এবার তথ্য পাচারের মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে ভারতীয় নাগরিক রবিউল

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা এ মামলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার হয়ে দুই দফায় মোট আট দিন রিমান্ডে ছিলেন রবিউল। ওই জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. নুর আলম রবিউলকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এজাহারে রবিউলের পরিচয়পত্র নিয়ে অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টে জন্মতারিখ এক নয়। ভারতীয় নাগরিক রবিউলের পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে আবার সৌদি আরবের রিয়াদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১২ বছর ধরে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। পুলিশের অভিযোগ, ব্যবসার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রবিউল। বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রবিউল। পরদিন থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করেন তিনি। এ সময়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের ভাষ্য, ওই সময় রবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে স্পর্শকাতর নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩/এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
রবিউলকে প্রথমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন ডিবির রমনা বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। প্রথম দফার রিমান্ড শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে দ্বিতীয় দফায় আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করে পুলিশ। এরপর ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।













-9d5c8f-256x144.webp)





