মক্কা জোটে শামিলের অভিপ্রায় অত্যন্ত বিপজ্জনক, ঝুঁকি বহুমুখী: সিপিবি

‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে’ বাংলাদেশকে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্টে (মক্কা প্যাক্ট)’ শীর্ষক সামরিক জোটে শামিল করার সরকারের অভিপ্রায় ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে মনে করছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটি বলছে, আমন্ত্রিত হওয়ার আগেই সরকারের মন্ত্রীদের এই সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার যে আগ্রহ প্রকাশ, তা দেশকে বহুমুখী বিপদের ঝুঁকিতে ফেলবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এসব কথা বলেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, জোটনিরপেক্ষ অবস্থান, অর্থনৈতিক শক্তি, জনগণের ঐক্য এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। এসব বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার পরিবর্তে কোনো যুদ্ধ জোটে যুক্ত হয়ে অন্যের ডেকে আনা যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশীদার হওয়া কখনোই কাম্য নয়।
সিপিবি নেতারা আরও বলেন, দূরবর্তী অঞ্চলের সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থ ঝুঁকিতে ফেলার কোনো পদক্ষেপ এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আর সামরিক জোট এক বিষয় নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান সংঘাতপূর্ণ পৃথিবীতে কোনো একটি সামরিক ব্লকের অংশ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের কৌশলগত স্বাধীনতাকে সীমিত করার যেকোনো হীন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। সিপিবির নেতৃদ্বয় মনে করেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষায় সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখা জরুরি।
বিবৃতিতে সিপিবি নেতারা বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা চরম ডানপন্থি ও ধর্মাশ্রয়ী অবস্থান থেকে ক্রমাগত ‘মক্কা প্যাক্ট’কে মুসলিম দেশগুলোর জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ ওআইসিভুক্ত ৫৬টি দেশের মধ্যে শুধুমাত্র সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান— এই তিন দেশের সামরিক লক্ষ্য অনেকাংশেই মধ্যপ্রাচ্যের ইরানসহ বহু মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থের পক্ষে পরিচালিত হয়ে থাকে।
‘মক্কা প্যাক্ট’কে ‘যুদ্ধ জোট’ অভিহিত করে সিপিবি নেতৃদ্বয় অবিলম্বে এতে শামিল হওয়ার অভিপ্রায় থেকে সরে আসতে এবং ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার বংশবদ ইসরায়েলের তল্পিবাহকে’র ভূমিকা থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, কোনো সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে আঞ্চলিক শান্তি, পারস্পারিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সক্ষমতার স্বনির্ভরতা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি শক্তিশালী করাই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য অধিকতর কার্যকর পথ।














-54d74f-256x144.webp)

