ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরা হলো না শিশু হাছেন ও তার মায়ের

ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরা হলো না হাছেন ও তার মায়ের। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারায় তারা।
নিহতরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কারারচর গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং ছেলে হাছেন মিয়া (২)।
নিহতদের পরিবার জানায়, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গতকাল বিকেলে ঈদের কেনাকাটার জন্য কারারচর থেকে নরসিংদী শহরে এসেছিলেন সুজন মিয়া। কেনাকাটা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনে আসেন তারা। রেললাইন পার হয়ে হাজেরা টাওয়ারের সামনে থেকে বাড়ির উদ্দেশে অটোরিকশায় উঠার কথা ছিল তাদের। স্টেশনে এসে দেখেন, ঢাকাগামী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন দীর্ঘক্ষণ ধরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থেমে আছে। অন্য অনেকের মতো তারাও মহানগরের একটি বগির দরজা দিয়ে উঠে অন্য দরজা দিয়ে নামেন। কোলে হাছেনকে নিয়ে প্রথমে নামেন সাথী বেগম।
৫ বছর বয়সী মেয়ের হাত ধরে বাবা সুজন মিয়া ছিলেন পেছনে পেছনে। ওই সময় আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনের ধাক্কায় কোলে থাকা হাছেনসহ সাথী বেগম ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান। দ্রুত স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পথে হাছেন ও সাথীর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, ‘চোখের সামনেই আমার অবুঝ শিশুসন্তান আর স্ত্রীকে হারালাম। ডাইরেক্ট ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার করছিলাম, আটকানোরও চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।’
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মহানগর এক্সপ্রেসের একটি বগির দরজা দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজনীতি/এসআই














-962f2e-256x144.webp)


-93b7bc-256x144.webp)