নড়াইল ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: দেড় বছরের কাজ ৭ বছরেও হয়নি শেষ

কার্ত্তিক দাস, নড়াইল
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ১২: ৪৫

নড়াইলের ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি এখন নকশা জটিলতার কারণে থমকে আছে। ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর যখন এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হয়, তখন জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু, দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, গত সাত বছরেও এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

জেলার প্রায় আট লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি। যদিও ২৫০ শয্যার ভবনের কাজ আটকে আছে, তবে ১০০ শয্যার নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিনই প্রায় ৪০০ রোগী থাকছেন। রোগীর চাপে হাসপাতালের বারান্দা, সিঁড়িঘর ও করিডোর কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। চিকিৎসক ও নার্সরা এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

‘‘যদি হয় সুজন-তেতুল পাতায় নয়জন” - এই প্রবাদটি হাসপাতালের বর্তমান অবস্থার জন্য খুবই উপযোগী। রোগীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে একটি বিছানায় একাধিক রোগীকে রাত কাটাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুন মাসে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আট তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। ৪০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এর জন্য নকশা পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসহযোগিতাকে দায়ী করছে। এদিকে, নবম তলার কাজ সম্প্রতি শুরু করেছেন অন্য এক ঠিকাদার।

গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, শুরুতে একটি মাত্র লিফট দিয়ে সাত তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে আট তলা ভবনের কাজ শুরু হয়। এরপর নতুন করে আরও তিনটি লিফট বসানো হয়েছে। যান্ত্রিক সরঞ্জাম ও চিকিৎসকদের চেম্বারের জন্য ষষ্ঠ তলা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত নকশার অনুমোদন (রিভাইস) পাওয়া যায়। নতুন নকশা অনুযায়ী, নবম তলায় ১০ শয্যার একটি আইসিইউ স্থাপন করা হবে।

নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশীদ বলেন, ‘ভবনের নকশায় শুরু থেকেই ত্রুটি ছিল। যে কারণে নির্মাণ কাজের একেবারে শেষ মুহূর্তে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্রুত নকশা সংযোজন বা পরিবর্তন করে ভবনটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

পরিত্যক্ত কূপে নেমে প্রাণ গেল বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার টেলকি জলই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে । নিহতরা হলেন জলই গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪৮), তার ১০ বছর বয়সী ছেলে নেইমার ম্রং, রতন নকরেক (২৪) ও গাবরিয়েল নকরেক (৩২)। তারা সবাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সদস্য।

১৭ ঘণ্টা আগে

মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওই চারজন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৫ ও ১৬-এর মধ্যবর্তী এলাকায় নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় বা জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।

২ দিন আগে

শিশুসহ ৪ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে রৌমারী সীমান্ত থেকে

স্থানীয়রা বলছেন, রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে ছয়জন ও ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজনকে বুধবার (১৭ জুন) রাত পর্যন্ত অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে দুই শিশুসহ চারজনকে আর সেখানে দেখা যায়নি।

২ দিন আগে

সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ আটক ‘জুলাই যোদ্ধা’, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

সুনামগঞ্জে প্রায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া নাজমুল হাসান হিমেল নামে এক তরুণকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম পুরান লাউড়েরগড়ে এ ঘটনা ঘটে।

২ দিন আগে