‘কালো টাকা’ সাদা করা নিয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ রাখার সমালোচনা হলেও এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান একে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ বলে মানতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, ‘এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয় নাই। আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।’

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ নিয়ে প্রতিবারই বাজেটের সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়। এবার যেন সেই সুযোগ না থাকে, বিভিন্ন মহল থেকে সেই দাবি জানানো হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে যখন বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, তার বক্তৃতায় এ বিষয়ে কিছু ছিল না। তবে অর্থবিলে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে সে সুযোগ ঠিকই রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সিপিডির বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা করা’র যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা ‘সমর্থনযোগ্য নয়’।

এ দিন বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই সে প্রসঙ্গ আসে। একজন সাংবাদিক বলেন, ‘ভালো বাজেটের কালো দিক কালো টাকা। এই সুযোগটা না রেখে বাজেটকে কালো টাকা মুক্ত করা যেত কি না।’

সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের উত্তর দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, একটি বিষয় বুঝতে ‘ভুল’ হচ্ছে। আমরা ছোট্ট একটা প্রভিশন গত বছরই করেছিলাম, যারা জমি বিক্রি করেন, যে টাকা পান, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয় কম দামে। অথচ উনার টাকাটা কিন্তু হোয়াইট, উনি জমি বিক্রি করেছেন ৫ কোটি টাকায়, রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১ কোটি টাকায়। বাকি ৪ কোটি টাকা নিয়ে উনি খুব বিপদগ্রস্ত থাকেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সে কারণে আমরা গত বছরেই একটা সুযোগ করেছিলাম যে, উনি যদি বাকি ৪ কোটি টাকা প্রমাণ করতে পারেন যে উনার ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়েছে এবং উনার যদি বায়নানামা থাকে, যদি প্রুভ করতে পারেন, তাহলে উনি ওটার ওপরে রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫% গেইন ট্যাক্স, সেই হারে ট্যাক্স দিয়ে এটা দেখাতে পারবেন।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘এটা আমরা গতবারই করেছি, এটা ছিল সেলারের দিক থেকে। এবার বায়ারের জন্যও একইরকম একটা সুবিধা চিন্তা করা হয়েছিল যে, বায়াররাও ঝামেলায় পড়েন যে একটা ফ্ল্যাট উনি কিনলেন ২০ কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হলো ৩ কোটি টাকায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ট্যাক্সের লোকজন উনাকে গিয়ে আবার চেইজ করে যে, আপনার আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আপনি ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন, আপনার এখন এটার ওপরে এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে, জরিমানাসহ। তারাও বিরাট বড় একটা ঝামেলায় পড়ে যায়।’

তাদের ‘একটু রিলিফ দেওয়ার জন্য’ এবার বাজেটে নতুন বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘যদি উনারা নিজেদের থেকে ডিক্লেয়ার করেন, যাতে করে উনি ২০% এক্সট্রা দিয়ে, রেগুলার ট্যাক্সের প্লাস ১৫% এক্সট্রা দিয়ে, যাতে এটা দেখাতে পারেন।’

‘আর যাদের নিজের টাকা আছে অলরেডি, যার ট্যাক্স দেওয়ার টাকা আছে, হোয়াইট মানি আছে, তাকে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। এরকম একটা প্রভিশন আছে, তবে এটা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, আমার মনে হয় স্যাররা এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন,’ যোগ করেন তিনি।

পরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এই যে মৌজা রেটের বিষয়টা, যে সত্যিকার ভ্যালু থেকে অনেক কম থাকে সেটা আপনারা সবাই জানেন। এটার ওপর আমরা কাজ করছি যেহেতু আমরা সময় পাই নাই, দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করতে হয়েছে, অনেক কিছু ইচ্ছা থাকলেও আমরা শেষ করতে পারিনি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মৌজা রেটের যে বিষয়টা আছে, সেটার উপর একটা কমিটি হয়েছে এবং মৌজা রেটগুলো আমরা রিভিউ করতে যাচ্ছি। আমরা মৌজা রেটগুলো একটা রিয়েল ভ্যালুতে আনার চেষ্টা করছি যাতে করে ওই কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে আর কোনো সুযোগ থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘এটা দীর্ঘ একটা কাজ। এখানে কিন্তু সারা বাংলাদেশের একটা সার্ভে করতে হবে, মৌজাভিত্তিক করতে হবে। এখানে একটা মৌজার বাজারের এক মূল্য, তারপরে ধানের একেবারে চাষবাসের জায়গার আরেকটা মূল্য। এই সার্ভেটা আমরা করতে যাচ্ছি এবং এটা কমপ্লিট হলে মৌজা রেটটা যখন মার্কেট রেটের সাথে আমরা নিয়ে আসতে পারব, তখন কালো টাকা সাদা করার খুব বেশি সুযোগ থাকবে না।’

Ad
Ad
ad
ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, বেতন কমল ৫ জনের

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত বছর বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ২২ জনের বিষয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

৩ দিন আগে

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৬ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

৩ দিন আগে

শেয়ারবাজারে মার্জিন অর্থায়নে বড় পরিবর্তন, ইক্যুইটি-ঋণের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১

সংশোধিত বিধানে কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না। অর্থাৎ গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১ থাকবে। পাশাপাশি কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের চারগুণের বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না।

৩ দিন আগে

ঋণনির্ভরতা কমাতে রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

৩ দিন আগে