আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবি বিবেচনা করছে সরকার, ধৈর্য ধরার আহ্বান

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সরকারি লোগো

জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে পতনের শিকার আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এক বিবৃতিতে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এ জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সরকারের এমন অবস্থান জানিয়ে এ বিবৃতি পাঠানো হয়েছে গণমাধ্যমে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাতভর অবস্থানের পর শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর সমাবেশ শুরুর সময়ে এমন বিবৃতি দিলো সরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।

সরকার বলছে, এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। 'জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে' প্রচলিত আইনের অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে সরকার এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যা ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হচ্ছে। একই ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে এসব অপরাধে জড়িত অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের বিচারও দাবি করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দলের বিচার করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়নি।

এ বিষয়টিও সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবই জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব শুরু থেকেই করে আসছে। ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপি গঠিত হওয়ার পর থেকেই এ দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার মনোনীত সাবেক দুই মেয়াদের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বুধবার গভীর রাতে দেশত্যাগ করে থাইল্যান্ড চলে গেলে বিভিন্ন মহল থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরপরই এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে। পরে এনসিপির শীর্ষ দুই নেতা নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনসহ অন্য নেতাকর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। রাতভর অবস্থানের পর শুক্রবার জুমার নামাজের পর সেখানে সমাবেশ শুরু হয়েছে।

আবদুল হামিদের দেশত্যাগের বিষয়ে সরকার বিবৃতিতে বলছে, ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোভ বিষয়ে সরকার অবগত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সভার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর রয়েছে।

আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী ও রাতে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহসিনা আরিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের সদর থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আজহারুল ইসলাম ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) টিএসআই মো. সোলায়মানকে।

এ ছাড়া এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) মো. মতিউর রহমান শেখকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সরকার মেয়াদ শেষ করতে পারবে না: নাহিদ

সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপি সরকারকে আর সহযোগিতা করা হবে না।

৩ দিন আগে

১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াল খেলাফত মজলিস

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

৩ দিন আগে

ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মেঘমল্লার বসুসহ ২ নেতার পদত্যাগ, ১ জনকে অব্যাহতি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদের দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈধতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্

৩ দিন আগে

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগই যথেষ্ট নয়, গ্রেপ্তার দাবি মামুনুল হকের

বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।

৪ দিন আগে