‘নদী রক্ষায় যুদ্ধ শুরু হয়েছে, এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব’

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

নদী রক্ষায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান জেনারেশন অনেক ট্যালেন্ট, অনেক মেধাবী। কারণ তাদের বেশি পরিধি তৈরি হয়ে গেছে, যদি সেটাকে কাজে লাগাতে না পারি তাহলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতার জন্য, অধিকার আদায়ের জন্য যে রক্ত ক্ষয় হয়েছে তা বৃথা যাবে। আমরা চাই না এ ধরনের অপরাধী, দখলদারদের কাছে বাংলাদেশের এত বড় একটি অহংকার, এত বড় গর্বের জায়গা পরাজিত হোক। এটা আমরা মানতে পারি না, আমরা মানবোও না। আমাদের সংগ্রাম থাকবে ও সংগ্রাম নিরন্তর চলবে।”

রোববার (২৬ মে) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে ‘জাতীয় নদী কনফারেন্স-২০২৪’এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের সম্মেলন প্রমাণ করে, নদীকে নিয়ে আমরা কত ভাবি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের নদীগুলোর নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সে সময় বঙ্গবন্ধু বিআইডব্লিউটিএর জন্য সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানুষের দেহে শিরা উপশিরা দিয়ে যেরকম রক্ত প্রবাহিত হয়, বাংলাদেশের নদীগুলো আমাদের সেরকম শিরা-উপশিরা। সেগুলো বন্ধ হয়ে গেলে দেশ থেমে যাবে। নদীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনেক ভালোবাসা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে রক্ষা করার কথা প্রধানমন্ত্রী প্রথম বলেছেন। এর আগে কোনও সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান এমন কথা বলেছেন- তার প্রমাণ নেই।

শুধু নদী দখল নয়। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সকল ক্ষেত্র দখল হয়ে যায় উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দখলদারিত্বের মহা উৎসব চলে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ব্যক্তি বা পারিবারিক হত্যা নয়, এটি বাংলাদেশকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু নৈতিকতার ওপর দেশ পরিচালনা করেছেন। যে দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিতে পারে, সে দেশের মানুষ সোনার বাংলা তৈরি করতে পারবে না সেটা আমার বিশ্বাস হয়না। নদী-নালা, খাল-বিল আমাদের সম্পদ। নদী-নালা না থাকলে আমরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করতে পারতাম না। সে সময়ে নদী-নালা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যেভাবে সুন্দরবন আমাদেরকে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন সমীক্ষা করেছে, দখলদারদের তালিকা করেছে। এসব জায়গায় ভুল থাকতে পারে, তবে যাত্রা শুরু হয়েছে। নদী রক্ষায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব।আপনারা যারা নদী রক্ষায় কাজ করেন তারা সচেতনতা তৈরি করুন। দায়িত্ব চিহ্নিত করুন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সহায়তা করবে, সরকার সহায়তা করবে।

নদীকে ঘিরে সভ্যতা গড়ে উঠেছে এটা সত্য উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীর পাড়ে ইন্ডাস্ট্রি হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, শহর হবে সবই ঠিক আছে। সেগুলো হবে নদীকে রক্ষা করে ধ্বংস করে নয়। ২০১৯ সালে ঢাকা শহরের চারপাশে নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় অনেক শক্তিশালী লোক ছিল। আমি সংসদে বলেছি সরকার বা রাষ্ট্রের চেয়ে কেউ শক্তিশালী নেই। নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সরকার ও রাষ্ট্রের আন্তরিকতা আছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন কোনও হাইড্রোগ্রাফি জরিপ ছাড়া বালু মহাল ইজারা দেওয়া যাবে না। একই জায়গায় বার বার বালু উত্তোলন করা যাবে না। আমরা প্রতিবছর নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করে থাকি। কেউ কেউ বলেছেন-নদী দখল করার সময় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি সবাই একসঙ্গে থাকে। এটা রাজনৈতিক শক্তি নয়। এরা অপরাধী। সরকার এদের অপরাধীদের হিসেবে দেখবে।

সরকার দশ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ নিরলসভাবে কাজ করছে। বিআইডব্লিউটিএর ৪৫টি ড্রেজার রয়েছে। সেগুলো কাজ করছে। নীতিমালা অনুযায়ী ৪০% সরকারি, বাকি ৬০ পার্সেন্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খনন করা যাবে। সরকারের ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে আমাদের ১৫০টি সরকারি ড্রেজার প্রয়োজন। রাবনাবাদ চ্যানেলে ড্রেজিং হয়েছে। সিলটেশন হয়েছে। ১০ নম্বর বিপদ সংকেত আছে, এতে আরও সিলটেশন হবে। আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সেগুলো মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। আজকের সম্মেলন আরও বেশি পথ দেখাবে।

ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সারোয়ার মাহমুদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মো. শরীফ উদ্দিন, নিজেরা করি এর সমন্বয়কারী খুশী কবির, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স এসোসিয়েশন (বেলা) এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এএলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, রিভারাইন পিপল এর মহাসচিব শেখ রোকন, রিভারাইন পিপল এর পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ, রিভার এন্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার এর চেয়ারম্যান মো. এজাজ, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, নদী সংগঠক জুলিয়েট কেয়া মালাকার, রণজিত দত্ত, আলিউর রহমান, নুর আলম শেখ, পল্টন হাজং, এস এম মিজানুর রহমান, খাইরুল ইসলাম ও তোফাজ্জল হোসেন সোহেল।

নদী বাঁচাই, দেশ বাঁচাই এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নদী সম্মেলন ২০২৪ আজ শেষ হয়েছে। এএলআরডি, বেলা, ওয়াটার রাইটস ফোরাম, রিভারাইন পিপল, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান: প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক

১ দিন আগে

জামায়াত থেকে বহিষ্কার, গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ থাকবে?

২ দিন আগে

জামায়াত-এনসিপির চাপেই কি পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি?

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তিনি সত্যিই স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করছেন, নাকি এর পেছনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধারাবাহিক সমালোচনা, অভিশংসনের দাবি এবং রাজনৈতিক চাপ ভূমিকা রেখেছে।

২ দিন আগে

নৈতিক স্খলনের দায়ে এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হ

২ দিন আগে