হাসনাতের স্ট্যাটাসে ‘রিফাইন্ড আ.লীগ ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’, সমঝোতার জন্য ‘চাপ’\n
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাত পেরিয়ে হাসনাত ফেসবুকে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের আরও বলা হয়, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে— এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।’
শুক্রবার এ বিষয়ে জানতে ডয়েচে ভেলে (ডিডাব্লিউ) বাংলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে। অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোনে তিনি ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যেভাবে পুনর্গঠনের কথা বলছেন, তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এখনো বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতে।’
আরাফাত আরও বলেন, ‘নেতৃত্ব পুনর্গঠনের কোনো সুযোগ আছে, সেটা আমি মনে করি না। সেটা হবে না। আর দলকে পুনর্গঠন করা, সংগঠিত করা— সেটা তো অন্য জিনিস। সেটা তো প্রতিনিয়ত হচ্ছে।’
বিভিন্ন দল, সংগঠন ও মহলের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে আরাফাত বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন কোনো শক্তি নেই যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারে। যে দেশ জন্ম দেয়, তাকে নিষিদ্ধ করা যায় না।’
অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনে যাবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন আরাফাত। বলেন, ‘ইউনূস সরকারের অধীনে তো আমরা নির্বাচনে অংশ নেব না। আর আওয়ামী লীগ ছাড়া ইনক্লুসিভ নির্বাচনও হবে না।’
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা কিংবা রাজনীতিতে পুনর্বাসন করার নিয়ে এ আলোচনার সূত্রপাত প্রধান উপদেষ্টার এক মন্তব্যের জের ধরে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে দলটির যেসব নেতার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাংলাদেশের আদালতে বিচার করা হবে।
অধ্যাপক ইউনূসের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি মাসখানেক আগেও এই সরকারেরই একজন উপদেষ্টা ছিলেন। এনসিপির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করেন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কি না— এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে নাহিদ বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।
নাহিদ আরও বলেন, এনসিপি জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী রেজিমে সংঘটিত অন্যান্য গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নিশ্চয়তা চায়। বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে এবং এই মাফিয়া গোষ্ঠীর রাজনীতিতে ফেরানোর যেকোনো প্রচেষ্টাকে এনসিপি প্রতিহত করার অঙ্গীকার করছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যেকোনো প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেন। ওই পোস্টেরই এক কমেন্টে তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ৩৬ জুলাই ক্লোজড হয়ে গিয়েছে। নতুন করে ওপেন করার কোনোই অবকাশ নেই।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের পক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রধান নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। জুলাই গণহত্যায় যারা জড়িত, সেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারে না। আমরা তাদের নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছি।
তবে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে। বরং যে আলোচনা হওয়া দরকার সেটা হলো জুলাই গণহত্যার বিচার ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে যা বলেছেন, তা আইনি ও নৈতিক জায়গা থেকে বলেছেন। আর যেসব রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি করেছে, সেটা তারা দলীয়ভাবে দাবি করতেই পারে।
এমন বিতর্কের মধ্যে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ কঠিন সময় পার করছে। রাজনীতিবিদ ও সরকারে থাকা সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অলীক ধারণা বা আবেগ দিয়ে চিন্তা করলে সংস্কার করা যাবে না।
পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার লেডিস ক্লাবে বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবীদের সম্মানে বিএনপির ইফতার আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত না, যেন পলাতক স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা পুনর্বাসনের সুযোগ পায়।