মিরপুরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, লুটপাট-ভাঙচুর

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে এ হামলা হয়। পুলিশ বলছে, স্টুডিওটি হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল না; জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “সেখানে জায়গা নিয়ে ঝামেলার কারণে এক পক্ষ মধ্যরাতে জায়গা দখল করতে যায়। এসময় টিনশেড ঘরে ভাড়া থাকা স্টুডিওটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।”
হামলার সময় স্টুডিওতে দুজন ছিলেন। তাদের একজন জানান, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল এসে প্রথমে শাটারগুলো কোপাতে শুরু করে। এরপর তারা দ্রুত ভেতরে ঢুকে সবকিছু ভাঙচুর করে এবং মালামাল লুট করে। যেসব জিনিস নিয়ে যেতে পারেনি, সেগুলোও নষ্ট করে ফেলে।
ওই কর্মী বলেন, “আমরা ওয়াশরুমের মধ্যে লুকায়ে ছিলাম। পরে ওইখানে দুইজন গেছে, ওদের হাতে এরকম বড় সাইজের চাপতি ছিল, গান ছিল। ওরা গিয়েই বলতেছে, ‘তোমাদের কাছে যার কাছে যা আছে, ওটা দিয়ে দাও’। ফোন নিছে, মানিব্যাগ—যার কাছে যা ছিল সবকিছুই নিয়ে গেছে। ওরা মনে করেন ছোট ছোট কাপড়ের টুকরাও রাখে নাই, সবগুলাই নিয়ে গেছে।”
ঘটনার পর স্টুডিওতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখেন সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেন, একটি শুটিংয়ে কত খরচ হয়, তা অনেকেরই জানা। তাঁর স্টুডিওতে ৩০ থেকে ৪০টি ক্লায়েন্টের মালামাল ছিল। সেগুলো লুট হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সালমান বলেন, “আমি ভাবছিলাম আমার প্রতি শত্রুতা, বাট দেখলাম যে পুরা প্রজেক্টেই ওরা হামলা করছে। সো প্রজেক্ট রিলেটেড কিছুই হইছে—এতটুক আমি শিওর।”
নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি ও জমি দখলসহ নানা ঘটনা ঘটছে। শনিবার রাতের হামলায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন অস্ত্রধারী অংশ নেন বলে দাবি করেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, “আজকে সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ সবাই অস্ত্র নিয়ে ৪০ থেকে ৫০টা ফায়ার করছে। ফায়ার করে গেট ভেঙে ফেলছে। হার্ডডিস্কসহ সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। টাকা ছিল, ফোন ছিল।”
হামলাকারীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুট করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো ও মারধর করা হয়।
প্রকল্পের এক কর্মী বলেন, “পিস্তল দিয়ে গুলি কইরা পরে ভিতরে ঢুকছে। পরে ভিতর থাইকা সব মালছামান নিয়ে আসছে।”
আরেক কর্মী জানান, হামলাকারীরা তাদের কক্ষে ঢুকে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যায়। কয়েকজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়, আবার কারও মাথায় আঘাত করা হয়েছে।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, “এটা ভাঙচুর না, এটা হচ্ছে পুরোপুরি রবারি, চাঁদাবাজি, ডেস্ট্রাকশন, বাংলাদেশের কমন… তো বেকারত্ব যখন আপনি দূর করতে পারবেন না, যখন আপনার ল অ্যান্ড অর্ডারস থাকবে না, এটাই এন্ড রেজাল্ট। লাকিলি আমার পক্ষে এটা কোপ-আপ করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় নিজের দমে কাজ করে আসছি, সেইম জিনিস আমি করব, আমাকে এটা ভাঙতে পারবে না, দ্যাটস দ্যা ফার্স্ট থিং। বাট টেনশন হচ্ছে যে আমার মতো এরকম মনোবল নিয়ে কয়জন আগাইতে পারবে?”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলে সালমান বলেন, “আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, উনি অবশ্যই এগুলো ভিডিও হয়তো দেখেন। উনাকে যদি কিছু বলা হয়, আমি জানি না উনি কতদূর স্বীকার করেন নাকি। বাট উনার প্রতি আমার আসলে কোনো রাগ নাই, কোনো কমপ্লেইন নাই, কোনো চাহিদা নাই।”
তিনি বলেন, “বিএনপির একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বা দেশের একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উনার যা করার কথা, উনি ভালো করেই জানেন। আর উনি কতদূর করছেন সেটাও অবশ্যই আমরা দেখতে পারি সবাই, এটা তো আমি বলার কেউ না। আপনারা আছেন, দেশবাসী আছে, তারাই কমেন্টে বলে দিতে পারবে যে উনি কত ভালো কাজ করছেন। আর আমার মুখ থেকে আসলে বলার মতো আর কিছু নাই।”
ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে প্রায় পাঁচ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠছে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পটি।
ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হক রোববার সকালে বলেন, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন।”












-298494-256x144.webp)

-2b65ab-256x144.webp)