মস্তিষ্কের অনুভূতি-আচরণের রহস্য উন্মোচন, চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল এবারে চিকিৎসায় নোবেল পুরষ্কার জিতে নিয়েছেন। ছবি: নোবেল কমিটি
কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল এবারে চিকিৎসায় নোবেল পুরষ্কার জিতে নিয়েছেন। ছবি: নোবেল কমিটি

আলো দিয়ে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের নতুন পথ দেখানো আবিষ্কারের জন্য ২০২৬ সালের শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য যৌথভাবে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায়, বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়, কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিন বিজ্ঞানীর গবেষণা আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষের সংকেত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করেছে। এর ফলে জীবিত মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নোবেল ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস’ বিষয়ে আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেলকে এ বছরের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

কার্ল ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড হিউজেস মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত। পিটার হেগেম্যান জার্মানির হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের অধ্যাপক এবং জর্জ নাগেল ইউনিভার্সিটি অব ভুর্জবুর্গের অধ্যাপক।

হেগেম্যান ও নাগেল চ্যানেলরোডপসিন নামের একটি বিশেষ প্রোটিন আবিষ্কার করেন। তাঁরা দেখতে পান, কোনো কোষে এই প্রোটিন প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

এরপর ডেইসেরথ ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জিন প্রবেশ করান। কোষে নীল আলো প্রয়োগ করে তিনি স্নায়ুর সংকেত সক্রিয় করতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করেন তিনি। আলো দিয়ে স্নায়ুর সংকেত নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিই পরে অপটোজেনেটিকস নামে পরিচিত হয় এবং দ্রুত বিশ্বজুড়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মস্তিষ্ক কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ তৈরি করে, তা বোঝা দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অপটোজেনেটিকসের মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম চালু বা বন্ধ করা সম্ভব। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অজানা প্রক্রিয়া বোঝার জন্য বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে এই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement