শহিদ মিনারে তরুণকে গুলি-ছুরিকাঘাতে হত্যা, পুলিশ বলছে প্রেম নিয়ে বিরোধ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
নিহত রাকিবুল। ছবি: ফেসবুক থেকে
নিহত রাকিবুল। ছবি: ফেসবুক থেকে

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে ও কুপিয়ে রাকিবুল ইসলাম (২২) নামের এক তরুণকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিহাব (২১) নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে৷

পুলিশ বলছে, নিহত রাকিব ও আটক শিহাবের সঙ্গে একই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহে জানতে পেরেছে। এর জের ধরেই রাকিব হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন।

রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহিদ মিনার এলাকায় রাকিবকে গুলি করা ও কোপানো হয়৷ গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাকিব ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের বাসিন্দা। পড়তেন বোরহান উদ্দিন কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে। তার বাবা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী। রাকিব পরিবারের সঙ্গে নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় থাকতেন।

শাহবাগ থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকিব নিয়মিত শহিদ মিনার এলাকায় যেতেন। রোববার রাতেও তিনি সেখানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে চার-পাঁচজনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। একই সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাকিবে মাথা ও কোমরে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শহিদ মিনার এলাকায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীদের ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় কেবল শিহাব নামের একজনকে আটক করা সম্ভব হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, শরীরে আঘাতসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। অত্যন্ত গুরুতর আহত ছিলেন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তার মরদেহ মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, নিহত রাকিব ও আটক শিহাব একই এলাকায় থাকতেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক নারীকে নিয়ে অনেক দিন ধরেই তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় মামলা হবে জানিয়ে রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, আটক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement