কুমিল্লায় তরুণকে ‘আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায়’ মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় তরুণকে ‘আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায়’ সে তার মা ও আট মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়শালঘর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর আটক ২৪ বছর বয়সী ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে এ কথা জানিয়েছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। ইমন ওই এলাকার প্রয়াত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ইমন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। বাধা দেওয়ায় সে (ইমন) তার মা ও ভাবিকে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে ভাতিজিকে ছুড়ে ফেলে দেয়।’
নিহত দুজন হলেন ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬০) এবং তার ছেলে সুজনের মেয়ে ইসরাত জাহান। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির মা ও ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম। গুরুতর আহত তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে ইমন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে দা দিয়ে তার মা পেয়ারা বেগমকে কোপান। এরপর তিনি তার ভাতিজি ইসরাতকে আছাড় দেন। এ সময় বাধা দিতে রাবেয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক দাদি পেয়ারা বেগম ও নাতনি ইসরাত জাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। রাবেয়া বেগমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ইমনকে আটক করে পাশের একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
এলাকাবাসী জানান, ইমন পেশায় দিনমজুর। সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। সোমবার সকালে তার পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এতে তিনি আত্মহত্যা করতে যান। এ সময় তার মা ও ভাবি বাধা দেন।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ইমনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
















