২ সতীনের ‘ঝগড়া থেকে’ ঘরে আগুন

নড়াইল সদরে দুই জায়ের মধ্যেকার ‘ঝগড়া’র জের ধরে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সদর থানায় অভিযোগও করা হয়েছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে নড়াইল সদর উপজেলার হবখালি ইউনিয়নের ভান্ডারিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের তুহিনুজ্জামান ঝুনুর দুই স্ত্রীর মধ্যে এমন দ্বন্দ্ব থেকে আগুনের সূত্রপাতের অভিযোগ মিলেছে।
সালেহা বেগম ও গোলাম মোস্তফাসহ কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, তুহিনুজ্জামান ঝুনু পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী। তিনি দুটি বিয়ে করেছেন। তার দুই স্ত্রী আলাদা বাড়িতে বসবাস করেন। ঝুন্নু দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে দুই স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই আছে। দুজনের মধ্যে চুলোচুলি থেকে শুরু করে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
তুহিনুজ্জামান ঝুনু বলেন, দুই বিয়ে করে বিপদে পড়েছি। দুজনের মধ্যে কোনো মিল নেই। বুধবার সন্ধ্যায় দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। ঝগড়ার মধ্যেই ছোট স্ত্রী শেফালি বেগম কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলে। বুধবার রাতে আমি বড় স্ত্রীর বাড়িতে থাকি। রাত ১১টার দিকে শেফালি বেগম বড় স্ত্রীর বাড়িতে এসে ঘর ভাঙচুর করে। গভীর রাতে দেখি ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।
অগ্নিকাণ্ডে দ্বিতীয় স্ত্রীর ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ ঝুনুর। তিনি বলেন, পাশের লোকজন সহায়তা করলেও আগুন থেকে কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। নগদ দেড় লাখ টাকা ছাড়াও আগুনে টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, আসবাবপত্রসহ সব পুড়ে ছাই হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় দ্বিতীয় স্ত্রী শেফালিসহ তার সহযোগীদের নামে সদর থানায় অভিযোগ করেছি।
জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে ঝুনুর দ্বিতীয় স্ত্রী শেফালি বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘরে আগুন লাগার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।