খতমে নবুওয়ত সম্মেলনে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ ঘোষণার দাবি

কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম’ ঘোষণা এবং তাদের যাবতীয় প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ। এ দাবিতে রাজধানীর চকবাজার শাহী মসজিদ চত্বরে খতমে নবুওয়ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর লালবাগ জোনের উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির সহকারী প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আফসার মাহমুদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
খতমে নবুওয়তের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজির সভাপতিত্বে সম্মেলন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন শেষ নবী ও রাসুল। তাঁর পর আর কোনো নবী আসবেন না— এটাই ইসলামের মূল আকিদা। কাদিয়ানী সম্প্রদায় শেষ নবীর নবুওয়তকে অস্বীকার করে বিশ্ব মুসলিমের ঈমান-আকিদায় আঘাত হানছে।’
-0c3460.jpg)
মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘ইসরায়েলে কাদিয়ানী মহাসম্মেলনে ইহুদিদের ঢলে তাদের আসল রূপ ও গভীর ষড়যন্ত্র বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হয়েছে। তারা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত। ঈমান-আকিদাকে রক্ষা করতে হলে কাদিয়ানীদের যাবতীয় অপতৎপরতা শক্ত হাতে রুখে দাঁড়াতে হবে। সরকার যদি কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা না করে, তবে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, কাদিয়ানী সম্প্রদায় ‘আহমদীয়া মুসলিম জামাত’ পরিচয়, ‘মুবাশ্বিরা কোর্স’সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং নিজস্ব প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মুসলিম সমাজে তাদের মতবাদ উপস্থাপন করছে। খতমে নবুওয়ত ইসলামের মৌলিক আকিদা হওয়ায় তাদের ধর্মীয় দাবিগুলো সম্পর্কে মুসলমানদের সচেতন থাকা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানীর ভাষ্য, ধর্মীয় পরিভাষা ও মুসলিম পরিচয়ের আড়ালে প্রচারণা চালানোর কারণে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই কাদিয়ানী মতবাদের মৌলিক বিশ্বাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা সম্পর্কে সতর্ক করা এবং খতমে নবুওয়তের আকিদা সংরক্ষণে শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও নিয়মতান্ত্রিক সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি বলেন, ‘চকবাজারের এই ঐতিহাসিক চত্বর থেকে আজ আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই— খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষা করা প্রতিটি সচেতন মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার সুনির্দিষ্ট আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই সংগ্রাম অবিরত চলবে।’
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা শওকত হোসাইন সরকার, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মুফতী খোবাইব আহমাদ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী বশিরুল্লাহ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজীসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা।

-6d5bc4.jpg)
















