রোহিঙ্গাদের জন্য ৮৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার আহ্বান

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৪, ১৮: ৩৭
ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গতকাল বুধবার (১৩ মার্চ) জেনেভায় অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০২৪ জয়েন্ট রেসপন্স প্লান (জেআরপি)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, নায্যতার ভিত্তিতে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায় ও দায়িত্ব গ্রহণ নীতি বাস্তবায়ন না করলে, শুধুমাত্র বাংলাদেশ, ইউএনএইচসিআর, আইওএম এবং ডব্লিউএফপি এর পক্ষে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য কার্যক্রম চালানো এবং সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব হবে না। ক্রমবর্ধমান তহবিল সংকট কাটিয়ে ঊঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের প্রতিশ্রুত বিদ্যমান অনুদান আরো বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর এর গুরুতর প্রভাব থাকা সত্ত্বেও দেশটি গত ছয় বছর ধরে ১.১ মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গাদেরকে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। বাংলদেশ এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সর্ববৃহৎ দাতা দেশ এবং ২০২২ সালেই ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। মোমেন সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে মৌলবাদ ও সহিংস চরমপন্থার ঝুঁকি থেকে উ দ্ভূত হুমকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের চাপ কমাতে বিকল্প পথ অনুসন্ধানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরোধ জানান। তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রতি বছর ৩০ হাজার নবজাতক যুক্ত হচ্ছে। জনাব মাসুদ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একীভূত করার সম্ভাবনা নাকচ করে, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে ইউএনএইচসিআর এবং আইওএমসহ সমস্ত মানবিক প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেন।

এই বছর জেআরপিতে ১৯৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১.৩৫ মিলিয়ন রোহিংগা ও আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ৮৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল চাওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে জেআরপি ২০২৪-এর প্রথম কৌশলগত উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি উল্লেখ করেছেন যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূ র্ণ প্রত্যাবর্তনই হবে এই সংকটের টেকসই সমাধান। তিনি তাঁর বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এছাড়াও, তিনি রোহিঙ্গা ও নিজ দেশের ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের কল্যাণ নিশ্চিতে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ক্রেডিট তহবিল হতে অনুদান ও ঋণ গ্রহণে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। হাই কমিশনার আরো বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ Joint Response Plan এর সম্পূরক তহবিল স্ফীত করবে এবংতবে তা মানবিক সহায়তা প্রদানে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির প্রতিকল্প হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না।

আইওএম (IOM) মহাপরিচালক মিজ এমি পোপ, তাঁর বক্তব্যে মানবিক সহায়তা তহবিলের ক্রমবর্ধমান তহবিল ঘাটতির বিষয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা জানান। তিনি আরও বলেন যে, রোহিঙ্গা জনগণের মধ্যে অনেক ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে তাদের চূড়ান্ত প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে এই জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে মূখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়াও কক্সবাজারের বাস্তুসংস্থান ও জীব-বৈচিত্র্যের উপরে বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে উপস্থিত প্রতিনিধিগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল কক্সবাজারেই ছয় হাজার হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমির অস্তিত্ব এখন বিলুপ্তির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করতে বলেন।। রোহিংগাদের সহায়তা কার্যক্রমে ঋণ নয় বরং বাংলাদেশ সরকারের বিশ্বব্যাংক-এর আইডা প্রকল্পের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ঋণ সহায়তা নেয়ার বিষয়টি আলোকাত করেন।

ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম এর যৌথ আয়োজনে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০২৪ জয়েন্ট রেসপন্স প্লান-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া, ইইউ, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, জপান, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, তরস্ক এবং যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সহ জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, এনজিও প্রতিনিধি, জাতিসংঘের উর্ধতন কর্মকর্তা, মিডিয়া ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদারতার প্রশংসা করে অনেকেই এই জেআরপি তহবিলে অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগই যথেষ্ট নয়, গ্রেপ্তার দাবি মামুনুল হকের

বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।

২ দিন আগে

বিএনপি পরিকল্পনামাফিক রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম বলেন, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে সাহাবুদ্দিনকে সেফ এক্সিট দেওয়া যাবে না। তিনি যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য সরকারকে সজাগ থাকতে হবে এবং অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

২ দিন আগে

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি এনসিপির

২ দিন আগে

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে: জামায়াত আমির

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে থাকবেন না। তিনি একসময় স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই বক্তব্য অস্বীকার করে মিথ্যাচার করেছেন, যা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেয়া শপথের লঙ্ঘন। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে ফ্যাসি

২ দিন আগে