সাংবাদিক রাজেকুজ্জামান জুয়েলকে ‘হত্যার হুমকি’, প্রতিবাদ কৃষক-মজুর সংহতির

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ঢাকা পেপার্স ও বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির লোগো।
ঢাকা পেপার্স ও বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির লোগো।

ডিজিটাল গণমাধ্যম ‘ঢাকা পেপার্সে’র সাংবাদিক মো. রাজেকুজ্জামান জুয়েলকে হত্যার হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি। একই সঙ্গে হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির সভাপতি দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম এসব দাবি জানান।

রাজেকুজ্জামান জুয়েল ঢাকা পেপার্সের জুনিয়র প্রডিউসার এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য। সম্প্রতি তাকে অনলাইনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে কৃষক-মজুর সংহতি।

বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, সম্প্রতি ‘ঢাকা পেপার্স’ তাদের প্ল্যাটফর্মে উগ্রবাদী রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করেছে। এর জেরে সাংবাদিক রাজেকুজ্জামানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে জুয়েলের ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারেও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে একই হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।

কৃষক-মজুর সংহতির মনে করে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতামত, প্রতিবেদন কিংবা বিশ্লেষণের সঙ্গে দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু এর জবাবে হত্যার হুমকি দেওয়া সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত আচরণ হতে পারে না।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, দেশে কিছুদিন ধরে উগ্রবাদী হুমকিদাতারা ভিন্নমত, মুক্তচিন্তা, সংস্কৃতিচর্চা ও স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। অতীতেও সাংবাদিক, লেখক, ব্লগার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অনেকগুলোর সুষ্ঠু বিচার ও কার্যকর প্রতিরোধ নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীরা বারবার উৎসাহিত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইসলামি বইমেলায় আল-কায়েদা নেতাদের বই, পেছনে কারা?’ শিরোনামে ‘ঢাকা স্ট্রিম’ নামের একটি নিউজ পোর্টাল প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বইমেলায় আল-কায়েদার প্রয়াত নেতাদের লেখা বা তাদের সম্পর্কে অনূদিত বই বিক্রির তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরদিন রাতে সংবাদমাধ্যমটির কাছে একটি ই-মেইল পাঠিয়ে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাইবার হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে এ ধরনের ধারাবাহিক উগ্রবাদী হুমকির নিন্দা জানান তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত দাবি তুলে ধরা, রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি উন্মোচন করা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো গণমাধ্যম বা সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ নয়; এটি জনগণের জানার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিসরের ওপর সরাসরি আঘাত।

দেশে বিভিন্ন সময়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করে জনমত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কৃষক-মজুর সংহতির নেতারা। তারা মনে করেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক পরিণতি তৈরি হতে পারে।

বিবৃতিতে ঢাকা পেপার্সের সাংবাদিক রাজেকুজ্জামান জুয়েলকে হত্যার হুমকিদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা এবং সংবাদমাধ্যমটির সব সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের সব অপচেষ্টা প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement