
শরিফুজ্জামান পিন্টু

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা নারী শিক্ষা নিয়ে একটি বিতর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।তাঁর বক্তব্য ছিল— গত কয়েক দশক ধরে নারী শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যদি নারী ও পুরুষের সমান অধিকার থাকে, তাহলে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্যও একই ধরনের অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।
সংসদে আলোচনার পর নিজের বক্তব্যের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন নুরুন্নিসা। তিনি মনে করেন, ‘মেয়েদের মতো ছেলেরাও যদি অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ পেত, তাহলে কষ্ট করে মা-বাবা তাদেরও কিছুদিন পড়াতেন। একই পরিবারে মেয়েটা পড়ছে অবৈতনিকভাবে, আর ছেলেটাকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাজে। কারণ লেখাপড়ার খরচ চালানোর সামর্থ্য মা-বাবার নেই।’
জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদ্য আরও লিখেছেন, “এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা আমাদের সমাজ, আমাদের সরকার বসে বসে দেখছে? সবাই চিৎকার করছে ‘নারী শিক্ষা’, ‘নারী শিক্ষা’। কিন্তু পুরুষ শিক্ষিত না হলে সেই নারীকে মূল্যায়ন করবে কে? এ কথাটা কি একবারও মাথায় আসে না? কাজেই আমার দাবি, দশম শ্রেণি পর্যন্ত সকল ছেলে-মেয়ের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু হোক। মেয়েদের মতো ছেলেদের জন্যও শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হোক।”
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন। এর আগের দিন বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের মতো ছেলে শিক্ষার্থীদেরও অবৈতনিক শিক্ষার দাবি জানান।
প্রথম দৃষ্টিতে এমপি নুরুন্নিসার বক্তব্যকে সমঅধিকারের পক্ষে একটি যুক্তি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও জননীতির আলোচনায় সমতা (Equality) ও ন্যায়সঙ্গত সমতা (Equity) এক বিষয় নয়। অনেক সময় সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দিতে হয়। এই ধারণাকেই বলা হয় Affirmative Action বা Positive Action।
ধরা যাক, দুজন শিক্ষার্থী একই দৌড়ে অংশ নিচ্ছে। একজন সমতল রাস্তা থেকে দৌড় শুরু করছে, আরেকজন ১০ ফুট নিচের একটি গর্ত থেকে। উভয়কে একই নিয়মে দৌড়াতে বলা মানেই সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নয়। যে পিছিয়ে আছে, তাকে আগে ওপরে উঠতে সহায়তা করতে হয়। রাষ্ট্রীয় নীতিতে ‘অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন’ ঠিক এই কাজটিই করে।
বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি বা অবৈতনিক শিক্ষা চালু হওয়ার আগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক ছাত্রী অর্থনৈতিক সংকট, বাল্যবিয়ে ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বিদ্যালয় ছেড়ে দিত। উপবৃত্তি চালুর পর মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও উত্তীর্ণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এটি কেবল একটি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি ছিল না, এটি দীর্ঘমেয়াদে নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করেছে।
এই নীতির পেছনে ইতিহাসও আছে। দারিদ্র্যপীড়িত শিশুদের স্কুলে গমন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি গ্রহণ করে। ২০০২ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয়। ২০০৮ থেকে ২০১৩ মেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য দ্বিতীয় উপবৃত্তি প্রকল্প চালু হয়। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রথম চালু হয় ১৯৯১ সালে, যার পরিধি পরে বেড়েছে এবং এখনো চালু রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পারস্পরিক বিরোধিতা প্রকাশ্য। তবু নারী শিক্ষা, উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা ও বিনামূল্যে বই বিতরণের মতো কর্মসূচিগুলো দুই সরকারের সময়ই ধারাবাহিকভাবে চলমান ছিল।
২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় নতুন উদ্যমে ও অর্থ সহায়তা বাড়িয়ে উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার মূল সুবিধাভোগী এ দেশের নারী শিক্ষার্থীরা। এর আগে আসে অবৈতনিক শিক্ষা, যার সুফল নারী শিক্ষার্থীরা পেলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশ ও সমাজের ওপর।
সরকারের এসব প্রকল্প নারী শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাল্যবিয়ে ও বাল্যশ্রমের মতো সামাজিক ব্যাধি হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া এটি মেয়েদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার হার কমানো ও উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নব্বই-পরবর্তী দীর্ঘ এই যাত্রায় কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিল, তারপরও শিক্ষায় যে সুফল এসেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে দেশে সার্বিকভাবে শিক্ষায় পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গসমতা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি বৈশ্বিক অঙ্গনেও প্রশংসিত। উচ্চশিক্ষায়ও নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে।
সব মিলিয়ে উপবৃত্তি, বিনামূল্যের বই ও অবৈতনিক শিক্ষা দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ভর্তির হার বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, প্রাথমিক শিক্ষা চক্রের সমাপ্তির হার বৃদ্ধি, শিশুশ্রম রোধ, দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবু বাংলাদেশে নারী শিক্ষার্থী বা নারীদের জন্য বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে— এ কথা এখনো বলা যায় না। যদি তাই হতো, তাহলে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রয়োজন হতো না, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোটা রাখারও প্রয়োজন ছিল না। নুরুন্নিসা সিদ্দীকার মতো নারীরা সংরক্ষিত নারী আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে আসতেন।
চারপাশে এখনো দেখা যায় বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক সমস্যা। যৌতুক প্রথা এখনো সদম্ভে বিদ্যমান, যদিও আইনের কারণে তা কিছুটা আড়ালে-আবডালে চলে গেছে। দরিদ্র পরিবারের যৌতুক এক রকম, উচ্চবিত্তের যৌতুকের ধরন আরেক রকম, যা আমরা চারপাশে তাকালেই দেখতে পাই। নারী নির্যাতন চলছেই। অপুষ্ট শরীরে কিশোরীরা গর্ভধারণ করে এবং অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেয়।
বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এখনো অনেক কিশোরী মাধ্যমিকের আগেই পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়। উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পরও চাকরির বাজারে নারীরা সমান সুযোগ পান না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, স্নাতক পাস নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অর্থাৎ, শিক্ষাগত অগ্রগতি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বৈষম্য রয়ে গেছে।
এ বাস্তবতায় নারী শিক্ষায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার যৌক্তিকতা অনেক নীতিনির্ধারক সমর্থন করেন। বাংলাদেশের সাবেক দুই নারী প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানও এ বিষয়ে ছিল অভিন্ন। নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্তরায় কেউ হননি, বরং একে অন্যের উদ্যোগকে নীরবে এগিয়ে নিয়েছেন। সেখানে প্রশ্ন ওঠে— একজন নারী, একজন শিক্ষিকা, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেত্রী এবং একজন সাংসদ কি পিছিয়ে থাকা বা বৈষম্যের শিকার নারীদের যোগ্যতায় পুরুষের সঙ্গে এক কাতারে দেখতে চান না?
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তাই দেখায়— নারী শিক্ষায় বিশেষ প্রণোদনা কোনো অযৌক্তিক দাবি নয়, বরং পিছিয়ে থাকা একটি জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার নীতিগত উপায়। এই বাস্তবতা শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বহু দেশ পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছে।
ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটিগুলোতে কয়েক বছর আগে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম ছিল। পরে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আসন সংযোজন করা হয়। এর ফলে নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, অথচ প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক মান কমেনি।
গণহত্যার পর রুয়ান্ডা সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন চালু করে। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ নারী সংসদ সদস্যের হার রুয়ান্ডাতেই। অনেক গবেষক মনে করেন, এতে আইন প্রণয়ন ও সামাজিক নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
নরওয়েতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে নারীদের ন্যূনতম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আইন করা হয়। শুরুতে বিতর্ক থাকলেও বর্তমানে এটি ইউরোপের করপোরেট গভর্ন্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন চালু ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ নিশ্চিত করা।
এই আন্তর্জাতিক উদাহরণগুলো দেখায়, পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া বৈষম্য নয়, বরং বৈষম্য কমানোর একটি স্বীকৃত নীতি। তাই ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার দাবি নুরুন্নিসা তুলতেই পারেন। কিন্তু নারী শিক্ষার সঙ্গে এর তুলনা হতেই পারে না। বরং এ দাবিকে নারী শিক্ষার অন্তরায় বলা চলে।
এ কথা সবারই জানা, বাংলাদেশের একটি বিশেষ গোষ্ঠী চায় না নারীরা শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাক। কারণ নারীরা এগিয়ে গেলে, শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হলে তাদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা নিজে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে এসেছেন। সংরক্ষিত আসনের দর্শনও অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর উদ্দেশ্য এমন একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, যারা সাধারণ নির্বাচনি কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে কম প্রতিনিধিত্ব পায়।
সে কারণেই একটি নীতিগত প্রশ্ন সামনে আসে— যদি নারী শিক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে নারী সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিত। উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র একই ধরনের নীতিগত যুক্তি ব্যবহার করে।
বিষয়টি রাজনৈতিক কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব নারী নেতৃত্বের সীমা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। এ কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
এর আগে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নারীরা দলের আমির হতে পারবেন না। পরে দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। নুরুন্নিসা সিদ্দীকারা সে সময়ও আমিরের মুখ রক্ষায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ‘নারীরা জামায়াতের শীর্ষ পদে আসতে পারবেন না, এটি মেনেই আমরা রাজনীতি করি।’
সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, নারী নেতৃত্ব, নারী শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা— এই তিনটি বিষয়ে দলের সামগ্রিক নীতিগত অবস্থান কী?
নুরুন্নিসা সিদ্দীকার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেকেই দলের বৃহত্তর রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে মূল্যায়ন করছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি। এখানে মূল প্রশ্নটি ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, বরং নীতিকে ঘিরে।
গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো নীতির সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই আলোচনাটি হওয়া উচিত তথ্য, গবেষণা ও সামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে। নারী শিক্ষায় রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু সেই বিতর্কে বাংলাদেশের বিদ্যমান বৈষম্য, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ‘অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশনে’র মূল দর্শনকে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
কারণ প্রশ্নটি কেবল একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য নয়; এটি বাংলাদেশের নারী শিক্ষা, সমঅধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনা।
লেখক: সাংবাদিক

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা নারী শিক্ষা নিয়ে একটি বিতর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।তাঁর বক্তব্য ছিল— গত কয়েক দশক ধরে নারী শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যদি নারী ও পুরুষের সমান অধিকার থাকে, তাহলে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্যও একই ধরনের অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।
সংসদে আলোচনার পর নিজের বক্তব্যের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন নুরুন্নিসা। তিনি মনে করেন, ‘মেয়েদের মতো ছেলেরাও যদি অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ পেত, তাহলে কষ্ট করে মা-বাবা তাদেরও কিছুদিন পড়াতেন। একই পরিবারে মেয়েটা পড়ছে অবৈতনিকভাবে, আর ছেলেটাকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাজে। কারণ লেখাপড়ার খরচ চালানোর সামর্থ্য মা-বাবার নেই।’
জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদ্য আরও লিখেছেন, “এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা আমাদের সমাজ, আমাদের সরকার বসে বসে দেখছে? সবাই চিৎকার করছে ‘নারী শিক্ষা’, ‘নারী শিক্ষা’। কিন্তু পুরুষ শিক্ষিত না হলে সেই নারীকে মূল্যায়ন করবে কে? এ কথাটা কি একবারও মাথায় আসে না? কাজেই আমার দাবি, দশম শ্রেণি পর্যন্ত সকল ছেলে-মেয়ের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু হোক। মেয়েদের মতো ছেলেদের জন্যও শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হোক।”
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন। এর আগের দিন বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের মতো ছেলে শিক্ষার্থীদেরও অবৈতনিক শিক্ষার দাবি জানান।
প্রথম দৃষ্টিতে এমপি নুরুন্নিসার বক্তব্যকে সমঅধিকারের পক্ষে একটি যুক্তি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও জননীতির আলোচনায় সমতা (Equality) ও ন্যায়সঙ্গত সমতা (Equity) এক বিষয় নয়। অনেক সময় সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দিতে হয়। এই ধারণাকেই বলা হয় Affirmative Action বা Positive Action।
ধরা যাক, দুজন শিক্ষার্থী একই দৌড়ে অংশ নিচ্ছে। একজন সমতল রাস্তা থেকে দৌড় শুরু করছে, আরেকজন ১০ ফুট নিচের একটি গর্ত থেকে। উভয়কে একই নিয়মে দৌড়াতে বলা মানেই সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নয়। যে পিছিয়ে আছে, তাকে আগে ওপরে উঠতে সহায়তা করতে হয়। রাষ্ট্রীয় নীতিতে ‘অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন’ ঠিক এই কাজটিই করে।
বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি বা অবৈতনিক শিক্ষা চালু হওয়ার আগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক ছাত্রী অর্থনৈতিক সংকট, বাল্যবিয়ে ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বিদ্যালয় ছেড়ে দিত। উপবৃত্তি চালুর পর মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও উত্তীর্ণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এটি কেবল একটি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি ছিল না, এটি দীর্ঘমেয়াদে নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করেছে।
এই নীতির পেছনে ইতিহাসও আছে। দারিদ্র্যপীড়িত শিশুদের স্কুলে গমন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি গ্রহণ করে। ২০০২ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয়। ২০০৮ থেকে ২০১৩ মেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য দ্বিতীয় উপবৃত্তি প্রকল্প চালু হয়। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রথম চালু হয় ১৯৯১ সালে, যার পরিধি পরে বেড়েছে এবং এখনো চালু রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পারস্পরিক বিরোধিতা প্রকাশ্য। তবু নারী শিক্ষা, উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা ও বিনামূল্যে বই বিতরণের মতো কর্মসূচিগুলো দুই সরকারের সময়ই ধারাবাহিকভাবে চলমান ছিল।
২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় নতুন উদ্যমে ও অর্থ সহায়তা বাড়িয়ে উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার মূল সুবিধাভোগী এ দেশের নারী শিক্ষার্থীরা। এর আগে আসে অবৈতনিক শিক্ষা, যার সুফল নারী শিক্ষার্থীরা পেলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশ ও সমাজের ওপর।
সরকারের এসব প্রকল্প নারী শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাল্যবিয়ে ও বাল্যশ্রমের মতো সামাজিক ব্যাধি হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া এটি মেয়েদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার হার কমানো ও উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নব্বই-পরবর্তী দীর্ঘ এই যাত্রায় কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিল, তারপরও শিক্ষায় যে সুফল এসেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে দেশে সার্বিকভাবে শিক্ষায় পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গসমতা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি বৈশ্বিক অঙ্গনেও প্রশংসিত। উচ্চশিক্ষায়ও নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে।
সব মিলিয়ে উপবৃত্তি, বিনামূল্যের বই ও অবৈতনিক শিক্ষা দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ভর্তির হার বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, প্রাথমিক শিক্ষা চক্রের সমাপ্তির হার বৃদ্ধি, শিশুশ্রম রোধ, দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবু বাংলাদেশে নারী শিক্ষার্থী বা নারীদের জন্য বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে— এ কথা এখনো বলা যায় না। যদি তাই হতো, তাহলে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রয়োজন হতো না, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোটা রাখারও প্রয়োজন ছিল না। নুরুন্নিসা সিদ্দীকার মতো নারীরা সংরক্ষিত নারী আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে আসতেন।
চারপাশে এখনো দেখা যায় বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক সমস্যা। যৌতুক প্রথা এখনো সদম্ভে বিদ্যমান, যদিও আইনের কারণে তা কিছুটা আড়ালে-আবডালে চলে গেছে। দরিদ্র পরিবারের যৌতুক এক রকম, উচ্চবিত্তের যৌতুকের ধরন আরেক রকম, যা আমরা চারপাশে তাকালেই দেখতে পাই। নারী নির্যাতন চলছেই। অপুষ্ট শরীরে কিশোরীরা গর্ভধারণ করে এবং অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেয়।
বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এখনো অনেক কিশোরী মাধ্যমিকের আগেই পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়। উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পরও চাকরির বাজারে নারীরা সমান সুযোগ পান না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, স্নাতক পাস নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অর্থাৎ, শিক্ষাগত অগ্রগতি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বৈষম্য রয়ে গেছে।
এ বাস্তবতায় নারী শিক্ষায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার যৌক্তিকতা অনেক নীতিনির্ধারক সমর্থন করেন। বাংলাদেশের সাবেক দুই নারী প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানও এ বিষয়ে ছিল অভিন্ন। নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্তরায় কেউ হননি, বরং একে অন্যের উদ্যোগকে নীরবে এগিয়ে নিয়েছেন। সেখানে প্রশ্ন ওঠে— একজন নারী, একজন শিক্ষিকা, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেত্রী এবং একজন সাংসদ কি পিছিয়ে থাকা বা বৈষম্যের শিকার নারীদের যোগ্যতায় পুরুষের সঙ্গে এক কাতারে দেখতে চান না?
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তাই দেখায়— নারী শিক্ষায় বিশেষ প্রণোদনা কোনো অযৌক্তিক দাবি নয়, বরং পিছিয়ে থাকা একটি জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার নীতিগত উপায়। এই বাস্তবতা শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বহু দেশ পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছে।
ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটিগুলোতে কয়েক বছর আগে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম ছিল। পরে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আসন সংযোজন করা হয়। এর ফলে নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, অথচ প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক মান কমেনি।
গণহত্যার পর রুয়ান্ডা সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন চালু করে। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ নারী সংসদ সদস্যের হার রুয়ান্ডাতেই। অনেক গবেষক মনে করেন, এতে আইন প্রণয়ন ও সামাজিক নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
নরওয়েতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে নারীদের ন্যূনতম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আইন করা হয়। শুরুতে বিতর্ক থাকলেও বর্তমানে এটি ইউরোপের করপোরেট গভর্ন্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন চালু ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ নিশ্চিত করা।
এই আন্তর্জাতিক উদাহরণগুলো দেখায়, পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া বৈষম্য নয়, বরং বৈষম্য কমানোর একটি স্বীকৃত নীতি। তাই ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার দাবি নুরুন্নিসা তুলতেই পারেন। কিন্তু নারী শিক্ষার সঙ্গে এর তুলনা হতেই পারে না। বরং এ দাবিকে নারী শিক্ষার অন্তরায় বলা চলে।
এ কথা সবারই জানা, বাংলাদেশের একটি বিশেষ গোষ্ঠী চায় না নারীরা শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাক। কারণ নারীরা এগিয়ে গেলে, শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হলে তাদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা নিজে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে এসেছেন। সংরক্ষিত আসনের দর্শনও অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর উদ্দেশ্য এমন একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, যারা সাধারণ নির্বাচনি কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে কম প্রতিনিধিত্ব পায়।
সে কারণেই একটি নীতিগত প্রশ্ন সামনে আসে— যদি নারী শিক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে নারী সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিত। উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র একই ধরনের নীতিগত যুক্তি ব্যবহার করে।
বিষয়টি রাজনৈতিক কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব নারী নেতৃত্বের সীমা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। এ কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
এর আগে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নারীরা দলের আমির হতে পারবেন না। পরে দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। নুরুন্নিসা সিদ্দীকারা সে সময়ও আমিরের মুখ রক্ষায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ‘নারীরা জামায়াতের শীর্ষ পদে আসতে পারবেন না, এটি মেনেই আমরা রাজনীতি করি।’
সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, নারী নেতৃত্ব, নারী শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা— এই তিনটি বিষয়ে দলের সামগ্রিক নীতিগত অবস্থান কী?
নুরুন্নিসা সিদ্দীকার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেকেই দলের বৃহত্তর রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে মূল্যায়ন করছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি। এখানে মূল প্রশ্নটি ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, বরং নীতিকে ঘিরে।
গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো নীতির সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই আলোচনাটি হওয়া উচিত তথ্য, গবেষণা ও সামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে। নারী শিক্ষায় রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু সেই বিতর্কে বাংলাদেশের বিদ্যমান বৈষম্য, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ‘অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশনে’র মূল দর্শনকে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
কারণ প্রশ্নটি কেবল একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য নয়; এটি বাংলাদেশের নারী শিক্ষা, সমঅধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনা।
লেখক: সাংবাদিক

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শঙ্কা— যে দুটি বিষয়কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন— সেগুলো এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। ইঙ্গিত মিলছে, কাঠামোগত চুক্তির পরবর্তী আলোচনায় এসব বিষয়ই
৮ দিন আগে
বর্তমান সরকার হাম প্রতিরোধে সকল ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই বর্তমান সরকারের ওপর বর্তায় না। তাহলে এক্ষেত্রে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে বাধা কোথায়? হামে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা হলে, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব
৯ দিন আগে
সাম্প্রতিক সময়ের তিনটি আলোচিত ঘটনা যেন একই নাটকের তিনটি দৃশ্য। চরিত্র আলাদা, সংলাপ আলাদা, কিন্তু প্রশ্ন একটাই— প্রকৃত সত্য কী? সবটাই যে সত্য, তা নয়। আবার সবটাই যে মিথ্যা, সেটিও বলা যায় না। আর এই ধূসর অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয় হয় জনবিশ্বাসের।
১১ দিন আগে
ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমসের মতো, প্রায়শই ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানবিক সাফল্যের উৎসব হিসাবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু জৌলুস আর আড়ম্বরের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ এক বাস্তবতা: মেগা-ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
১৫ দিন আগে