খাগড়াছড়ি: ১১ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ১১ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন এ আসনের মুসলিম লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মোস্তফা।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি মুখ্য জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন।
অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে রয়েছেন—
- ম্রাসাথোয়াই মারমা, কোষাধ্যক্ষ, পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ;
- ওয়াপ্রুসং মারমা, সহকারী শিক্ষক, পানখাইয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ি সদর এবং সভানেত্রী, বাংলাদেশ মহিলা মারমা ঐক্য পরিষদ, খাগড়াছড়ি;
- সাথোয়াইপ্রু মারমা ও কংজপ্রু মারমা, সদস্য, পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি;
- সিরাজুল ইসলাম, মুদ্রাক্ষরিক, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, খাগড়াছড়ি;
- সুইলাপ্পু চৌধুরী, উচ্চমান সহকারী, পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি;
- আশাপ্রিয় ত্রিপুরা, প্রধান শিক্ষক, খাগড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়;
- রুনা দেওয়ান, সহকারী শিক্ষক, বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ি সদর। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পোলিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত;
- মোজাম্মেল হক, সহকারী শিক্ষক, খাগড়াছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিনিও পোলিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার নিষিদ্ধ থাকলেও অভিযুক্তরা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সভা-সমাবেশ করে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তারা খাগড়াছড়ি আসনে প্রকাশ্যে নির্বাচনি মিছিল, সভা ও প্রচারে অংশ নেন।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছবি ও ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্ররোচনার অভিযোগও আনা হয়েছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, পোলিং অফিসারের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থেকেও কয়েকজন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করছে।
সরকারি দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেও অভিযুক্তরা আর্থিক লোভে পক্ষপাতমূলক প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়ে। বলা হয়, এতে একদিকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদেরও বেআইনি কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা হচ্ছে।
অভিযোগকারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মোস্তফা জানান, অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্য-উপাত্ত আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।













-93b7bc-256x144.webp)



