top ad image
top ad image
home iconarrow iconখবরাখবর

অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত তামিম, কেপিজেইতেই রাখার পরামর্শ

অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত তামিম, কেপিজেইতেই রাখার পরামর্শ

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তার ঝুঁকির শঙ্কা এখন অনেকটাই কম। চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আপাতত গাজীপুরের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু জাফর ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী কেপিজে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তামিমকে দেখতে। পরে তামিমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

অধ্যাপক ওয়াদুদ বলেন, চূড়ান্ত কঠিন একটি মুহূর্ত গেছে। তামিমকে ২২ মিনিটের মতো কার্ডিয়াক ম্যাসেজ দিতে হয়েছে। সেখান থেকে সবাই সবসময় ফিরে আসে না। উপযুক্ত চিকিৎসা পেয়েছে বলেই তামিমকে আমরা ফেরত পেয়েছি।

সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচে খেলতে নেমে আচমকা বুকে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তামিমকে। বিকেএসপিতেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু হেলিকপ্টারে দ্বিতীয়বার বড় ধরনের আরেকটি হার্ট অ্যাটাক হলে আর তাকে ঢাকা নেওয়া যায়নি। দ্রুত নেওয়া হয় পাশের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয়বার ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তামিমের, যা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হৃদযন্ত্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর্যায়ে পৌঁছে যায়। প্রায় ২২ মিনিট ধরে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) ও ডিসি (ইলেকট্রিক শক) দেওয়ার পর হৃদস্পন্দন ফিরে আসে তামিমের। পরে এনজিওগ্রাম করে হৃদযন্ত্রে ব্লক পাওয়া যায়। এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে স্টেন্ট পরানো হয় তামিমকে।

তামিমের হৃদযন্ত্র এখন যথেষ্ট ভালো আছে জানিয়ে অধ্যাপক ওয়াদুদ বলেন, আজ সকালে তার ইসিজি রিপোর্ট দেখে একদমই স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তবে ঝুঁকি অনেক কম থাকলেও মনে রাখতে হবে, আবারও হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। আপাতত তার জন্য ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ক্রিটিক্যাল টাইম। কথা কম বলতে হবে, বিশ্রামে থাকতে হবে, কোনো ধরনের উত্তেজনা যেন না হয়। এগুলো অনুসরণ করলে স্থিতিশীল একটা অবস্থায় পৌঁছাবেন তিনি।

অধ্যাপক আবু জাফর বলেন, তামিম ইকবালের সার্বিক অবস্থা এখন আশাব্যঞ্জক। তবে কিছু আশঙ্কা তো থেকেই যায়। যে স্টেন্টটা পরানো হয়েছে, সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে (থ্রম্বোসিস)। আপাতত তাকে মুভ করানোটা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, যেখানে সর্বোচ্চ চিকিৎসা থাকবে সেখানে সবাই যেতে চাইবে— এটা স্বাভাবিক। তামিমের বিষয়েও সিদ্ধান্ত তার পরিবারই নেবে। তবে আমরা আমাদের অবস্থানটা তামিমকে বলেছি। তার পরিবারকেও বলেছি। এখানে চিকিৎসা নিয়ে স্থিতিশীল হওয়ার পর তারা যেকোনো জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন।

তামিকের পরিবারও জানিয়েছে, তামিম শারীরিকভাবে এখন যথেষ্ট সুস্থ বোধ করছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন। মঙ্গলবার সকালের পর সামান্য হাঁটা-চলাফেরাও করেছেন।

r1 ad
r1 ad
top ad image