
বিবিসি বাংলা

সম্প্রতি দুই দিনের ঢাকা সফরে এসেছিলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্রিকেট বোর্ড পিসিবির চেয়ারম্যান সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। তার এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। নাকভি বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচও উপভোগ করেছেন। কয়েক দিন ধরেই এই সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে।
গত শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরুর দিন ঢাকায় পৌঁছান নাকভি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন।
শুক্রবার বিকেলেই ঢাকায় একটি পাঁচতারকা হোটেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সফররত নাকভি। এ সময় দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ নিজ দেশের পক্ষে দুই দেশের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার ও অপব্যবহার রোধে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেন। পরদিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গেও নাকভির বৈঠক হয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভির এই ঢাকা সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফর নিছক ‘গুডউইল ভিজিট বা রাজনৈতিক ভিজিট’— এমনটি মানতে নারাজ তারা।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) অধ্যাপক সাহাব এনাম খানের মতে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাকিস্তান এখন ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধ্যাপক সাহাব বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি যেখানে মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে নতুন ভূ-কৌশলগত অবস্থান তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে, সেটাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং সবদিক মিলিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ করাটা অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার দিক থেকে দেখা প্রয়োজন।’
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই বেশ স্পর্শকাতর বলে বিবেচিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বেশির ভাগ সময়ই বাংলাদেশকে সচেতন থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ শীতল ছিল।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অবশ্য দুই দেশের সম্পর্কে মোড় ঘুরতে দেখা গেছে। আবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দূরত্বও তৈরি হয় সে সময়, যে ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার শাসনামলে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফর ও যোগাযোগ বাড়াতে দেখা গেছে। ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশটির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।
পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। অধ্যাপক সাহাব বলেন, এই মুহূর্তে পাকিস্তান ওয়েস্ট এশিয়া অর্থাৎ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক মধ্যস্থতায় আছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। আবার চীনের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক আছে। এই প্রতিটি সম্পর্কই পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরকে রিফ্লেক্ট করে।
আবার জঙ্গিবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা ও স্বচ্ছতা তৈরি হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক সাহাব। তিনি বলেন, এ ধরনের এমওইউ থাকা মানে পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে অনেক বেশি ট্রান্সপারেন্সি তৈরি হচ্ছে, যেটা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে নতুন ক্ষেত্র তৈরির জন্য বাংলাদেশকে ‘প্রাগম্যাটিক চিন্তা’ করতে হবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কন্নয়োনের ক্ষেত্রে আন্তরিক দেখা গেছে। সে ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তানের যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের পরম্পরা, সেটি বাংলাদেশ-ভারতের দূরত্ব আরও বাড়াবে কি না— এমন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের ‘প্রিজম’ থেকে দেখাটা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভুল হবে। বাংলাদেশের জন্য ভারত যেরকম গুরুত্বপূর্ণ, পাকিস্তানও আঞ্চলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যে সম্পর্ক, সেটাও বাংলাদেশের জন্য বিবেচ্য, খুবই বিবেচ্য।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শুক্রবার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার ও মাদকসংক্রান্ত অর্থ পাচার রোধে একে অন্যকে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহায়তা করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ স্মারকের আওতায় মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী সংস্থা ও পাচারের নতুন পদ্ধতি ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে দুই দেশ।
সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাসঙ্গিকভাবে উভয় দেশের সম্পর্কের বিষয়ে কথা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক যে সম্পর্ক তা নিয়ে তো সাধারণভাবেই আলোচনা হয়। আমাদের দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। এ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বাড়বে।
ওই বৈঠকে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে দ্রুত তথ্য ও সাক্ষ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া অপরাধীরা যেন এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে বিচার এড়াতে না পারে, সে জন্য সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক অপরাধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের কথা হয়েছে বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

সম্প্রতি দুই দিনের ঢাকা সফরে এসেছিলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্রিকেট বোর্ড পিসিবির চেয়ারম্যান সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। তার এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। নাকভি বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচও উপভোগ করেছেন। কয়েক দিন ধরেই এই সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে।
গত শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরুর দিন ঢাকায় পৌঁছান নাকভি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন।
শুক্রবার বিকেলেই ঢাকায় একটি পাঁচতারকা হোটেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সফররত নাকভি। এ সময় দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ নিজ দেশের পক্ষে দুই দেশের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার ও অপব্যবহার রোধে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেন। পরদিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গেও নাকভির বৈঠক হয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভির এই ঢাকা সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফর নিছক ‘গুডউইল ভিজিট বা রাজনৈতিক ভিজিট’— এমনটি মানতে নারাজ তারা।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) অধ্যাপক সাহাব এনাম খানের মতে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাকিস্তান এখন ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধ্যাপক সাহাব বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি যেখানে মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে নতুন ভূ-কৌশলগত অবস্থান তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে, সেটাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং সবদিক মিলিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ করাটা অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার দিক থেকে দেখা প্রয়োজন।’
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই বেশ স্পর্শকাতর বলে বিবেচিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বেশির ভাগ সময়ই বাংলাদেশকে সচেতন থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ শীতল ছিল।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অবশ্য দুই দেশের সম্পর্কে মোড় ঘুরতে দেখা গেছে। আবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দূরত্বও তৈরি হয় সে সময়, যে ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার শাসনামলে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফর ও যোগাযোগ বাড়াতে দেখা গেছে। ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশটির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।
পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। অধ্যাপক সাহাব বলেন, এই মুহূর্তে পাকিস্তান ওয়েস্ট এশিয়া অর্থাৎ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক মধ্যস্থতায় আছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। আবার চীনের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক আছে। এই প্রতিটি সম্পর্কই পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরকে রিফ্লেক্ট করে।
আবার জঙ্গিবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা ও স্বচ্ছতা তৈরি হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক সাহাব। তিনি বলেন, এ ধরনের এমওইউ থাকা মানে পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে অনেক বেশি ট্রান্সপারেন্সি তৈরি হচ্ছে, যেটা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে নতুন ক্ষেত্র তৈরির জন্য বাংলাদেশকে ‘প্রাগম্যাটিক চিন্তা’ করতে হবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কন্নয়োনের ক্ষেত্রে আন্তরিক দেখা গেছে। সে ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তানের যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের পরম্পরা, সেটি বাংলাদেশ-ভারতের দূরত্ব আরও বাড়াবে কি না— এমন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের ‘প্রিজম’ থেকে দেখাটা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভুল হবে। বাংলাদেশের জন্য ভারত যেরকম গুরুত্বপূর্ণ, পাকিস্তানও আঞ্চলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যে সম্পর্ক, সেটাও বাংলাদেশের জন্য বিবেচ্য, খুবই বিবেচ্য।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শুক্রবার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার ও মাদকসংক্রান্ত অর্থ পাচার রোধে একে অন্যকে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহায়তা করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ স্মারকের আওতায় মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী সংস্থা ও পাচারের নতুন পদ্ধতি ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে দুই দেশ।
সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাসঙ্গিকভাবে উভয় দেশের সম্পর্কের বিষয়ে কথা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক যে সম্পর্ক তা নিয়ে তো সাধারণভাবেই আলোচনা হয়। আমাদের দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। এ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বাড়বে।
ওই বৈঠকে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে দ্রুত তথ্য ও সাক্ষ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া অপরাধীরা যেন এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে বিচার এড়াতে না পারে, সে জন্য সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক অপরাধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের কথা হয়েছে বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা না করেই সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক পরীক্ষার্থী জলাবদ্ধতা, যানজটসহ নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্ন অতীতের তুলনায় কঠিন হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
৩ ঘণ্টা আগে
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে। তবে এর অর্থ কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়, বরং তার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
এ দাবিতে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় এক ঘণ্টা অবরোধ করেন। পরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যান। ভিসি চত্বরের সামনে বেলা সোয়া একটার দিকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে পুলিশও অবস্থান করছে।
৪ ঘণ্টা আগে
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অত্যাধিক কঠিন করা হয়েছে। এমনকি অনেক প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরে থেকে এসেছে বলেও দাবি করেন তারা।
৪ ঘণ্টা আগে