মাল্টার অস্বাভাবিক দাম, ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর
-588a39-480x270.webp)
বাজারে মাল্টার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। সভায় ব্যবসায়ীরা মাল্টার দাম বাড়ার পেছনে সরবরাহ ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।
এর আগে ১ অক্টোবর প্রথম আলো ‘৮৭ টাকায় আনা মাল্টা বাজারে কেন ৫২০ টাকা কেজি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে প্রতি কেজি মাল্টা সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ সেন্ট বা ৮৭ টাকা দরে আমদানি হচ্ছে। অথচ চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সেই মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার প্রয়োজন। উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে আমদানি কমেছে বলেও জানান তারা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণেও বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে বলে তাদের ভাষ্য।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
এ ছাড়া আসন্ন রোজার চাহিদা বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে বলেন মুক্তাদির। খেজুরের শুল্ক নিয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
সভায় বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

















