সব শ্রেণিপেশার মানুষের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মঙ্গলবার চতুর্থ বৈঠক করেছে সংবিধান সংশোধন কমিটি। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
মঙ্গলবার চতুর্থ বৈঠক করেছে সংবিধান সংশোধন কমিটি। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

সংবিধান সংশোধনের আগে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্বসহ সব ধরনের শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংবিধান সংশোধন কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী সংবিধান সংশোধনবিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বৈঠকে অনেক মূল্যবান মতামত পেয়েছি। এর মধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মতামত রয়েছে, যেগুলো আমরা বিবেচনা করতে পারি। কমিটির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা করা হবে। লিখিত বক্তব্যগুলো জমা হওয়ার পর আমরা একসঙ্গে সেগুলো নিয়ে বসব।’

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সব শ্রেণিপেশার মানুষ ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে একটি চিত্র নেওয়ার চেষ্টা করব। এরপর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে। সংসদে উত্থাপনের পর সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে আলোচনা হবে। তখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে আবারও মতামত তৈরি হবে। এভাবেই একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

সংবিধান সংশোধনের এ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরোধ শুরু থেকেই। এসব দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধানের সংস্কার দাবি করে আসছে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে বিএনপির সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। গণভোটের পর দলটির সংসদ সদস্যরা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথও নেননি। এর বদলে সরকার গঠনের পর সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

১২ সদস্যের এই কমিটিতে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলামসহ বিএনপির মোট আটজন সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছেন। সদস্য হিসেবে আরও রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলিউল্লাহ।

কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজনের জন্য জায়গা রাখা হলেও জামায়াত বা এনসিপি তাদের কোনো সংসদ সদস্যকে এই কমিটিতে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বিরোধী দলকে এই কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে বিরোধী দলীয় জোটও নিজেদের অবস্থানে অনড়।

কমিটির চতুর্থ বৈঠকের শেষেও বিরোধী দলের প্রতি সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। বলেন, ‘বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করেন। কারণ আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করতে চাই।’

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রস্তাব এসেছে। যেহেতু এটি একটি একক রাষ্ট্র এবং আমাদের সংবিধানে বলা আছে এখানে অঙ্গরাজ্যের ব্যবস্থা নেই, সে বিবেচনায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যায় কি না, সে প্রস্তাবও এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছি, সেই হিসেবেই আমরা এগোতে চাই। তবে তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল সেটি বিবেচনা করলে তখন বিষয়টি দেখা যাবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে আরও আলোচনা ও প্রস্তাব প্রয়োজন বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ও রূপ সম্পর্কে আমাদের ওপেন ডিসকাশন ও প্রস্তাব দরকার। যেটিকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বিবেচিত করা হবে, সেটিই আমরা গ্রহণ করব। আমরা এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি যে কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে আছে। কোথাও কোথাও নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। আমরা বলেছি, বিষয়টি সংসদের ওপর ছেড়ে দিই। সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে, এই ধাপগুলো কোন কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়ে নেওয়া হবে। আমরা সবাইকে এই প্রস্তাব নিয়ে চর্চা করার আহ্বান জানিয়েছি।’

বৈঠকে কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement