
ফজলুল বারী

গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের চিত্রও ছিল ঋণাত্মক ও আবর্জনাময়। ১৭ বছর একই চিত্র বহন করছে দেশের পুঁজিবাজার। এ সময়ের মধ্যে শাসকের বদল ঘটেছে, বদলায়নি অপশাসন ও শোষণ প্রক্রিয়া। এসব কারণে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে পুঁজিবাজার ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর ভারসাম্য ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
সক্রিয় ও জমজমাট অবস্থানে আছে কয়েকটি ব্যাংক-ব্যাকড ব্রোকার হাউজ। সেসব ব্রোকার হাউজ মার্জিন-নির্ভর ক্যাসিনো মার্কেট পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এ হাউজগুলো আফ্রিকার মাদাগাস্কার জঙ্গলের মানুষখেকো গাছের মতো। পুঁজিবাজারের পুঁজিখেকো গাছ। নাগালে পেলেই জাপটে ধরে সব পুঁজি নিংড়ে খায়। বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট কমবেশি সব পক্ষই এ দূরবস্থার অবসান চায়।
দেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ জন্ম নিয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নয়নের ইঙ্গিত সামনে এসেছে।
জোর গুঞ্জন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে বিদায় হতে যাচ্ছে ‘জামাই বাবাজী’। এটাই তার কপালের লিখন। কোনো প্রতিষ্ঠানেই তিনি পূর্ণ মেয়াদ টিকতে পারেন না। অপবাদ মাথায় নিয়েই প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হয়। আগে থেকেই দুদকে তার মামলা আছে। সে মামলার কার্যক্রম ফের শুরু হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। কারণ, প্রায় প্রতিটি সরকারেই তার সাহায্যকারী থাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন মাসুদ খান এফসিএ। তিনি বিশিষ্ট কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ একাধিক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার।
লাফার্জ-হোলসিম একীভূতকরণের দীর্ঘ ও জটিল কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাসুদ খান। কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একীভূত লাফার্জ-হোলসিম কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। তথ্য বিবেচনায় তাকে নিয়ে একটি আশাবাদের জায়গা তৈরি হয়েছে। দেখা যাক, সামনে কী অপেক্ষা করছে।
পুঁজিবাজারের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বিএসইসি। চেয়ারম্যান ছাড়াও চার কমিশনার নিয়ে গঠিত হয় কমিশন। একজন মাসুদ খান একা কিছুই করতে পারবেন না। বাকি চার কমিশনারের মিলিত শক্তিতেই পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীবান্ধব হতে পারে। পুঁজিবাজারে ফের ষাঁড়ের গর্জন শোনা যেতে পারে। এটাই প্রত্যাশিত।
সঙ্গত কারণেই পরবর্তী দৃষ্টি থাকবে— কোন চারজন কমিশনার পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন? বাজার সংশ্লিষ্টদের জানা যে, কমিশনের হাত অনেক লম্বা। ক্ষমতাও অনেক।
কমিশনই পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়া তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয় সে আইন যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রিসভায় পাঠায়। পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবিত আইন জাতীয় সংসদে পাস হলে তা কার্যকর হয়।
এ ছাড়া কমিশন নিজেই বিধি তৈরি করে, বিধি প্রয়োগ করে। আইন ও বিধি ভঙ্গ হলে বিএসইসি নিজেই তদন্ত করে। তদন্ত-পরবর্তী বাস্তবায়নের কাজও বিএসইসিই সম্পন্ন করে। এ প্রতিষ্ঠান নিজেই ‘কোয়াজি জুডিশিয়াল বডি’। বিচার করে, দণ্ড প্রদান ও প্রয়োগ নিশ্চিতও করে বিএসইসিই। সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য না হলে আপিল আবেদনও বিএসইসিতেই করতে হয়।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিগণ অভিজ্ঞ, সৎ, বিষয়জ্ঞানসম্পন্ন ও দূরদর্শী না হলে প্রতি পদে বিপত্তি ও বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। কমিশন বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীবান্ধব না হলে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়। তাতে বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার শুষ্ক হয়ে পড়ার ফাঁদে পড়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতা তিক্ত। প্রায় প্রতিটি কমিশনেই বিষয়জ্ঞান বিবর্জিত, দুর্নীতিবান্ধব, সরকারঘনিষ্ঠ লোকজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার যেন একই পথে না হাঁটে— এটাই প্রত্যাশা।
নতুন কমিশনার পদে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যোগ্য লোকদেরই নিয়োগ দেওয়া জরুরি। কোনো আমলা, শিক্ষক বা ভিন্ন পেশার লোকজন এ জায়গায় অপ্রত্যাশিত, অবাঞ্ছিত। তাদের কার্যক্রম দেখা সম্পন্ন হয়েছে, আর নয়। নিয়োগদাতাদের মাথায় রাখা জরুরি— ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’, ‘যার কাজ তারই সাজে, অন্য লোকের লাঠি বাজে’।
‘কমিশন ট্রেনিং সেন্টার নয়’। বিষয়জ্ঞান বিবর্জিতদের নিয়োগ দেওয়া উচিত হবে না। ওদের বিএসইসিতে নিয়োগ দিলে দেশে-বিদেশে ট্রেনিং ট্যুর করবে, পকেট ভারী করবে, অপশাসন চালাবে। এটা হতে দেওয়া যায় না।
আবারও এখানে, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ ও সময় কম’। দেশের ব্যষ্টিক অর্থনীতি ফোকলা। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখনো প্রাণ আছে। ভরসার জায়গা এখানেই। ব্যষ্টিক অর্থনীতি সবল না হলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থানসহ নানা উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা নয় লাখ কোটি টাকা। ১৮ কোটি লোকের দেশে বাজেটের উল্লিখিত আকার বেশি না, বাস্তবায়ন-অযোগ্যও না।
তবে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দাকবলিত। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো নড়বড়ে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় ক্যাডার ও পঞ্চম বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি প্রকট। এই অপতৎপরতার প্রকাশও দেখা যাচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত। উগ্রবাদীদের উস্কানি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বস্তিকর মনে হলেও যেকোনো সময় অন্তর্ঘাত ও অস্থিরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
এ দেশ এখনো পর্যন্ত মীরজাফর, ঘষেটি বেগম, জগৎ শেঠ এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির (ইন্ডিকো) কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রমুক্ত হতে পারেনি। ওদের ওপর সরকারসহ প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। জাতীয় ঐক্য সুসংহত হওয়ার বিষয়টিও জরুরি।
আরও জরুরি অভ্যন্তরীণ উৎসের সব সম্ভাবনার জায়গাগুলো আস্থায় নিয়ে কাজে লাগানোর বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় ও কার্যকর উৎস হতে পারে পুঁজিবাজার।
তবে সুশীল এবং বিদেশ-নির্ভর থিংক ট্যাংক থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। ভরসা ও আস্থা রাখতে হবে নিজ দেশের প্রতিভাবান গুণীজনদের ওপর। খুঁজে বের করে আস্থায় নিন তাদেরই। তারা অন্তত দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেবেন না।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক

গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের চিত্রও ছিল ঋণাত্মক ও আবর্জনাময়। ১৭ বছর একই চিত্র বহন করছে দেশের পুঁজিবাজার। এ সময়ের মধ্যে শাসকের বদল ঘটেছে, বদলায়নি অপশাসন ও শোষণ প্রক্রিয়া। এসব কারণে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে পুঁজিবাজার ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর ভারসাম্য ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
সক্রিয় ও জমজমাট অবস্থানে আছে কয়েকটি ব্যাংক-ব্যাকড ব্রোকার হাউজ। সেসব ব্রোকার হাউজ মার্জিন-নির্ভর ক্যাসিনো মার্কেট পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এ হাউজগুলো আফ্রিকার মাদাগাস্কার জঙ্গলের মানুষখেকো গাছের মতো। পুঁজিবাজারের পুঁজিখেকো গাছ। নাগালে পেলেই জাপটে ধরে সব পুঁজি নিংড়ে খায়। বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট কমবেশি সব পক্ষই এ দূরবস্থার অবসান চায়।
দেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ জন্ম নিয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নয়নের ইঙ্গিত সামনে এসেছে।
জোর গুঞ্জন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে বিদায় হতে যাচ্ছে ‘জামাই বাবাজী’। এটাই তার কপালের লিখন। কোনো প্রতিষ্ঠানেই তিনি পূর্ণ মেয়াদ টিকতে পারেন না। অপবাদ মাথায় নিয়েই প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হয়। আগে থেকেই দুদকে তার মামলা আছে। সে মামলার কার্যক্রম ফের শুরু হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। কারণ, প্রায় প্রতিটি সরকারেই তার সাহায্যকারী থাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন মাসুদ খান এফসিএ। তিনি বিশিষ্ট কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ একাধিক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার।
লাফার্জ-হোলসিম একীভূতকরণের দীর্ঘ ও জটিল কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাসুদ খান। কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একীভূত লাফার্জ-হোলসিম কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। তথ্য বিবেচনায় তাকে নিয়ে একটি আশাবাদের জায়গা তৈরি হয়েছে। দেখা যাক, সামনে কী অপেক্ষা করছে।
পুঁজিবাজারের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বিএসইসি। চেয়ারম্যান ছাড়াও চার কমিশনার নিয়ে গঠিত হয় কমিশন। একজন মাসুদ খান একা কিছুই করতে পারবেন না। বাকি চার কমিশনারের মিলিত শক্তিতেই পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীবান্ধব হতে পারে। পুঁজিবাজারে ফের ষাঁড়ের গর্জন শোনা যেতে পারে। এটাই প্রত্যাশিত।
সঙ্গত কারণেই পরবর্তী দৃষ্টি থাকবে— কোন চারজন কমিশনার পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন? বাজার সংশ্লিষ্টদের জানা যে, কমিশনের হাত অনেক লম্বা। ক্ষমতাও অনেক।
কমিশনই পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়া তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয় সে আইন যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রিসভায় পাঠায়। পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবিত আইন জাতীয় সংসদে পাস হলে তা কার্যকর হয়।
এ ছাড়া কমিশন নিজেই বিধি তৈরি করে, বিধি প্রয়োগ করে। আইন ও বিধি ভঙ্গ হলে বিএসইসি নিজেই তদন্ত করে। তদন্ত-পরবর্তী বাস্তবায়নের কাজও বিএসইসিই সম্পন্ন করে। এ প্রতিষ্ঠান নিজেই ‘কোয়াজি জুডিশিয়াল বডি’। বিচার করে, দণ্ড প্রদান ও প্রয়োগ নিশ্চিতও করে বিএসইসিই। সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য না হলে আপিল আবেদনও বিএসইসিতেই করতে হয়।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিগণ অভিজ্ঞ, সৎ, বিষয়জ্ঞানসম্পন্ন ও দূরদর্শী না হলে প্রতি পদে বিপত্তি ও বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। কমিশন বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীবান্ধব না হলে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়। তাতে বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার শুষ্ক হয়ে পড়ার ফাঁদে পড়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতা তিক্ত। প্রায় প্রতিটি কমিশনেই বিষয়জ্ঞান বিবর্জিত, দুর্নীতিবান্ধব, সরকারঘনিষ্ঠ লোকজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার যেন একই পথে না হাঁটে— এটাই প্রত্যাশা।
নতুন কমিশনার পদে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যোগ্য লোকদেরই নিয়োগ দেওয়া জরুরি। কোনো আমলা, শিক্ষক বা ভিন্ন পেশার লোকজন এ জায়গায় অপ্রত্যাশিত, অবাঞ্ছিত। তাদের কার্যক্রম দেখা সম্পন্ন হয়েছে, আর নয়। নিয়োগদাতাদের মাথায় রাখা জরুরি— ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’, ‘যার কাজ তারই সাজে, অন্য লোকের লাঠি বাজে’।
‘কমিশন ট্রেনিং সেন্টার নয়’। বিষয়জ্ঞান বিবর্জিতদের নিয়োগ দেওয়া উচিত হবে না। ওদের বিএসইসিতে নিয়োগ দিলে দেশে-বিদেশে ট্রেনিং ট্যুর করবে, পকেট ভারী করবে, অপশাসন চালাবে। এটা হতে দেওয়া যায় না।
আবারও এখানে, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ ও সময় কম’। দেশের ব্যষ্টিক অর্থনীতি ফোকলা। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখনো প্রাণ আছে। ভরসার জায়গা এখানেই। ব্যষ্টিক অর্থনীতি সবল না হলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থানসহ নানা উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা নয় লাখ কোটি টাকা। ১৮ কোটি লোকের দেশে বাজেটের উল্লিখিত আকার বেশি না, বাস্তবায়ন-অযোগ্যও না।
তবে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দাকবলিত। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো নড়বড়ে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় ক্যাডার ও পঞ্চম বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি প্রকট। এই অপতৎপরতার প্রকাশও দেখা যাচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত। উগ্রবাদীদের উস্কানি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বস্তিকর মনে হলেও যেকোনো সময় অন্তর্ঘাত ও অস্থিরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
এ দেশ এখনো পর্যন্ত মীরজাফর, ঘষেটি বেগম, জগৎ শেঠ এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির (ইন্ডিকো) কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রমুক্ত হতে পারেনি। ওদের ওপর সরকারসহ প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। জাতীয় ঐক্য সুসংহত হওয়ার বিষয়টিও জরুরি।
আরও জরুরি অভ্যন্তরীণ উৎসের সব সম্ভাবনার জায়গাগুলো আস্থায় নিয়ে কাজে লাগানোর বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় ও কার্যকর উৎস হতে পারে পুঁজিবাজার।
তবে সুশীল এবং বিদেশ-নির্ভর থিংক ট্যাংক থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। ভরসা ও আস্থা রাখতে হবে নিজ দেশের প্রতিভাবান গুণীজনদের ওপর। খুঁজে বের করে আস্থায় নিন তাদেরই। তারা অন্তত দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেবেন না।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক

বিশ্ব জুড়ে মানুষের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস এখন পোল্ট্রি বা ফার্মের মুরগির মাংস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই মাংসের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববাজারে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্যমতে, বি
৩ দিন আগে
দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলনের কারণ ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আন্দোলনের সূচনা, তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং পরে রাজপথে বড় আকারের বিক্ষোভের কারণে ভারতের চলমান ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে অনেকেই ‘জুলাইয়ের আবহ’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
৫ দিন আগে
আজ তার মহাপ্রয়াণ দিবসে আমরা কেবল একজন লেখককে স্মরণ করছি না, আমরা স্মরণ করছি এমন এক আলোকবর্তিকাকে, যিনি বাংলা সাহিত্যকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন— সহজ ভাষাও গভীর হতে পারে, নীরবতাও অনেক কথা বলতে পারে, আর ছোট ছোট সুখ-দুঃখও সাহিত্যের মহৎ বিষয় হতে পারে।
৭ দিন আগে
ছোটবেলা থেকেই জাম্বুরা দিয়ে কিংবা খড়ের বল বানিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেছি এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে গেছি অনার্স পরীক্ষার প্রায় তিন মাস আগ পর্যন্ত। ফুটবল ছাড়া ক্রিকেট, হকি ও দৌড় প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব প্রদর্শন না করতে পারলেও পাকিস্তান অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলাম।
৮ দিন আগে