
বিয়ানিবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি

‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির মধ্যেই সিলেটের বিয়ানীবাজারে সোনাই নদে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ওই পক্ষের আপত্তির পর আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে অন্ধকার নেমে আসায় ফাইনাল পর্বের বাইচ অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে বৈঠক করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সোয়া চারটার দিকে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার সোনাই নদের তৃগাংগারমুখ অংশে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় তিনটি নৌকা।
নৌকাগুলো হলো— গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’, হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ ও বড়লেখার ঘোড়াকান্দির ‘স্বাধীন বাংলা নাও’। বিজয়ী নৌকার জন্য বড় আকারের একটি গরু এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকার জন্য একটি রেফ্রিজারেটর পুরস্কার হিসেবে রাখা হয়।
এর আগে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালান। এ দাবিতে বারইগ্রাম বাজার মসজিদে ওই ব্যানারে একটি সভাও করা হয়। সভা থেকে নৌকাবাইচ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পরে সভার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন বক্তাকে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে অতীতে মারামারি ও সংঘর্ষ, নদীর পাড় ও আবাদি জমির ক্ষতি এবং যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বলতে শোনা যায়। তাঁদের দাবি, অতীতে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। তাই এ আয়োজন বন্ধ রাখা উচিত।
অন্যদিকে আয়োজকদের দাবি, নৌকাবাইচ সোনাই নদ ও স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রতিবছর এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া এলাকার অধিকাংশ মানুষ নৌকাবাইচের পক্ষে রয়েছেন।
আয়োজকদের একজন তাজউদ্দিন বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে সোনাই নদে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়ে আসছে। এবারও আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় কিছু মানুষ আপত্তি জানালেও পরে আলোচনার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

নৌকাবাইচ শুরুর আগেই সোনাই নদের দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো দর্শক। সংকেত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগী নৌকাগুলো ছুটে চলে নদে। মাঝিদের সমন্বিত বৈঠার ছন্দে উত্তাল হয়ে ওঠে নদ। শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় সোনাই নদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের টহল দিতেও দেখা যায়।
‘নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী নয়’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয়। প্রতিবছর ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন ও উপভোগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুকনা মৌসুমে এলাকার ভাঙা রাস্তাগুলোর কাজ করা হবে। নদীভাঙন ঠেকাতেও একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরই সেটির কাজ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ রেজা ও বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বক্তারা গ্রামীণ ঐতিহ্য নৌকাবাইচ টিকিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যতেও এ আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
অন্ধকারে ফাইনাল অমীমাংসিত
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, তিনটি নৌকা নিয়ে তিন ধাপে প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। লটারির মাধ্যমে প্রথমে দুটি নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল। প্রথম রাউন্ডের বিজয়ী সরাসরি ফাইনালে যেত। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে লটারিতে নির্বাচিত নৌকা ও প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল। ওই রাউন্ডের বিজয়ী ফাইনালে অংশ নিত।
নৌকাবাইচের শেষ পর্বে গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’ ও হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ অংশ নেয়। তবে অন্ধকার নেমে আসায় ফাইনালের বাইচ আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
বাইচের আয়োজক কমিটির সঙ্গে থাকা বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান বলেন, অন্ধকার নেমে আসায় ফাইনালের ফলাফল এখনো মীমাংসা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির মধ্যেই সিলেটের বিয়ানীবাজারে সোনাই নদে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ওই পক্ষের আপত্তির পর আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে অন্ধকার নেমে আসায় ফাইনাল পর্বের বাইচ অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে বৈঠক করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সোয়া চারটার দিকে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার সোনাই নদের তৃগাংগারমুখ অংশে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় তিনটি নৌকা।
নৌকাগুলো হলো— গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’, হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ ও বড়লেখার ঘোড়াকান্দির ‘স্বাধীন বাংলা নাও’। বিজয়ী নৌকার জন্য বড় আকারের একটি গরু এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকার জন্য একটি রেফ্রিজারেটর পুরস্কার হিসেবে রাখা হয়।
এর আগে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালান। এ দাবিতে বারইগ্রাম বাজার মসজিদে ওই ব্যানারে একটি সভাও করা হয়। সভা থেকে নৌকাবাইচ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পরে সভার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন বক্তাকে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে অতীতে মারামারি ও সংঘর্ষ, নদীর পাড় ও আবাদি জমির ক্ষতি এবং যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বলতে শোনা যায়। তাঁদের দাবি, অতীতে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। তাই এ আয়োজন বন্ধ রাখা উচিত।
অন্যদিকে আয়োজকদের দাবি, নৌকাবাইচ সোনাই নদ ও স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রতিবছর এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া এলাকার অধিকাংশ মানুষ নৌকাবাইচের পক্ষে রয়েছেন।
আয়োজকদের একজন তাজউদ্দিন বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে সোনাই নদে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়ে আসছে। এবারও আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় কিছু মানুষ আপত্তি জানালেও পরে আলোচনার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

নৌকাবাইচ শুরুর আগেই সোনাই নদের দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো দর্শক। সংকেত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগী নৌকাগুলো ছুটে চলে নদে। মাঝিদের সমন্বিত বৈঠার ছন্দে উত্তাল হয়ে ওঠে নদ। শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় সোনাই নদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের টহল দিতেও দেখা যায়।
‘নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী নয়’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয়। প্রতিবছর ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন ও উপভোগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুকনা মৌসুমে এলাকার ভাঙা রাস্তাগুলোর কাজ করা হবে। নদীভাঙন ঠেকাতেও একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরই সেটির কাজ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ রেজা ও বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বক্তারা গ্রামীণ ঐতিহ্য নৌকাবাইচ টিকিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যতেও এ আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
অন্ধকারে ফাইনাল অমীমাংসিত
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, তিনটি নৌকা নিয়ে তিন ধাপে প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। লটারির মাধ্যমে প্রথমে দুটি নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল। প্রথম রাউন্ডের বিজয়ী সরাসরি ফাইনালে যেত। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে লটারিতে নির্বাচিত নৌকা ও প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল। ওই রাউন্ডের বিজয়ী ফাইনালে অংশ নিত।
নৌকাবাইচের শেষ পর্বে গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’ ও হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ অংশ নেয়। তবে অন্ধকার নেমে আসায় ফাইনালের বাইচ আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
বাইচের আয়োজক কমিটির সঙ্গে থাকা বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান বলেন, অন্ধকার নেমে আসায় ফাইনালের ফলাফল এখনো মীমাংসা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়িই ছিল নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলায় পাঠানো হয়।
১২ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দলীয় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের মতবিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
১২ ঘণ্টা আগে
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে রেনেসাঁ হোটেলের বারে মদ পান করার সময় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে রাশেদ ও সালমানসহ কয়েকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। দুজনই একপর্যায়ে বাইরে থেকে লোকজন ডেকে নিয়ে যান। বারেই তারা দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙা কাঁচের বোতল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ভাঙা গ্লাস ও ছুরির আ
১৩ ঘণ্টা আগে
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে বকুল মিয়াকে (৫০) দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১ দিন আগে