গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই অভিযানে কেবল খামেনি পরিবারই নয়, বরং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ প্রায় ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, খামেনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল তা ছিল 'শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই'; বরং তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজ দপ্তরেই অবস্থান করছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির দ্বিতীয় সুপ্রিম লিডার ও সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফের এই আকস্মিক মৃত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সময় রোববার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।’
আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের আদেশ জারি করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের অন্তত ২৪টি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানে কর্মরত রেড ক্রিসেন্ট। আন্তর্জাতিক এই মানবিক সহায়তা সংস্থার তথ্য বলছে, এসব হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০১। এ ছাড়া আরও অন্তত ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, ‘আমি তাদের ব্যাখ্যা করে জানিয়েছি—আমরা তাদের ওপর হামলার কোনো ইচ্ছা পোষণ করি না। শুধু আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছি।’
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তথ্যটি নিশ্চিত হলে তা ইরানের সামরিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের বিভিন্ন জায়গায় যৌথভাবে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, একাধিক মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হয়।
ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব কাউন্টিতে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে । শনিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রিয়াদের দাবি, তেহরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ‘আগ্রাসন’ চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেছে।
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল এ অভিযানকে নাম দিয়েছে ‘রোরিং লায়ন’ (গর্জনরত সিংহ)। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযানের নাম দিয়েছে ‘দ্য এপিক ফুরি’ (মহাতাণ্ডব)।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। দেশগুলোতে বিকট বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে রয়টার্স ও আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাব দিতে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরান। সেই ক্ষেপণাস্ত্রের ঝড় ঠেকাতে কাজ করছে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণকে দেশটির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, এটি (সরকার) দখল করে নেওয়া এখন আপনাদেরই দায়িত্ব।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের দিকে অগ্রসর হতে শনাক্ত করা হয়েছে, যার ফলে দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বেজে উঠেছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ রয়েছে উল্লেখ করে এতে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।