সাহসিকতায় মার্কিন পুরস্কার পেল জুলাই কন্যারা, প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারে ম্যাডেলেইন অলব্রাইট সম্মানসূচক দল হিসেবে ভূষিত করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মেয়েদের। জুলাই আন্দোলনে সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গৌরবময় এ অর্জনের জন্য জুলাই কন্যাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল এ পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
পুরস্কার ঘোষণার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাই-আগস্টে সহিংস নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা আন্দোলনে মেয়েরা অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখেছে। হুমকি ও সহিংসতার মধ্যেও মেয়েরা পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মাঝে দাঁড়িয়ে তারা অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে যখন ছেলেদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল, তখন মেয়েরা সব ধরনের সেন্সরশিপ এবং এমনকি ইন্টারনেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া সত্ত্বেও নতুন নতুন উপায়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেও মেয়েদের এমন সাহসিকতা ও নিঃস্বার্থ আচরণই ছিল সাহসের সংজ্ঞা।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প উপস্থিত থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুরস্কার বিতরণ করবেন।
এ পুরস্কারের খবরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ অর্জনের জন্য মেয়েদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ অর্জনে বাংলাদেশ গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
'অসীম সাহসিকতার প্রতীক আমাদের জুলাই কন্যাদের প্রতি'— এমন উল্লেখ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ২০২৫ সালের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মর্যাদাপূর্ণ ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’ পুরস্কার অর্জন করায় তোমাদের সবাইকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই স্বীকৃতি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে তোমাদের অসাধারণ সাহসিকতা, নেতৃত্ব ও অটল অঙ্গীকারের শক্তিশালী প্রমাণ; সেই সংকটময় সময়ে তোমরা সত্যিকার সাহসিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা কেবল প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওনি, একইসঙ্গে অস্থির একটি সময়ে জাতীকেও আশা দিয়েছ। পুরস্কারে যেমনটি বলা হয়েছে, অটল সংকল্পের সঙ্গে তোমরা সহিংস দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েছ, নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণের মুখে তোমাদের পুরুষ সহসংগ্রামীদের সামনে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছ। ইন্টারনেট যখন বন্ধ ছিল তখনো মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অভিনব উপায় খুঁজে বের করেছ।
তোমাদের শক্তি, দৃঢ়তা এবং দৃঢ় সংকল্প বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী অগণিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, তোমাদের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা আমাদের সকলের কাছে স্মরণ করিয়ে দেয় যে ন্যায়বিচারের সাধনা কখনই সহজ নয়, তবে তা সর্বদা সার্থক। তোমরা বিশ্বকে দেখিয়েছ যে প্রকৃত নেতৃত্ব ও ত্যাগ কেমন হয়, এবং তোমাদের সাহসের মাধ্যমে তোমরা বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জ্বল এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করেছ।
জুলাই কন্যাদের প্রত্যেকের জন্য সবাই ভীষণভাবে গর্বিত উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এটি তোমাদের প্রাপ্য এক স্বীকৃতি যা তোমাদের অটল স্পৃহাকে প্রতিফলিত করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তোমাদের সঙ্গে আছে। একসঙ্গে আমরা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার আদর্শের দিকে কাজ চালিয়ে যাব, যা তোমরা সাহসের সঙ্গে রক্ষা করেছ।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পথে জুলাই কন্যাদের সম্মুখসারিতে এবং কেন্দ্রীয় ভূমিকায় পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই অসাধারণ অর্জনের জন্য অভিনন্দন। তোমরা সমগ্র বাংলাদেশকে গর্বিত করেছ।