মা-বাবার মারধরে কিশোরীর মৃত্যু, লাশ ফেলা হয় সড়কে: পুলিশ

খুলনা প্রতিনিধি
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৩৫
খুলনায় কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে সদর দপ্তরে আজ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। (ইনসেটে) নিহত কিশোরী। ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে সদর দপ্তরে আজ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। (ইনসেটে) নিহত কিশোরী। ছবি: সংগৃহীত

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান আরফানা হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরী। সম্প্রতি অন্য একজনের সঙ্গে তার বাল্যবিবাহ হয়। তবে আগের সম্পর্কের ব্যক্তির সঙ্গে চলে যেতে চাইলে মা-বাবার সঙ্গে কিশোরীর বিরোধ হয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়েকে মারধর করেন মা আরিফা ইয়াসমিন। পরে বাবা আলিম হোসেন কাঠের ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মেয়ের মৃত্যু হয়।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের বিষয়ে সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হত্যার পর আরফানার মরদেহটি কবুতরের খাবার বহনে ব্যবহৃত বস্তায় ভরা হয়। এরপর বস্তাটি মোটরসাইকেলে নিয়ে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে আসেন তার বাবা।

এ ঘটনায় আরফানার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর বাবাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীর মা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত বুধবার রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় ১০ জুলাই খুলনা সদর থানার পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করে। পরে কিশোরীর মা গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন। আরফানা হোসেন পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে আরফানার বাসায় গিয়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম এম শাকিলুজ্জামান, উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) রেজাউর রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম, খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement