
মো. কাফি খান

যখন মাটি দুলে ওঠে, তখন আমাদের ব্যবস্থার সত্য উন্মোচিত হয়। শুক্রবার সকালের ভূমিকম্প কেবল প্রাকৃতিক নয়; এটি আমাদের নাগরিক জীবন, নিরাপত্তা ও কাঠামোগত দুর্বলতার এক নির্মম আয়না। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেকেই রক্ষা পেয়েছেন, কিন্তু ঢাকা ও ঢাকার বাইরের প্রাণহানি ও হতাহতের খবর আমাদের মনে করিয়ে দেয়— নিরাপত্তা কখনোই উপেক্ষা করা যাবে না। প্রতিটি প্রাণহানি একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়, জীবনের সম্ভাবনা থামিয়ে দেয়। মনে রাখতে হবে— মানুষের জীবন অমূল্য।
বাংলাদেশ, বিশেষত ঢাকা শহর গত কয়েক দশকে দ্রুত নগরায়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। বহু মানুষ রাজধানীতে ভাড়া বা নিজেদের ভবনে বসবাস করছে, যেখানে নিরাপত্তার মান অনেক ক্ষেত্রে কম।
ভূমিকম্পের সময় স্পষ্ট হয়, অনেক ভবনের কাঠামো দুর্বল, যান্ত্রিকভাবে অযোগ্য এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অপ্রস্তুত। সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে, আর প্রশাসনের সক্ষমতাও এই ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়।
প্রশ্ন জাগে—
এগুলো কেবল যুক্তির প্রশ্ন নয়, এগুলো মানুষের দীর্ঘশ্বাস, অসহায়তার অভিব্যক্তি ও বহু বছরের অভিজ্ঞতার বেদনার প্রতিফলন।
অনেকেই বলছেন, ‘নীতিনির্ধারকরা কোথায়? মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলে ভবন তৈরির অনুমোদন দেয় কে?’ ক্ষোভটি কঠোর হলেও বাস্তবতারই আর্তনাদ।
নীতিনির্ধারক কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নন; তারা মানুষের নিরাপত্তার রক্ষক, নগর পরিকল্পনার দিকনির্দেশক এবং সমাজের অগ্রগতির অভিভাবক।
নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু আইন প্রয়োগ নয়; এর মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিভঙ্গি, সচেতনতা এবং মানুষের জীবনের মূল্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দায়িত্ব। একটি দেশের অগ্রগতি কিলোমিটার, বহুতল ভবনের উচ্চতা বা ফ্লাইওভারের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ হয় না— অগ্রগতি পরিমাপ হয় মানুষের জীবন বাঁচানোর সক্ষমতায়।
যখন স্থাপনা টেকসই নয়, নীতি মানা হয় না— তখন প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পই মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলে। আজকের ভূমিকম্প সেই সত্যটিই আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।
সাধারণ নাগরিক আজ সচেতন, কিন্তু তাদের সক্ষমতা সীমিত। সরকার, প্রশাসন, নীতিনির্ধারক ও পরিকল্পনাকারীরা যে দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তার ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে, গণমাধ্যমে ও সাধারণ আলাপচারিতায়।
সরকারি কাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ নীতি এবং নাগরিক সচেতনতা মিলিতভাবে কাজ না করলে দুর্যোগ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়।
মানুষের প্রাণ নিরাপদ না হলে, উন্নয়নের প্রতিটি ইট নীরব বিদ্রূপ হয়ে দাঁড়ায়।
যে সমাজ মানুষকে রক্ষা করতে পারে, সেই সমাজই ভবিষ্যৎ রক্ষায় সক্ষম।
শুধু প্রশাসন নয়—নাগরিক সমাজকেও অংশ নিতে হবে। সব স্তরে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ— সবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বাস্থ্যবান, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজই দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সক্ষম।
আজকের কম্পন আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে— দুর্যোগ প্রস্তুতি শুধু প্রযুক্তি বা পরিকল্পনার বিষয় নয়; এটি সামাজিক মূল্যবোধ, দায়বদ্ধতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়।
[উপস্থাপিত তথ্য, বিশ্লেষণ ও মতামত সম্পূর্ণরূপে লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি। এটি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষের অবস্থান বা দাবি নয়।]
লেখক: ব্যাংকার ও সমাজ পর্যবেক্ষক

যখন মাটি দুলে ওঠে, তখন আমাদের ব্যবস্থার সত্য উন্মোচিত হয়। শুক্রবার সকালের ভূমিকম্প কেবল প্রাকৃতিক নয়; এটি আমাদের নাগরিক জীবন, নিরাপত্তা ও কাঠামোগত দুর্বলতার এক নির্মম আয়না। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেকেই রক্ষা পেয়েছেন, কিন্তু ঢাকা ও ঢাকার বাইরের প্রাণহানি ও হতাহতের খবর আমাদের মনে করিয়ে দেয়— নিরাপত্তা কখনোই উপেক্ষা করা যাবে না। প্রতিটি প্রাণহানি একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়, জীবনের সম্ভাবনা থামিয়ে দেয়। মনে রাখতে হবে— মানুষের জীবন অমূল্য।
বাংলাদেশ, বিশেষত ঢাকা শহর গত কয়েক দশকে দ্রুত নগরায়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। বহু মানুষ রাজধানীতে ভাড়া বা নিজেদের ভবনে বসবাস করছে, যেখানে নিরাপত্তার মান অনেক ক্ষেত্রে কম।
ভূমিকম্পের সময় স্পষ্ট হয়, অনেক ভবনের কাঠামো দুর্বল, যান্ত্রিকভাবে অযোগ্য এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অপ্রস্তুত। সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে, আর প্রশাসনের সক্ষমতাও এই ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়।
প্রশ্ন জাগে—
এগুলো কেবল যুক্তির প্রশ্ন নয়, এগুলো মানুষের দীর্ঘশ্বাস, অসহায়তার অভিব্যক্তি ও বহু বছরের অভিজ্ঞতার বেদনার প্রতিফলন।
অনেকেই বলছেন, ‘নীতিনির্ধারকরা কোথায়? মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলে ভবন তৈরির অনুমোদন দেয় কে?’ ক্ষোভটি কঠোর হলেও বাস্তবতারই আর্তনাদ।
নীতিনির্ধারক কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নন; তারা মানুষের নিরাপত্তার রক্ষক, নগর পরিকল্পনার দিকনির্দেশক এবং সমাজের অগ্রগতির অভিভাবক।
নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু আইন প্রয়োগ নয়; এর মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিভঙ্গি, সচেতনতা এবং মানুষের জীবনের মূল্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দায়িত্ব। একটি দেশের অগ্রগতি কিলোমিটার, বহুতল ভবনের উচ্চতা বা ফ্লাইওভারের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ হয় না— অগ্রগতি পরিমাপ হয় মানুষের জীবন বাঁচানোর সক্ষমতায়।
যখন স্থাপনা টেকসই নয়, নীতি মানা হয় না— তখন প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পই মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলে। আজকের ভূমিকম্প সেই সত্যটিই আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।
সাধারণ নাগরিক আজ সচেতন, কিন্তু তাদের সক্ষমতা সীমিত। সরকার, প্রশাসন, নীতিনির্ধারক ও পরিকল্পনাকারীরা যে দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তার ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে, গণমাধ্যমে ও সাধারণ আলাপচারিতায়।
সরকারি কাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ নীতি এবং নাগরিক সচেতনতা মিলিতভাবে কাজ না করলে দুর্যোগ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়।
মানুষের প্রাণ নিরাপদ না হলে, উন্নয়নের প্রতিটি ইট নীরব বিদ্রূপ হয়ে দাঁড়ায়।
যে সমাজ মানুষকে রক্ষা করতে পারে, সেই সমাজই ভবিষ্যৎ রক্ষায় সক্ষম।
শুধু প্রশাসন নয়—নাগরিক সমাজকেও অংশ নিতে হবে। সব স্তরে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ— সবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বাস্থ্যবান, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজই দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সক্ষম।
আজকের কম্পন আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে— দুর্যোগ প্রস্তুতি শুধু প্রযুক্তি বা পরিকল্পনার বিষয় নয়; এটি সামাজিক মূল্যবোধ, দায়বদ্ধতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়।
[উপস্থাপিত তথ্য, বিশ্লেষণ ও মতামত সম্পূর্ণরূপে লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি। এটি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষের অবস্থান বা দাবি নয়।]
লেখক: ব্যাংকার ও সমাজ পর্যবেক্ষক

ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমসের মতো, প্রায়শই ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানবিক সাফল্যের উৎসব হিসাবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু জৌলুস আর আড়ম্বরের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ এক বাস্তবতা: মেগা-ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
৯ দিন আগে
প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ, দ্রুত এবং বিশ্বসংযুক্ত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্ব নতুন কিছু সামাজিক, মানসিক ও শিক্ষাগত সংকটও তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্ফোরণমূলক বিস্তার শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের বিকাশ, শিক্ষাগ্রহণ, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এ
১১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে বাংলাদেশকে এখন আর কেবল একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার উদীয়মান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
১১ দিন আগে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আসসালামু আলাইকুম। এই চিঠি আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না, জানি না। কিন্তু আমি জানি, বাংলাদেশের মাটি, নদী, মাঠ, জনপদ, শহর, বন্দর, শ্রমিক কলোনি, চরাঞ্চল, পাহাড়, চা বাগান এবং বস্তির মধ্যে যে দীর্ঘশ্বাস প্রতিদিন ঘুরে বেড়ায়, তার ভাষা একদিন না একদিন রাষ্ট্রের দরজায় কড়া নাড়বেই।
১২ দিন আগে