রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করলে সমস্যার সমাধান হয় না: মির্জা ফখরুল

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বিএফইউজের সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে

শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের গণমাধ্যমে নৈতিকতার চর্চাকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করলে সমস্যার সমাধান হয় না। আপনারা যদি কেউ বিরোধী দল বলেন বা সরকারি দল বলেন, সেটা কোনোদিন হয় না। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদ অর্থাৎ শেখ হাসিনা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমের এই জায়গাটিকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি আপনাদের (সাংবাদিক নেতারা) অনুরোধ করব, সেই জায়গা থেকে আপনারা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সারা দেশের ১৮ অঙ্গ ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন যে সময়টার জন্য গোটা জাতি অপেক্ষা করে আছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা ফিরে যেতে সক্ষম। আমরা সবাই এটা (নির্বাচন) চাই। একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা গণতন্ত্রে ফিরে যেতে চাইলে অন্যের যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, একই সঙ্গে সেটাকেও আমাদের মূল্য দিতে হবে।

‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে ভিন্নমত পোষণ করলেই তাকে শত্রু মনে করা হয়। তার সম্পর্কে বিভিন্ন রকম মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়। এ বিষয়গুলো থেকে আমার মনে হয় আমাদের সবারই একটু বিরত থাকা উচিত,’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আজ সবচেয়ে বড় যে ক্রাইসিসটা বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে, এই সোশ্যাল মিডিয়া। এই সোশ্যাল মিডিয়ার যেহেতু কোনো দায়বদ্ধতা নেই, যা খুশি তাই বলা যায়। এমনভাবে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ীদের সবার সম্পর্কে যে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয় তাতে করে কিন্তু গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না।’

সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোতে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের আজ দুর্দিনে পাশে এসে দাঁড়ানোর বড় শক্তি হচ্ছে আপনাদের ঐক্য। সাংবাদিকদের ঐক্যকে অটুট রাখা। আমরা দেখতে পারছি, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শাখায় আপনাদের ইউনিয়নগুলোতে একটা বিভক্তি আছে।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকুক। সাংবাদিকদের ঐক্য যদি আমরা ধরে রাখতে পারি তাহলে আমরা জাতি গঠনে গোটা জাতিকে ঐক্যের ক্ষেত্রে আমরাও ভূমিকা রাখতে পারব।’

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, হাসান হাফিজ, এলাহী নেওয়া খান সাজু, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, খুরশীদ আলম, মুন্সি আবদুল মান্নান, বারেক হোসাইনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএফইউজের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল ও প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিকেলে বিজয়নগরে ১১ দলের সমাবেশ

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজকের সমাবেশের পাশাপাশি আগামী ৪ জুলাই দেশব্যাপী সকল জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে ১১ দলীয় জোট।

১৯ ঘণ্টা আগে

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনকারীদের আমরা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—যুবদল রাজপথের সংগঠন। রাজপথে থেকেই আমরা অতীতে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছি, এবারও এসব অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।"

২০ ঘণ্টা আগে

নিষিদ্ধ আ.লীগের বিচারের দাবিতে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর মিছিল

বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।

২০ ঘণ্টা আগে

সংসদে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি তুললেন বিএনপির এমপি রফিকুল

সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী কোনো দলের বাংলাদেশের রাজনীতিতে থাকার অধিকার নেই।

১ দিন আগে