বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা বিনিময়\n
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সমাজের মঙ্গলের অগ্রাধিকারকে যেন আমরা নিজেদের মধ্যে আত্মস্থ করতে পারি। এর জন্যই এবারের ঈদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেন এই ঈদ সামনে রেখে পরস্পরের কাছে আসি, পরস্পরের দূরত্ব থেকে আমরা সরে আসতে পারি, সমাজকে সব দিক থেকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি। কারণ ঐক্যবদ্ধ হওয়া এই সময়ের জন্য বিশেষভাবে জরুরি। সেটা যেন আমরা অর্জন করতে পারি। আজকের এই মিলনমেলায় সেই বাণী আত্মস্থ করে সামনের পথে অগ্রসর হব, পরস্পরের প্রতি সহনশীল হব— এটাই হোক আমাদের মূল কথা।
সবার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। কারণ সবার মধ্যে বন্ধুত্ব থাকলেই সমাজে শান্তি আসে। এখন আমাদের জন্য শান্তি অত্যন্ত জরুরি।
ঈদ উৎসবে কেবল বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেরই শান্তি কামনা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আসুন, আজকের দিনকে আমরা প্রতিদিন স্মরণ করি। আমরা দেশে শান্তি চাই, যেন মানুষ নিজের মতো করে চলতে পারে। কারও ভয়ে ভীত হয়ে যেন কাউকে চলতে না হয়। আমরা সবাই সবার মঙ্গল কামনা করি। আমরা জাতির জন্য শান্তি চাই, আমরা সারা পৃথিবীর জন্য শান্তি চাই।
ঈদ উৎসবে সবাইকে কাছে পেয়ে আনন্দিত বোধ করছেন বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, আমার অবস্থা এমন, কারও সঙ্গে দেখা করা কঠিন বিষয়। কাজেই আজ এতজনের সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য পেয়ে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমরা আজকে ঈদের মহাউৎসব পালন করেছি। ঈদের বাণী হচ্ছে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা, অতীতকে পেছনে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এ রকম একটা দিন সবার জন্য মস্ত বড় আশীর্বাদ।
তিনি আরও বলেন, এটা এমন একটা দিন যে দিনে যেমন-তেমনভাবে দেখা করলে হয় না, কোলাকুলি করতে হয়। এটাই ধর্মের বিধান। আমরা কোলাকুলি করে সবাইকে আপন করে নেই। ধর্মের সেই বাণীর চর্চা আমরা যেন সমাজ ও জীবনের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে পারি, সেটিই প্রত্যাশা।
এ দিন সকালে জাতীয় ঈদগাহের প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ঈদের জামাতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেও তিনি জাতীয় ঐক্যকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান। ঈদের জামাত শেষেও জাতীয় ঈদগাহ থেকে বের হওয়ার সময় সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।