চিন্ময় দাসের মায়ের মৃত্যু, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করবে পরিবার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ছবি: সংগৃহীত
আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে বন্দি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে তার মৃত্যু হয়। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চিন্ময় দাসকে প্যারোলে মুক্তি দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।

চট্টগ্রামের ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সহসভাপতি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাশ ব্রহ্মচারী বলেন, ‘মাতাজির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পুণ্ডরীক ধামে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে।’

ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত সন্ধ্যা রানী ধর প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী, মঙ্গলবার তাকে হাসপাতাল থেকে পুণ্ডরীক ধামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন চিন্ময় দাসের বড় ভাই রঞ্জন ধর।

চিন্ময় দাসের পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। ধর্মীয় দীক্ষাগ্রহণের পর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নাম নেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে চিন্ময় সবার ছোট। মৃত্যুশয্যায় থাকা মা যাতে শেষবার তাকে দেখতে পারেন, সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার কথা বলা হয়েছিল।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, অসুস্থ অবস্থায় কাউকে দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। কেবল স্বজন মারা গেলে এ সুযোগ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা রানীর মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে নতুন কোনো আবেদন জমা পড়েনি বলে মাহবুবুল হক জানান।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘যদি পরিবারের আবেদনে চিন্ময় দাসকে প্যারোলে মুক্তির আদেশ হয়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যেভাবে গ্রেপ্তার চিন্ময় দাস

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় দাস।

ওই বছর অক্টোবরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করেন। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করেন। পালটা-পালটি ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আইনজীবী আলিফের বাবার করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নাম না থাকলেও পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে প্রধান আসামি করে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে এখন মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। হাইকোর্ট থেকে চার মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার থাকায় চিন্ময় দাস কারাগারে আছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement