প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, পদত্যাগ করলেন এমপি মিষ্টি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৪৪
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি লিখেছেন, তিনি ‘সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারকে তার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এর আগে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বুধবার রাতে মিষ্টিকে দ্রুত পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্দেশনা অনুযায়ী, লিখিতভাবে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র। ছবি: সংগৃহীত
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে এ দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মিষ্টি। দুপুর দেড়টার পর স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে কয়েক মিনিট পর বেরিয়ে আসেন তিনি। সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিষ্টি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তার সঙ্গে দেখা করেছি।’

তখন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। মিষ্টি বলেন, ‘তদন্ত হোক। বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’ পরে অবশ্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এরপর কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুরের পাশাপাশি ভারী যন্ত্র দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআইয়ের টিকা, টিকা দেওয়ার রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, তিনটি স্টিলের আলমারি, সিসিটিভি ক্যামেরা, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যায়। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ লেখা একটি ব্যানার টানানো হয়।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার অভিযোগ করেন, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ওই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তার দাবি, এতে ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় হানিফ মিয়া (৫০) নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য।

ওই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা এলাকায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে তিনি ফেরদৌসী আহমেদের নাম উল্লেখ করেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় নির্মোহ তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে যারা অপরাধে জড়িত ছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ছোট বোন। তার স্বামী প্রয়াত সাইদুর রহমান নিউটনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকার একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের গরিব ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। হামলা ও ভাঙচুরের পরও সেখানে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালুর চেষ্টা চলছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement