টেঁটা-বল্লম নিয়ে ৩ স্থানে সংঘর্ষ, আহত ৬০

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক দুটি স্থান ও কেন্দুয়ায় এক স্থানে গ্রামবাসীরা টেঁটা ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে খালিয়াজুরীর পাঁচহাট ও লক্ষীপুর গ্রামে এবং কেন্দুয়ায় বলাইশিমুল ও ছবিলা গ্রামের মধ্যে এসব সংঘর্ষ হয়।
আহতদের মধ্যে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খালিয়াজুরীর পাঁচহাট গ্রামের সালাম মিয়া (৬২) ও মোস্তাকিম মিয়াকে (২৭) উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই গ্রামের সোগেরা আক্তার (২৪), পায়েম (৩২) ও শামীম চৌধুরীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আক্তার মিয়ার ছেলে ইমরান (৩২), আলু মিয়া (১৮), আক্তারের স্ত্রী ইদুমা (৫২), মুকশেদ মিয়ার ছেলে, মুন্না (২২), মেহেদি হাসান (২৫), জালাল মিয়ার ছেলে রহমতুল্লাহ (১৮) ও মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া (৬০)।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এ কে ফজলুল হক জানিয়েছেন, দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত হয়ে বেশ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনকে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনায় টেঁটা-বল্লম নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় গ্রামবাসী। ছবি: রাজনীতি ডটকম
পাঁচহাট গ্রামের সংঘর্ষ নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী গাজীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুন মিয়া বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রামের শফিকুল মিয়া বস্তা ফেলে গ্রামের একটি রাস্তা বন্ধ করছিলেন। এ নিয়ে গ্রামবাসীর আপত্তি ছিল। রাস্তা বন্ধ না করতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও নিষেধ করা হয়। এ নিয়েই বুধবার দুপুরে শফিকুলের লোকজনের সঙ্গে গ্রামের অন্যদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৩৪ জন আহত হন।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর গ্রামে সাউন্ড বক্স দিয়ে উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে জালাল মিয়া ও আক্তার মিয়ার ছেলেদের মধ্যে বিবাদ হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও স্থানীয়রা। তারা বলেন, জালাল মিয়ার ছেলেরা পাশের বাড়িতে রাত ১০টার দিকে সাউন্ড বক্স বাজাতে থাকলে আক্তার মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া বাধা দেন। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আক্তার মিয়ার ছেলে জালাল মিয়াকে মারধর করলে জালাল মিয়া আহত হন।
জালাল মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর জেরে বুধবার দুপুরে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালে দুপক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, দুই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষের খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন দুই গ্রামেই শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এবার ঈদের ছুটিতে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুপক্ষের কমপক্ষে ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় গ্রামের ছয়টি ঘর পুড়িয়ে দিয়ে গরু লুটের ঘটনাও ঘটেছে।
বুধবার সকালে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের বলাইশিমুল গ্রাম ও ছবিলা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন দুই গ্রামের ছেলেরা ঘুরতে গিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে ছবিলা গ্রামের এজাহারের মাথা ফাটিয়ে দেন বলাইশিমুল গ্রামের তাহাজ্জুত ও পারভেজ।
ঈদের পরদিন এ ঘটনার মীমাংসা করতে বলাইশিমুল গ্রামের লোকজন নিয়ে বিরোধকারীরা ছবিলা গ্রামে যান। সে মীমাংসা বৈঠকে তাহাজ্জুত পারভেজরা উত্তেজিত হলে পারভেজকে মারধোর করেন। এরই জেরে বুধবার এলাকায় মাইকিং করে ছবিলা গ্রামে হামলার কথায় দুই গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ সময় বলাইশিমুল গ্রামের মানুষ ছবিলা গ্রামের কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এক বাড়ির পাঁচটি গরুও নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কেন্দুয়ায় সংঘর্ষে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি পুলিশ। কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান বলেন, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ও ছবিলা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি আরও বলেন, সংঘর্ষে ২০ জনের মতো আহত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।