সব রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার পথে প্রবাসী আয়

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে দেশে ২৪৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এই ২২ দিনের প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ কোটি ডলার (প্রায় এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রোববারের (২৩ মার্চ) এই তথ্য বলছে, মাসের শেষ পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে এ মাসে রেমিট্যান্স পেরিয়ে যেতে পারে ৩০০ কোটি ডলারের মাইলফলক। সেটি হলে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড হবে।
এর আগে দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে প্রবাসীরা প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুনে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে গত ফেব্রুয়ারি মাসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনের রেমিট্যন্সের পরিমাণই সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে। এ মাসে আর মাত্র ২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এলেই তা এক মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহের নতুন রেকর্ড গড়বে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি বেড়েছে। হুন্ডি কারবার ও অর্থপাচার কমে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসছে বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন খোলা বাজারের মতোই ব্যাংকেও রেমিট্যান্সের ডলারের দাম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তা ছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রেমিট্যান্সের গতি আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এ মাসের ২২ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৫৩ কোটি ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ২০ কোটি ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর সবচেয়ে বেশি ১৭০ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আট মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম আট মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৪৯৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় এ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেশি এসেছে ৩৫৫ কোটি ডলার, যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।