
রাশেদা কে চৌধূরী

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড হলেও বিগত দিনগুলোতে তা জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে চরমভাবে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল। শিক্ষা যেন প্রায় ‘ডি-প্রায়োরিটাইজড’ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার তাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে শিক্ষাকে আবারও অগ্রাধিকারের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা শিক্ষাপরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমাদের কাছে প্রশংসনীয় মনে হয়েছে। সংবিধানেও এর কিছুটা প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি, যেখানে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে এই ছয় মাসের পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমি কেবল ঢালাও ‘সফলতা’ বা ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখতে চাই না। বরং সরকার কী করার চেষ্টা করেছে, কী অর্জিত হয়েছে এবং আরও কী করা উচিত ছিল কিংবা এখনো বাকি রয়ে গেছে— সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়।
উৎসাহব্যাঞ্জক উদ্যোগ ও অর্জনের চিত্র
প্রথমত, সরকার তাদের ৩১ দফা থেকে শিক্ষা খাতে বেশ কিছু নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও নীতিমালায় ৫ শতাংশের কথা বলা হয়েছিল, তবে এবার ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে তিন ধাপে ১২টি সুনির্দিষ্ট নীতিগত সংস্কারের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তারা দিয়েছে।
এর অধীনে আইসিটি, প্রযুক্তিভিত্তিক লার্নিং ও রোবোটিক্স কর্নার চালুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
দ্বিতীয়ত, প্রাথমিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ইএফটি’র মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কোটি কোটি শিক্ষার্থীর কাছে সরাসরি উপবৃত্তি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তৃতীয়ত, ২০০২ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকা লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর পেনশনের অর্থ ছাড়ের চটজলদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা এমনিতেই বেতন-ভাতা ও সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে পিছিয়ে ছিলেন, তার ওপর তাদের এই পাওনা আটকে থাকা ছিল চরম অন্যায়। সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে সহায়তা করেছে।
চতুর্থত, শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া, সাহিত্য ও সুস্থ সংস্কৃতির চর্চাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত সময়ে আমরা সাহিত্য-সংস্কৃতি ও খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে আমাদের সন্তানেরা ব্যাপকভাবে ডিভাইস-আসক্ত হয়ে পড়েছিল। গত ১০ বছরে সমাজে যে ‘কিশোর গ্যাং’ বা কিশোর অপরাধের প্রাদুর্ভাব আমরা দেখেছি, তার মূল কারণ ছিল কিশোর-তরুণদের মানসিক বিকাশ ও এনার্জিকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে না পারা।
সম্প্রতি ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো প্রতিযোগিতার পুনর্জাগরণ ঘটায় অনেক অভিভাবকই বলছেন যে তাদের সন্তানদের ডিভাইস আসক্তি কমেছে। ইতিবাচক সংস্কৃতি যে নেতিবাচক ধারাগুলোকে সামাল দিতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর আন্দোলনের কারণে সংগীত শিক্ষকের পদ বাতিলের যে চেষ্টা বা ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, বর্তমান সরকার এসে তা শক্ত হাতে দমন করে সাংস্কৃতিক চর্চাকে পুনর্বাসিত করেছে।
বাস্তবায়নের বিলম্ব ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
উদ্যোগগুলো ভালো হলেও মাঠপর্যায়ে এর সুফল পৌঁছাতে দীর্ঘসূত্রতা ও বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। সরকারের ৩১ দফা বা ১২ দফার মতো ঘোষণার রূপরেখা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন হতে অনেক সময় লাগছে।
শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানো, দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যেকোনো অসন্তোষেই শিক্ষার্থীদের রাজপথে নেমে পড়ার একটি ধারা অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে এ সরকার পেয়েছে। এই অসন্তোষ ও শৃঙ্খলা দ্রুত সামাল দেওয়া এবং নীতি-নির্ধারণে সরকারের কার্যকর দূরদর্শিতার কিছুটা অভাব লক্ষ করা গেছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাম্প্রতিক ভর্তি পরীক্ষার সময় বন্যা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের যখন হাঁটুপানিতে নেমে পরীক্ষা দিতে হলো, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত বা দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেটি না করে পরবর্তী সময়ে সময়সূচি পরিবর্তন করা হলো। জরুরি মুহূর্তে এ ধরনের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যে গতি প্রয়োজন, সেখানে আমরা দীর্ঘসূত্রতা দেখেছি।
যা এখনো অনুপস্থিত: স্থায়ী শিক্ষা কমিশন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তা হলো একটি স্বাধীন, স্থায়ী ও আইনভিত্তিক ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠন। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী যখন দায়িত্বে ছিলেন না, তখন বিভিন্ন সেমিনার-কনফারেন্সে তিনিও এই স্থায়ী শিক্ষা কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলতেন। কিন্তু সরকারের ছয় মাস পার হলেও সেই স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের কোনো আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন ‘অ্যাডহক’ নির্দেশ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে চালানো সম্ভব নয়। একটি আইনভিত্তিক ও স্থায়ী শিক্ষা কমিশন থাকা প্রয়োজন, যা শিক্ষার সার্বিক কাঠামোগত বিষয়গুলো নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করবে, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবে এবং কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে সেখানে ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারস্থ হতে পারবে। অবশ্যই এই কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, শক্তিশালী ও দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে হবে এবং সরকারকে তা প্রমাণ করতে হবে।
দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিশৃঙ্খলা বা বঞ্চনা রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তবে সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের জায়গায় ফেরানোর যে সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তাকে স্বাগত জানাই। এখন প্রয়োজন নীতিগত ঘোষণার দ্রুত দৃশ্যমান বাস্তবায়ন, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবিলম্বে একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ শিক্ষা কমিশন গঠন করা। তবেই দেশের শিক্ষা খাত টেকসই পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাবে।
লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড হলেও বিগত দিনগুলোতে তা জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে চরমভাবে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল। শিক্ষা যেন প্রায় ‘ডি-প্রায়োরিটাইজড’ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার তাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে শিক্ষাকে আবারও অগ্রাধিকারের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা শিক্ষাপরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমাদের কাছে প্রশংসনীয় মনে হয়েছে। সংবিধানেও এর কিছুটা প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি, যেখানে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে এই ছয় মাসের পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমি কেবল ঢালাও ‘সফলতা’ বা ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখতে চাই না। বরং সরকার কী করার চেষ্টা করেছে, কী অর্জিত হয়েছে এবং আরও কী করা উচিত ছিল কিংবা এখনো বাকি রয়ে গেছে— সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়।
উৎসাহব্যাঞ্জক উদ্যোগ ও অর্জনের চিত্র
প্রথমত, সরকার তাদের ৩১ দফা থেকে শিক্ষা খাতে বেশ কিছু নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও নীতিমালায় ৫ শতাংশের কথা বলা হয়েছিল, তবে এবার ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে তিন ধাপে ১২টি সুনির্দিষ্ট নীতিগত সংস্কারের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তারা দিয়েছে।
এর অধীনে আইসিটি, প্রযুক্তিভিত্তিক লার্নিং ও রোবোটিক্স কর্নার চালুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
দ্বিতীয়ত, প্রাথমিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ইএফটি’র মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কোটি কোটি শিক্ষার্থীর কাছে সরাসরি উপবৃত্তি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তৃতীয়ত, ২০০২ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকা লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর পেনশনের অর্থ ছাড়ের চটজলদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা এমনিতেই বেতন-ভাতা ও সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে পিছিয়ে ছিলেন, তার ওপর তাদের এই পাওনা আটকে থাকা ছিল চরম অন্যায়। সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে সহায়তা করেছে।
চতুর্থত, শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া, সাহিত্য ও সুস্থ সংস্কৃতির চর্চাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত সময়ে আমরা সাহিত্য-সংস্কৃতি ও খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে আমাদের সন্তানেরা ব্যাপকভাবে ডিভাইস-আসক্ত হয়ে পড়েছিল। গত ১০ বছরে সমাজে যে ‘কিশোর গ্যাং’ বা কিশোর অপরাধের প্রাদুর্ভাব আমরা দেখেছি, তার মূল কারণ ছিল কিশোর-তরুণদের মানসিক বিকাশ ও এনার্জিকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে না পারা।
সম্প্রতি ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো প্রতিযোগিতার পুনর্জাগরণ ঘটায় অনেক অভিভাবকই বলছেন যে তাদের সন্তানদের ডিভাইস আসক্তি কমেছে। ইতিবাচক সংস্কৃতি যে নেতিবাচক ধারাগুলোকে সামাল দিতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর আন্দোলনের কারণে সংগীত শিক্ষকের পদ বাতিলের যে চেষ্টা বা ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, বর্তমান সরকার এসে তা শক্ত হাতে দমন করে সাংস্কৃতিক চর্চাকে পুনর্বাসিত করেছে।
বাস্তবায়নের বিলম্ব ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
উদ্যোগগুলো ভালো হলেও মাঠপর্যায়ে এর সুফল পৌঁছাতে দীর্ঘসূত্রতা ও বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। সরকারের ৩১ দফা বা ১২ দফার মতো ঘোষণার রূপরেখা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন হতে অনেক সময় লাগছে।
শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানো, দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যেকোনো অসন্তোষেই শিক্ষার্থীদের রাজপথে নেমে পড়ার একটি ধারা অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে এ সরকার পেয়েছে। এই অসন্তোষ ও শৃঙ্খলা দ্রুত সামাল দেওয়া এবং নীতি-নির্ধারণে সরকারের কার্যকর দূরদর্শিতার কিছুটা অভাব লক্ষ করা গেছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাম্প্রতিক ভর্তি পরীক্ষার সময় বন্যা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের যখন হাঁটুপানিতে নেমে পরীক্ষা দিতে হলো, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত বা দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেটি না করে পরবর্তী সময়ে সময়সূচি পরিবর্তন করা হলো। জরুরি মুহূর্তে এ ধরনের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যে গতি প্রয়োজন, সেখানে আমরা দীর্ঘসূত্রতা দেখেছি।
যা এখনো অনুপস্থিত: স্থায়ী শিক্ষা কমিশন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তা হলো একটি স্বাধীন, স্থায়ী ও আইনভিত্তিক ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠন। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী যখন দায়িত্বে ছিলেন না, তখন বিভিন্ন সেমিনার-কনফারেন্সে তিনিও এই স্থায়ী শিক্ষা কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলতেন। কিন্তু সরকারের ছয় মাস পার হলেও সেই স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের কোনো আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন ‘অ্যাডহক’ নির্দেশ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে চালানো সম্ভব নয়। একটি আইনভিত্তিক ও স্থায়ী শিক্ষা কমিশন থাকা প্রয়োজন, যা শিক্ষার সার্বিক কাঠামোগত বিষয়গুলো নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করবে, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবে এবং কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে সেখানে ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারস্থ হতে পারবে। অবশ্যই এই কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, শক্তিশালী ও দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে হবে এবং সরকারকে তা প্রমাণ করতে হবে।
দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিশৃঙ্খলা বা বঞ্চনা রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তবে সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের জায়গায় ফেরানোর যে সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তাকে স্বাগত জানাই। এখন প্রয়োজন নীতিগত ঘোষণার দ্রুত দৃশ্যমান বাস্তবায়ন, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবিলম্বে একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ শিক্ষা কমিশন গঠন করা। তবেই দেশের শিক্ষা খাত টেকসই পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাবে।
লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির সংকট। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দুর্বল চাহিদা ব্যবস্থাপনা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা পরিকল্পনার ঘাটতি মিলেই বারবার এই সংকট তৈরি করছে।
২ দিন আগে
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার বিকল্প নেই। এনটিআরসিএ’র বিদ্যমান কাঠামোর কোনো দুর্বলতা থাকলে তা পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এই প্রক্রিয়াকে পেছনে ঠেলে দিয়ে আবার ব্যক্তি বা কমিটির দুর্নীতির সুযোগ করে
২ দিন আগে
এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, এর কোনোটিই প্রত্যাশামাফিক কার্যকর হয়নি। ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস (পেট্রোবাংলা ও আইওসি মিলিয়ে) থেকে গ্যাসের উৎপাদন যেখানে ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছিল, সেটা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে এসে ঠেকেছে। এটা পেট্রোব
৩ দিন আগে
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সই হয়েছে। বিষয়টি সঙ্গত কারণে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত হচ্ছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে আজ মধ্যপ্র
৪ দিন আগে