একটি ‘গুপ্ত দল’ আমাদের নসিহত করছে, তাদের সদস্যরা নারী নির্যাতনে জড়িত: প্রধানমন্ত্রী

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর পরশুরামে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
ফেনীর পরশুরামে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘একটি গুপ্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদের নসিহত করছে। তাদের বলব, আগে নিজের ঘরের নিকে নজর দিন। তাদের কিছু সদস্য নারীদের ওপর নির্যাতন করছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই আমি কোনো মন্তব্য করব না। তবে মানুষ বলে, তাদের এক নেতা শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হননি। একটা মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছেন।’

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা দুইটার দিকে ফেনীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বেলা আড়াইটায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ‘নসিহত’সংক্রান্ত বক্তব্যে ইঙ্গিত করেছেন ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়ে সমালোচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দিকে। ওই ঘটনায় নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। কয়েকদিন আগেই (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় এখন কারাগারে রয়েছেন গাজী নজরুল।

ফেনীর সমাবেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে তার বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া খবর সামনে আসে। এ ঘটনায় সরকার ‘বাধ্য হয়ে’ সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘রাতের অন্ধকারে রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় অবশেষে সরকার ও সরকারি দল বাধ্য হয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।’ তিনি আরও লেখেন, শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলেই হবে না, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বেলা দুইটায় প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় সমাবেশস্থলে পৌঁছান। এর অনেক আগেই কানায় কানায় ভরে ওঠে সমাবেশস্থল। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
বেলা দুইটায় প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় সমাবেশস্থলে পৌঁছান। এর অনেক আগেই কানায় কানায় ভরে ওঠে সমাবেশস্থল। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

এদিকে ফেনীর সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু আসনে জয় পেয়েছে। এরপর ধরাকে সরা জ্ঞান করছে এবং দেশে অরাজকতা তৈরির চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং কীভাবে তারা মা-বোনকে নির্যাতন করেছে, তা সবাই জানে। তার অভিযোগ, তারা এখন আবার অরাজকতা ও নারী নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে।

ফেনীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং অরাজকতাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।

সমাবেশে মুহুরী ও কহুয়া নদী পুনঃখনন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুহুরী ও কহুয়া নদী পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। দুই-আড়াই বছর আগে এখানে বড় বন্যা হয়েছিল। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল সেই বন্যায়। এমন বন্যা প্রতিরোধেই আমাদের এই উদ্যোগ।এটি আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি।’

খাল ও নদী খননের কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খাল ও নদী খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। বিএনপি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে বলেই এই কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এই এলাকার প্রায় চার-সাড়ে চার লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষক ভাইয়েরা তাদের সেচ–সুবিধা তৈরি করতে পারবেন। তার ফলে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন বেশি হবে ফসলের। ফসলের উৎপাদন যদি বেশি হয়, কৃষকের লাভ হবে। ফসলের উৎপাদন যদি বেশি হয়, আমরা দেশে দাম কম রাখতে পারব, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে রাখতে পারব।’

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে সরকারের ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে এবং সারা দেশে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে গ্রামগঞ্জে, শহরে প্রতিটি পরিবারের যে মা আছে, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আজকে ফেনীতে চালু হবে সেই কর্মসূচি, আমি মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে যাব। এই ফ্যামিলি কার্ডের উদ্দেশ্য হচ্ছে খেটে খাওয়া পরিবারের মায়েদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। একইভাবে কৃষকদেরও কৃষি কার্ড দেওয়া হবে।’

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তর করবে। এতে স্থানীয় মানুষ চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস, শিশু ও মাতৃসেবা সহজে পাবে বলে জানান তিনি।

সমাবেশে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম মজনু, পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হালিমসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement