চট্টগ্রামে চাঁদা দাবি করে অফিসে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট

চট্টগ্রাম ব্যুরো
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২: ২৯
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ডিডিএন অফিসে হামলা। ছবি: সংগৃহীত
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ডিডিএন অফিসে হামলা। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে চাঁদা দাবির পর একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে সেখান থেকে কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকার পাশাপাশি অফিসে থাকা ল্যাপটপ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ হামলার পেছনে রয়েছেন ক্যাডার বড় সাজ্জাদের অনুসারী ডেভিড ইমনের সহযোগীরা। সম্প্রতি ইমন মোবাইল ফোনে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। হুমকি দিয়েছিলেন, চাঁদা না দিলে ব্যবসা গুটিয়ে দেওয়া হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার অ্যাকসেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান চকবাজার থানা থেকে সামান্য দূরে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ডিডিএনের কর্মকর্তারা জানান, দুপুরে মাস্ক পরিহিত ১৫-২০ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে ডিডিএন কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে কর্মচারীদের বেতনের জন্য অফিসে রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়।

ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, হঠাৎ ১৫-২০ জন অস্ত্রধারী আমাদের অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অফিসের সব কম্পিউটার ভেঙে ফেলে।

হামলার আগে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মানুনকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি কল রেকর্ড পাওয়া গেছে। ওই কল রেকর্ডে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেন। তিনি আদিলকে বলেন, ‘আমি আপনাকে দুই দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলবেন। এখন আমাদের ছেলেরা ব্যবসা করবে। ব্যবসা করতে হলে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে, না হলে ব্যবসা করবেন না। ১৭ বছর অনেক ব্যবসা করেছেন।’

কল রেকর্ডে ইমনকে বলতে শোনা যায়, ইমনকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবেন। বলবেন, সাজ্জাদ গ্রুপের ডেভিড ইমন কল দিয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের সবাই তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করছে বলেও ফোনে বলছিলেন ইমন।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলায় কারা জড়িত, তা বের করতে কাজ চলছে। মোবাইল ফোনে হুমকির কথাও শুনেছি। সেগুলোও তদন্তের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement