলায় গাজা শহর ছাড়ছে ফিলিস্তিনিরা, নিহত আরও ৯১

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে 'গণহত্যা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বোমা হামলা ও গোলাবর্ষণের কারণে হাজারো ফিলিস্তিনি গাজা সিটি ছেড়ে পালাচ্ছেন।

গত দুই বছরের মধ্যে গাজা সিটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মানুষ ধ্বংসস্তূপ ও কালো ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে দক্ষিণ দিকে ছুটছেন। কিন্তু সেখানেও নিরাপদ আশ্রয়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মঙ্গলবার একদিনেই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উপকূলীয় সড়ক ধরে পালানোর সময় একটি গাড়িতে হামলা চালানো হলে বহু মানুষ হতাহত হন।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক্সে লিখেছেন, “গাজা জ্বলছে”। ইতোমধ্যে আসবাবপত্র বোঝাই ভ্যান, গাধার গাড়ি আর হাতে সামান্য মালপত্র নিয়ে চারপাশে ধ্বংসস্তূপ আর কালো ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে মানুষজন উপকূলীয় আল-রাশিদ সড়ক ধরে দক্ষিণে ছুটছেন।

প্রথম দিকে অনেকেই ইসরায়েলের দখল পরিকল্পনার মুখেও থেকে যাওয়ার শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু বহুতল ভবন, বাড়িঘর আর অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ায় যাদের সামর্থ্য আছে তারা দক্ষিণে পালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেখানেও নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা নেই।

মঙ্গলবার একদিনেই ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় অন্তত ৯১ জন নিহত হন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, উপকূলীয় সড়ক ধরে পালানোর সময় একদল মানুষের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সেদিন অন্তত ১৭টি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়। এর মধ্যে পূর্ব গাজার তুফফাহ এলাকার আইবাকি মসজিদকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।

একই সঙ্গে উত্তরে, দক্ষিণে ও পূর্বে বিস্ফোরক বোঝাই রোবট দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় সেনারা। এ মাসের শুরুতে মানবাধিকার সংগঠন ইউরোমেড মনিটর জানিয়েছিল, অন্তত ১৫টি এমন রোবট মোতায়েন করা হয়েছে, প্রতিটি দিয়ে প্রায় ২০টি বাড়ি ধ্বংস করা সম্ভব।

আল জাজিরা বলছে, প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি যুদ্ধের প্রথম ধাপ শেষে ধ্বংসস্তূপে ভরা গাজা সিটিতে ফিরে এসেছিলেন। তবে এখন কতজন রয়ে গেছেন তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ শহর ছেড়েছেন। অপরদিকে গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানায়, সমান সংখ্যক মানুষ শহরের কেন্দ্র ও পশ্চিম অংশে আশ্রয় নিয়েছেন, আর ১ লাখ ৯০ হাজার সম্পূর্ণভাবে গাজা সিটি ছেড়েছেন।

যারা পালাচ্ছেন তাদেরও দক্ষিণে কোনো নিশ্চয়তা নেই। রাফাহ ও খান ইউনিস থেকে বিতাড়িত মানুষে ভরা দক্ষিণের অতিরিক্ত জনাকীর্ণ আল-মাওয়াসি ক্যাম্পেও বোমা মেরেছে ইসরায়েল। গণমাধ্যম অফিস জানায়, সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে আবার উল্টো পথে গাজা সিটিতে ফিরেছেন অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।

এই সময় ইসরায়েলি সেনারা আকাশপথে শহরের ভেতরে অগ্রসরমান বিপুলসংখ্যক ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যানবাহনের ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে তাদের “কয়েক মাস” সময় লাগবে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফ্রিন বলেন, “যত সময়ই লাগুক, আমরা গাজায় অভিযান চালিয়ে যাব”। এছাড়া মঙ্গলবার ভোর থেকে সারা গাজায় অন্তত ১০৬ জন নিহত হয়েছেন বলে মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বামপন্থি প্রার্থীকে হারিয়ে পেরুর মসনদে ফুজিমোরি

দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে ভোট গণনা ও প্রতিটি ব্যালট পুনঃপরীক্ষার পর অবশেষে পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে বামপন্থি প্রার্থী রবার্তো স্যানচেজকে সামান্য ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন দক্ষিণপন্থি নেত্রী কেইকো ফুজিমোরি।

১৯ ঘণ্টা আগে

লেবানন ছাড়ার শর্ত জানালেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী লেবানন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করবে এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। এর ফলে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ উন্মুক্ত হবে।

২১ ঘণ্টা আগে

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ১৭০০ ছাড়াল

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। বার্তাসংস্থা এএফপির জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

১ দিন আগে

ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে কি থেমে যাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার?

ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সদ্য সই হওয়া ১৪ দফার কাঠামোগত চুক্তি (ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট) দেশটিতে চলমান সংঘাত প্রশমনের আশা তৈরি করলেও, এর একটি ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা।

১ দিন আগে