সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩
-2b65ab-480x270.webp)
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ। জমির দখল ও বেদখলকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। আমরা এই ঘটনা তদন্ত করে দেখছি।’
আটক ব্যক্তিরা হলেন ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম এবং মুন্না। গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমানের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, বিএনপির লোকজন তাঁর কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন। তা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়।
ঙ
ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দেন সালমান। সেখানে তিনি বলেন, ‘এই ভিডিওটা শুধু বানানো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য, প্লিজ আপনি কোনও টেনশন নিবেন না। দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’
স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও নতুন উদ্যোক্তাদের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সালমান। তিনি বলেন, ‘এই রকম কোনো স্টুডিও বাংলাদেশে ছিল না। এটা ভাঙার পরও আমি কেন ভেঙে পড়ছি না, কারণ বাংলাদেশে যারা নতুন কিছু করতে চান, তাদের জন্য নতুন কিছু শেখাতে চাই। আপনি যদি কারও তোষামোদি না করেন, আপনার যদি কোনও ব্যাকআপ না থাকে, আপনি যদি কোনও পলিটিকস না করেন, সিকিউরিটি টাকা পয়সা দিয়ে কিনতে না পারেন তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে এমনটাই ঘটবে। সে জন্য আমরা বলি পায়ের নিচে মাটি শক্ত না থাকলে আমাদের কিছু করা উচিত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এভাবে কথা বলছি কারণ আমি স্ট্রং, কিন্তু অনেকে এটা নিতে পারবে না, কারণ বেশির ভাগ মানুষ স্ট্রং না।’
নিজের কাজের পথচলার কথা তুলে ধরে সালমান বলেন, ‘গত ১২ বছরে আমি একটা ছোট্ট রুম থেকে এ পর্যায়ে এসেছি। তোমরা যদি বাংলাদেশে কোনও স্বপ্ন দেখো, তাহলে তোমাদের ক্ষেত্রেও এটাই (ভাঙচুরের চিত্র দেখিয়ে) হবে।’
হামলার জন্য বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমার যে স্বপ্ন ছিল, তা আমি পূরণ করছি। বিএনপির যারা এটা করেছ, তোমরা এর থেকে বড় আর হতে পারবা না। এটাই তোমাদের নেচার।’
স্টুডিওর কর্মীদের উদ্দেশে সালমান বলেন, ‘এই অফিসের খেটে খাওয়া মানুষগুলো কান্না করছে।’ তাঁদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করবো। তোমরা চিন্তা করো না।’ এ সময় কয়েকজনকে কাঁদতে দেখা যায়। সালমান তাঁদের সান্ত্বনা দেন। পাশে তাঁর স্ত্রীকেও দেখা যায়।
স্টুডিওর এক কর্মকর্তার ভাষ্য, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাঁদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। হামলাকারীদের ভয়ে কর্মকর্তারা টয়লেটে আশ্রয় নিলে সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতে স্টুডিওর ক্যামেরা, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাব ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। স্টুডিওর বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।













-298494-256x144.webp)

