প্লাস্টিক জমা দিয়ে নিত্যপণ্য পেল নগরবাসী

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা ও প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায়এক ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ক্লিন বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সহায়তায় তারা নগরবাসীকে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও পলিথিন জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের সুযোগ করে দিয়েছে।
রমজান মাস জুড়ে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদ কাঁচাবাজারের সামনে চলবে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ কর্নার’ নামের এই কার্যক্রম।
শুক্রবার (৭ মার্চ) চকবাজারের কাঁচাবাজারের সামনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
ক্লিন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শওকত হোসেন জনি বলেন, আমাদের শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা প্লাস্টিক বর্জ্য ও জলাবদ্ধতা। আমরা সবাই জানি, নালা ও ড্রেনগুলো প্লাস্টিকের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আমরা চেয়েছি এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান দিতে, যেখানে পরিবেশ রক্ষা ও মানবিক সহায়তা একসঙ্গে করা যায়।

শুক্রবার এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছে ক্লিন বাংলাদেশ। এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ছবি: রাজনীতি ডটকম
এ কারণেই ‘প্লাস্টিক আনুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিন’— এমন একটি ধারণা কার্যকর করতে ক্লিন বাংলাদেশ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান শওকত। বলেন, এটি শুধু প্লাস্টিক দূষণ রোধ করবে না, বরং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রমজানের সময়ে সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। ক্লিন বাংলাদেশের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কারণ এটি জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নগরের পরিচ্ছন্নতায় বাস্তবসম্মত সমাধান দিচ্ছে। আমরা চাই এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হোক এবং নগরবাসী প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আরও সচেতন হোক।
প্রথম দিনেই ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও পলিথিন জমা দিয়ে ছোলা, খেজুর, চিড়া, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ করেছেন সাধারণ জনগণ।
এই আয়োজন পরিচালনা করছেন ক্লিন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক তানভীর রিসাত। টিম লিড করছেন ইমন, আলভি, জাহিদ, প্রমি, তানজিফা। সদস্য হিসেবে কাজ করছেন সাকিব, ইয়াজ, মুনতাসির, পার্থ।
ক্লিন বাংলাদেশ আশা করছে, এই উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে প্লাস্টিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।