‘অনেকের আপত্তি’তে মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ঢেকে দিলো জেলা প্রশাসন

স্বাধীনতা দিবসে লালমনিরহাট শহরের বিডিআর সড়কে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক মঞ্চের ম্যুরাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও স্থানীয় ছাত্র-জনতার দাবি’র মুখে মুর্যাল ঢেকে দিতে হয়েছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ রকম কোনো দাবি প্রকাশ্য হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। এ ঘটনা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে ব্যথিত করেছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষও জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের এ কর্মকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি।
বুধবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে লালমনিরহাটে স্মৃতিসৌধ চত্বরের পাশে স্মৃতিমঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক স্মৃতি দেয়াল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে জেলা প্রশাসন। এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসেও একই ঘটনা ঘটেছিল।
মুক্তিযুদ্ধের এই ম্যুরালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকার গঠন, চরমপত্র পাঠ, উদিত সূর্য, ৭১-এর গণহত্যা, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়োল্লাস, পতাকা হাতে হাতে বিজয়ে উচ্ছ্বসিত জনতা, ৭ বীরশ্রেষ্ঠ ও পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ।
বুধবার সকালে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে যায় সনাক। এ সময় ম্যুরালটি ঢেকে রাখার বিষয়টি চোখে পড়ে। এ ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিরে যান। পরে লালমনিরহাট রেলওয়ে শহিদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন তারা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার টিআইবি এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. মোরশেদ আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে।
সনাক লালমনিরহাট শাখার সহসভাপতি ও লালমনিরহাট উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক সুপেন্দ্রনাথ দত্ত বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানে আমরা এ দেশ পেয়েছি। তাদের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন ঢেকে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে এ অবদান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করা।
সনাক জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম বীরপ্রতীক বলেন, ওই ম্যুরালে বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস রয়েছে। কাপড় দিয়ে এই ইতিহাস ঢেকে রাখার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।
ম্যুরাল ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ কর্মী শেখ জাহাঙ্গীর আলম শাহীনের নজরে এলে তিনি গোটা ম্যুরালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। এতে ম্যুরাল ঢেকে রাখার ঘটনাটি জেলার গণ্ডি ছাপিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেকের আপত্তির কারণে ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।’ এর বেশি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।