বন্যা-ধসে মৃত্যু বেড়ে ৫৪, পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৮: ২১
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার হাসান বলীপাড়া গ্রাম এখনো পানিবন্দি। ছবি: সংগৃহীত

দেশে অতি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ৭ জেলায় এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে দেড় লাখের বেশি পরিবার। এ ছাড়া বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা-সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ— এই ৭ জেলা বর্তমানে তীব্রভাবে বন্যা উপদ্রুত। সরকারি হিসাবে এসব জেলার মোট ৫৯টি উপজেলার ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারে। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন এখনো নিখোঁজ। অন্যান্য জেলার মধ্যে চট্টগ্রামে ১৩ জন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা উপদ্রুত জেলাগুলোয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি আশ্রয়ের জন্য প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে চট্টগ্রামে; সেখানে ১৬ হাজার ৮২১ জন মানুষ অবস্থান করছেন। এ ছাড়া বান্দরবানের ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫ হাজার ১৩৪ জন, রাঙামাটির ৪৭টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪৮৭ জন, কক্সবাজারের ৭টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ১৩১ জন এবং মৌলভীবাজারের ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

খাগড়াছড়িতে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে মাত্র ৭৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং হবিগঞ্জের দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আশ্রিত মানুষের তথ্য পাওয়া যায়নি। উপদ্রুত জেলাগুলোতে সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল এবং ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমও চলমান।

উপদ্রুত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ টন চাল এবং ৬৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা। এই বরাদ্দের বিপরীতে ৩৬৩ টন চাল এবং ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাঙ্গামাটিতে ৫০০ টন চাল ও ২৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৯৫ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বিতরণ শেষ হয়েছে। বান্দরবানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪০০ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা; যার বিপরীতে ৬৮ টন চাল ও নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে ৪০০ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা, মৌলভীবাজারে ২০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমার আভাস

এদিকে চলমান ভারী বর্ষণের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাবে না।

সোমবার দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হতে শুরু করে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হলে বৃষ্টির পরিমাণ আবারও বাড়তে পারে।

যদিও বৃষ্টির তীব্রতা কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবু সোমবার দেশের ছয় বিভাগের জন্য পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আগামীকাল থেকে খুলনা বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে। একই সঙ্গে সিলেট, ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগেও ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বৃষ্টির তীব্রতা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তার ভাষায়, ‘যে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, তার পরিমাণ কমে যেতে পারে। কিন্তু এক-দুই পশলা বৃষ্টি হতেই থাকবে। একেবারে কমে যাবে না।’

রাজধানীতেও গত কয়েক দিনের মতো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবুল কালাম মল্লিক জানান, মঙ্গলবার রাজধানীতে বৃষ্টির তীব্রতা আরও কিছুটা কমতে পারে। অল্প সময়ের জন্য হলেও রোদের দেখা মিলতে পারে। তবে দিনের বিভিন্ন সময়ে দু-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতি আগামী শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর আবারও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ভেজাল ওষুধ ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, নকল ও ভেজাল ওষুধের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৩ ঘণ্টা আগে

মডেল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা অনিয়ম করেছে, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ, প্রকল্প ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে।

৪ ঘণ্টা আগে

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

৪ ঘণ্টা আগে

দুর্যোগে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সমালোচনা

পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।

৪ ঘণ্টা আগে