ইরান যুদ্ধ: জ্বালানির ধাক্কায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশে দেশে কৃচ্ছ্রতা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ভিয়েতনামের হ্যানয়ে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জের ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী অস্থির তেলের বাজার। বাড়ছে দাম। তেল নিয়ে সংকট কবে কাটবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত তেলের ওপর এশিয়ার দেশগুলোর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় এসব দেশে প্রভাব পড়ছে বেশি। জ্বালানি সাশ্রয়ে তাই এসব দেশকে নানা পদক্ষেপও নিতে হচ্ছে।

এরই মধ্যে কর্মদিবস সপ্তাহে চার দিনে নামিয়ে এনেছে ফিলিপাইন। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালু করে দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণও যথাসম্ভব কম করার নির্দেশনা দিয়েছে দেশ দুটি। মিয়ানমার নির্দেশ দিয়েছে, গাড়ি চলবে এক দিন পরপর। এর পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির উৎসের সন্ধান অব্যাহত আছেই।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ১৩ দিন ধরে চলা ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার অর্থ— জ্বালানি সংকট সহসাই নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ সংকটের মুখেই কৃচ্ছ্রতার পথে হাঁটতে হচ্ছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে। তার অংশ হিসেবেই অফিস-আদালত বন্ধ রাখার পাশাপাশি ভ্রমণ কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টা চলছে।

জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে দামও একটি বড় বিষয়। মূল্য স্থিতিশীল রাখতে তাই থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ডিজেলের অস্থায়ী মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আরও কয়েক দেশ এমন পথে হাঁটার চিন্তা করছে। অন্যদিকে এরই মধ্যে জ্বালানি ফান্ডে হাত দিয়েছে ভিয়েতনাম।

সিঙ্গাপুরের এশিয়া ডিকোডেডের পরিচালক ও প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রিয়াঙ্কা কিশোর আল জাজিরাকে বলেন, এ পদক্ষেপগুলো সংকট মোকাবিলার এক ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি। হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তবে বড় কোনো ধাক্কা আসার আগেই তারা যেন তাদের জ্বালানি পরিস্থিতির সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারে, তার প্রস্তুতি নিচ্ছে এসব দেশ।

তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফিলিপাইনের কিউজোন শহরে বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফিলিপাইনের কিউজোন শহরে বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স

উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে তেল পরিবাহিত হয়, তার বড় অংশের গন্তব্যই দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন প্রশাসনের তথ্য, ২০০৪ সালে এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত ৮৪ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও ৮৩ শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এসেছে এশিয়াতে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের অর্থনীতি গবেষণা সংস্থার অর্থনীতিবিদ আলোয়সিয়াস জোকো পূর্বান্ত বলেন, অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ঘাটতি বা সংকটে সবচেয়ে হুমকির মুখে রয়েছে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই। এই চার দেশ ৬০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরশীল।

এমনকি তেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এর অপরিশোধিত তেলের চাহিদার এক-তৃতীয়াংশই আমদানি করে থাকে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটির কাছে মাত্র ২০ দিনের জ্বালানি মজুত আছে।

এ ছাড়া থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনের কাছেও মজুত রয়েছে ৩০ থেকে ৬০ দিনের জ্বালানি। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের কাছে ছয় থেকে সাত মাসের জ্বালানি মজুত থাকলেও অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তারাও বিকল্প ব্যবস্থা করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

এই সংকটের মধ্যে তাই বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে সব দেশই। ভিয়েতনাম ঘোষণা দিয়েছে, তারা আরব দেশগুলোর বাইরে থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনবে। এ দিয়ে তাদের অন্তত ছয় দিনের জ্বালানির চাহিদা মিটবে। অন্য দেশগুলো এমন ঘোষণা না দিলেও বিকল্প উৎস অনুসন্ধান ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা থেমে নেই।

ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ ছাড়াবে ১ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী

সোমবার (২৭ জুলাই) আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

৩ দিন আগে

ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়ল সোনার দাম

নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনা ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩ দিন আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বিরতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে। লেনদেনের শুরুতে এটি সাময়িকভাবে ৯০ ডলারের নিচেও নেমে গিয়েছিল।

৩ দিন আগে

নেতিবাচক ধারার মধ্যেই ১৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সরকারের

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক শুল্ক আরোপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি যখন নেতিবাচক ধারায় রয়েছে, তখনও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রপ্তানি আয়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

৪ দিন আগে