হাসনাতের স্ট্যাটাসে ‘রিফাইন্ড আ.লীগ ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’, সমঝোতার জন্য ‘চাপ’\n
পরদিন শুক্রবার (২১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-সমাবেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি করা হয়। এসব বিক্ষোভ থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যকে সমর্থন জানানো হয়। একইসঙ্গে সমালোচনার মুখে পড়েন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের।
হাসনাতের বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বক্তব্যে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান। বিএনপিসহ বিভিন্ন দল গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার চায়। কিন্তু দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বিএনপি ও তার মিত্রদের অনেকে। জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক দলের নেতারা আবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য নিয়ে রাজনীতিকদেরই কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। সেনাবাহিনীকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হলো কি না— এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
খোদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্য একাধিক নেতা যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তাতে হাসনাত আব্দুল্লাহ বক্তব্যের সঙ্গে অন্যদের মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। যদিও হাসনাত আব্দুল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তিনি তার অবস্থানে ঠিক আছেন। কিন্তু দলটির অন্যতমএকজন নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শনিবার (২২ মার্চ) সিলেটে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় হাসনাতের ওই বক্তব্যকে শিষ্টাচার বহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেন।
হঠাৎ কেন এই ইস্যুতে নতুন দলের মধ্যেই পালটাপালটি অবস্থান তৈরি হলো, এ প্রশ্নও উঠেছে। দলটি চাপের মুখে পড়েছে কি না, এমন আলোচনাও রয়েছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রোববার (২৩ মার্চ) দুপুরে ফেসবুকে পোস্ট দেন নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম। তিনি লিখেছেন, ১১ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সেই আলোচনায় তিনিও ছিলেন।
সারজিসের দাবি, ওই দিনের বৈঠকে সেনাপ্রধান আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে কোনো প্রস্তাব দেননি, কেবল নিজের অভিমত তুলে ধরেন।
সারজিসের এমন বক্তব্য আবার একেবারেই অস্বীকার করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি রোববার বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারা বলছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে এলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। সে কারণে তারা আওয়ামী লীগকে আনতে চাচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের ভেতর সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আবার সামনে এনেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে ক্যান্টনমেন্টে আলোচনার কথা বললেও সেটি কার সঙ্গে হয়েছিল কিংবা সেখানে কে কে উপস্থিত ছিল, তার উল্লেখ ছিল না। সারজিসের স্ট্যাটাসে আবার এর কিছু তথ্য উঠে এসেছে।
সারজিস লিখেছেন, সেনানিবাসে বৈঠকটি হয়েছিল সেনাপ্রধানের সঙ্গে। ওই বৈঠকে হাসনাতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানেই সেনাপ্রধান ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে’র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
সারজিস লিখেছেন, মানুষ হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তির অভিমতকে একেকজন একেকভাবে অবজার্ভ করে। হাসনাত সেদিন তার জায়গা থেকে যেভাবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে অবজার্ভ ও রিসিভ করেছে এবং ফেসবুকে লিখেছে আমার সে ক্ষেত্রে কিছুটা দ্বিমত আছে।
দ্বিমতের জায়গাগুলো তুলে ধরে নাগরিক পার্টির এই তা বলেন, আমার জায়গা থেকে আমি সেদিনের বক্তব্যকে সরাসরি ‘প্রস্তাব’ দেওয়ার আঙ্গিকে দেখি না, বরং ‘সরাসরি অভিমত প্রকাশে’র মতো করে দেখি। ‘অভিমত প্রকাশ’ এবং ‘প্রস্তাব দেওয়া’ দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যদিও পূর্বের তুলনায় সেদিন সেনাপ্রধান অনেকটা স্ট্রেইথ-ফরোয়ার্ড ভাষায় কথা বলছিলেন।
সারজিস লিখেছেন, পাশাপাশি রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের জন্য ‘চাপ দেওয়া’র যে বিষয়টি এসেছে (হাসনাতের স্ট্যাটাসে), সেখানে ‘চাপ দেওয়া হয়েছে’ বলে আমার মনে হয়নি। বরং রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ না এলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমস্যা তৈরি হবে, সেটা তিনি (সেনাপ্রধান) অতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছিলেন।
পোস্টে সারজিস আলম লিখেছেন, সেনাপ্রধানের সঙ্গে ওই আলোচনায় রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ, সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী, সোহেল তাজ, এসব নিয়ে কথা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে কি না, এই ইলেকশনে আওয়ামী লীগ থাকলে কী হবে, না থাকলে কী হবে, আওয়ামী লীগ এই ইলেকশন না করলে কবে ফিরে আসতে পারে কিংবা আদৌ আসবে কি না, এসব বিষয় নিয়েও কথা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে হাসনাত আব্দুল্লাহর ওই ফেসবুক পোস্টের পরদিন শুক্রবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। সেই মিছিল থেকে কোনো কোনো পক্ষকে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানবিরোধী স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
শনিবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়াতে আসা উচিত হয়নি।
রোববার সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টেও এই বিষয়ে খোলামেলাভাবে অনেক কথা লিখেছেন। সারজিস আলম লেখেন, ‘হাসনাত না ওয়াকার’— এই ন্যারেটিভ ও স্লোগানকে আমি প্রত্যাশা করি না। হাসনাতের জায়গা ভিন্ন এবং সেনাপ্রধানের জায়গাও ভিন্ন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করানো কখনো প্রাসঙ্গিক নয়।
সেনাপ্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে যেসব কথা উঠেছে সেগুলো এনসিপির বক্তব্য নয় বলেও জানান সারজিস। বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ না কেউ যোগাযোগ রক্ষা করে। সেই প্রাইভেসি তারা বজায় রাখেন। এগুলো নিয়ে আমাদের দলের ফোরামে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারতাম, সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম, সে অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারতাম। কিংবা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আওয়ামী লীগের যেকোনো ভার্সনের বিরুদ্ধে এখনকার মতোই রাজপথে নামতে পারতাম।
সেগুলো না করার কারণেই এ বিষয়টিকে সমীচীন হয়নি বলে পোস্টে উল্লেখ করেন সারজিস। বলেন, এর ফলে পরবর্তীতে যেকোনো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আস্থার সংকটে পড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে রোববার হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এটা আর্মি বা জনগণের বিরোধিতা নয়, এটা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা যেই করবে, তার বিপক্ষে জনগণ থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটি গঠনের আগেই নিজেদের মধ্যে অর্ন্তকোন্দল দেখা গেলেও এই প্রথম বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সেনাবাহিনী ইস্যুতে।
ওই বক্তব্যের পরই এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। রোববার সারজিস আলমও দ্বিমত জানিয়ে পোস্ট দেন। সারজিস লিখেছেন, আত্মসমালোচনা করার এই মানসিকতাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিয়ে যাবে। জুলাই গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটানো ‘আওয়ামী লীগের যেকোনো ভার্সনে’র রাজনীতিতে আসার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
এই পোস্টের নিচেই মন্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ দাবি করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের মধ্যে যেকোনো একজন মিথ্যা বলছেন। তিনি লিখেছেন, এসব কী ভাই!! পাবলিকলি বলছি— দুজনের একজন মিথ্যে বলছেন। এটা চলতে পারে না। আর দলের গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট হোল্ড করেও আপনারা যেভাবে ব্যক্তিগতভাবে বিচরণ করছেন, তা পাবলিক করে এনসিপিকেই বিতর্কিত করছেন। মানুষ এনসিপিকে নিয়ে যখন স্বপ্ন বুনছে, তখন এভাবে এনসিপিকে বিতর্কিত করার কাদের এজেন্ডা!!! সরি, আর চুপ থাকতে পারলাম না।
যদিও হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেছেন, তিনি তার অবস্থানে ঠিক আছেন। তিনি বলেন, যারা বলছে আমার বক্তব্য ঠিক হয়নি সেটা তারা তাদের জায়গা থেকে বলেছে। আমি আমার জায়গা থেকে মনে করেছি, তাই বলেছি।
নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব জানান, এ বিষয়টি দলটির নেতাদের কেউ কেউ আগেই জানতেন। তবে ওই পোস্টের পর কোনো ধরনের চাপ নেই বলেও জানান তিনি।
৫ অগাস্ট পট পরিবর্তনের পরপরই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি উঠলেও পরে তা নিয়ে ঐকমত্য তৈরি না হওয়ায় বিষয়টি অনেকদিন আলোচনার বাইরে ছিল। এরপর গত কয়েকদিন ফেসবুকে এ নিয়ে নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে পোস্ট দিতে দেখা যায়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বলছে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তিকে সামনে রেখে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ হিসেবে দলটিকে নির্বাচনে আনার এক ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রতি সেনাপ্রধানের অবস্থান ইতিবাচক বলেও মনে করছে দলটি। যে কারণেই বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে সেনাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্ববায়ক আরিফুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের বিচার না হলে দল হিসেবে কোনো কার্যক্রম করতে পারবে না। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত ও সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।
‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’কে ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষ ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এটা তো জনগণের রায়। এখন আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যদি আওয়ামী লীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, সেটা সবাই মেনে নেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দ্রুততম সময়ে যদি আওয়ামী লীগের বিচার না হয়, তাহলেই কিন্তু আওয়ামী লীগ আগের অবস্থায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
হাসনাতের স্ট্যাটাস বা ওই স্ট্যাটাসের কোনো বিষয় নিয়ে সেনাবাহিনী কিংবা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি কিংবা কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে যোগাযোগ করলে সেনা সদর থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে নেত্র নিউজকে। বিবৃতিতে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, সেনানিবাসে খোদ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গেই ১১ মার্চ বৈঠকটি হয়েছিল হাসনাত ও সারজিসের।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের দুজনকে ডেকে নেওয়া হয়নি, বরং তাদের আগ্রহের কারণেই বৈঠক করেছিলেন সেনাপ্রধান। হাসনাতের পোস্টকে ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বৈ অন্য কিছু নয়’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে সেনা সদরের বিবৃতিতে। ওই স্ট্যাটাসের বক্তব্যকে বলা হয়েছে ‘অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ক গল্পের সম্ভার’।
আওয়ামী লীগকে নিয়ে হাসনাত ও সারজিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে নেত্র নিউজকে দেওয়া বিবৃতিতে সেনা সদর বলেছে, সেখানে সেনাপ্রধান তার অভিমত তুলে ধরেন মাত্র। বলেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা ফৌজদারি মামলায় জড়িত নন ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী, তাদের সমন্বয়ে নতুন আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, ফলপ্রসূ ও আন্তর্জাতিক মহলে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার ও সব রাজনৈতিক দল মিলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি কোনোভাবেই তাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে তাদের প্রস্তাব বা চাপ প্রয়োগ করার ঘটনা নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠিত সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রধান সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের যুগ্ম সংগঠকদের ডেকে নিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন বা চাপ প্রয়োগ করছেন, এটি অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ক গল্পের সম্ভার বলে প্রতীয়মান হয়।