
স ম গোলাম কিবরিয়া

একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের ৪ তারিখও ছিল ঘটনাবহুল। প্রতিদিনই সেনাবাহিনীর বেপরোয়া নির্মম আচরণ চলতে থাকে। জবাবে বাঙালি আরও বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। আগের দিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিকামী বাঙালিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন ছাত্রনেতারা। ওই দিন থেকেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ইয়াহিয়ার শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় বাঙালিরা গর্জে ওঠে।
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদে ১লা মার্চ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ২রা ও ৩রা মার্চ ঢাকায় সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। দুই দিনের হরতালে সেনাবাহিনী ও সরকারের পেটোয়া বাহিনীর হামলায় হরতাল পালনকারীদের অনেকেই হতাহত হন। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ও দুই দিনের গণহত্যার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ৪ঠা মার্চ থেকে ৬ই মার্চ পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা বাংলায় দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল আহ্বান করেন। এদিন ঢাকাসহ সারা বাংলায় সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। পূর্ব বাংলার বেসামরিক শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। খুলনায় সেনাবাহিনীর গুলিতে ৬ জন শহিদ হন। দুই দিনে চট্টগ্রামে প্রাণহানি দাঁড়ায় ১২১ জনে।
আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে সেনাবাহিনী গুলি চালালে অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত মুমূর্ষু বীর সংগ্রামীদের প্রাণরক্ষার্থে বঙ্গবন্ধু রক্ত দেওয়ার আহ্বান জানান। শত শত নারী-পুরুষ ও ছাত্রছাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫ ও ৬ই মার্চ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেসব সরকারি ও বেসরকারি অফিসে কর্মচারীরা এখনো বেতন পাননি, শুধু বেতন প্রদানের জন্য সেসব অফিস আড়াইটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বাংলাদেশের জন্য অনধিক ১ হাজার ৫০০ টাকা পরিমাণ বেতনের চেকই কেবল ক্যাশ করা যাবে। স্টেট ব্যাংকের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে বাংলাদেশের বাইরে কোনো টাকা পাঠানো যাবে না। বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, চরম ত্যাগ স্বীকার ছাড়া কোনো দিন কোনো জাতির মুক্তি আসেনি। তিনি উপনিবেশবাদী শোষণ ও শাসন অব্যাহত রাখার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানে সাড়া দেওয়ায় বীর জাতিকে অভিনন্দন জানান।
এ দিন এক বিবৃতিতে পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেন, দেশের মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বাঙালি বা অবাঙালি— সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা ও পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ওরা সাম্রাজ্যবাদের দালাল। ওদের শোষণ-নির্যাতনে ৮৫ ভাগ বাঙালি আজ প্রায় মৃত্যুর সম্মুখীন। সুতরাং যে ব্যক্তি, যে রাজনৈতিক দল অথবা যে রাজনৈতিক নেতা পশ্চিমাদের সঙ্গে কিংবা সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে কোনো রকম আঁতাত করবে বা করতে যাবে, সে শুধু তার নিজস্ব ক্ষেত্র থেকে বিতাড়িত হবে তা নয়, বরং তার জানমালও বিপন্ন হবে।
করাচি প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান দেশকে বিচ্ছিন্নতার হাত থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের কাছে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। পিডিপি প্রধান নূরুল আমীন এক বিবৃতিতে ১০ই মার্চ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে প্রেসিডেন্টকে অবিলম্বে ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার দাবি জানান।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের সংহতির জন্য তাঁর দল যতদূর সম্ভব ৬-দফার কাছাকাছি হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানের বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতির অবসানের জন্য তিনি এখন জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে রাজি হবেন কি না— এ প্রশ্নের জবাবে ভুট্টো বলেন, ‘ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত ঘটছে। এ সম্পর্কে অবহিত করার জন্য আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ জন শিক্ষক পৃথক পৃথক বিবৃতিতে ঢাকার ‘পাকিস্তান অবজারভার’ পত্রিকার গণবিরোধী ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আজ থেকে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’ এবং পাকিস্তান টেলিভিশন ‘ঢাকা টেলিভিশন’ হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে। বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পীরা এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, যতদিন পর্যন্ত দেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ সংগ্রামে লিপ্ত থাকবেন, ততদিন পর্যন্ত বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে তারা অংশ নেবেন না। এই বিবৃতিতে সই করেন লায়লা আর্জুমান্দ বেগম, আফসারী খানম, আতীকুল ইসলাম, ফেরদৌসী রহমান, মুস্তফা জামান আব্বাসী, গোলাম মোস্তফা, হাসান ইমাম, জাহেদুর রহিম, আলতাফ মাহমুদ, ওয়াহিদুল হক, এ এম হামিদসহ আরও কয়েকজন।
পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন এ দিন জরুরি এক সভায় বাংলার জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানায়। ওই সভা থেকে ৬ই মার্চ সাংবাদিকদের মিছিল এবং বায়তুল মোকাররমে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
লেখক: চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক

একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের ৪ তারিখও ছিল ঘটনাবহুল। প্রতিদিনই সেনাবাহিনীর বেপরোয়া নির্মম আচরণ চলতে থাকে। জবাবে বাঙালি আরও বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। আগের দিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিকামী বাঙালিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন ছাত্রনেতারা। ওই দিন থেকেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ইয়াহিয়ার শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় বাঙালিরা গর্জে ওঠে।
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদে ১লা মার্চ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ২রা ও ৩রা মার্চ ঢাকায় সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। দুই দিনের হরতালে সেনাবাহিনী ও সরকারের পেটোয়া বাহিনীর হামলায় হরতাল পালনকারীদের অনেকেই হতাহত হন। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ও দুই দিনের গণহত্যার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ৪ঠা মার্চ থেকে ৬ই মার্চ পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা বাংলায় দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল আহ্বান করেন। এদিন ঢাকাসহ সারা বাংলায় সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। পূর্ব বাংলার বেসামরিক শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। খুলনায় সেনাবাহিনীর গুলিতে ৬ জন শহিদ হন। দুই দিনে চট্টগ্রামে প্রাণহানি দাঁড়ায় ১২১ জনে।
আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে সেনাবাহিনী গুলি চালালে অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত মুমূর্ষু বীর সংগ্রামীদের প্রাণরক্ষার্থে বঙ্গবন্ধু রক্ত দেওয়ার আহ্বান জানান। শত শত নারী-পুরুষ ও ছাত্রছাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫ ও ৬ই মার্চ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেসব সরকারি ও বেসরকারি অফিসে কর্মচারীরা এখনো বেতন পাননি, শুধু বেতন প্রদানের জন্য সেসব অফিস আড়াইটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বাংলাদেশের জন্য অনধিক ১ হাজার ৫০০ টাকা পরিমাণ বেতনের চেকই কেবল ক্যাশ করা যাবে। স্টেট ব্যাংকের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে বাংলাদেশের বাইরে কোনো টাকা পাঠানো যাবে না। বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, চরম ত্যাগ স্বীকার ছাড়া কোনো দিন কোনো জাতির মুক্তি আসেনি। তিনি উপনিবেশবাদী শোষণ ও শাসন অব্যাহত রাখার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানে সাড়া দেওয়ায় বীর জাতিকে অভিনন্দন জানান।
এ দিন এক বিবৃতিতে পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেন, দেশের মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বাঙালি বা অবাঙালি— সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা ও পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ওরা সাম্রাজ্যবাদের দালাল। ওদের শোষণ-নির্যাতনে ৮৫ ভাগ বাঙালি আজ প্রায় মৃত্যুর সম্মুখীন। সুতরাং যে ব্যক্তি, যে রাজনৈতিক দল অথবা যে রাজনৈতিক নেতা পশ্চিমাদের সঙ্গে কিংবা সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে কোনো রকম আঁতাত করবে বা করতে যাবে, সে শুধু তার নিজস্ব ক্ষেত্র থেকে বিতাড়িত হবে তা নয়, বরং তার জানমালও বিপন্ন হবে।
করাচি প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান দেশকে বিচ্ছিন্নতার হাত থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের কাছে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। পিডিপি প্রধান নূরুল আমীন এক বিবৃতিতে ১০ই মার্চ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে প্রেসিডেন্টকে অবিলম্বে ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার দাবি জানান।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের সংহতির জন্য তাঁর দল যতদূর সম্ভব ৬-দফার কাছাকাছি হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানের বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতির অবসানের জন্য তিনি এখন জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে রাজি হবেন কি না— এ প্রশ্নের জবাবে ভুট্টো বলেন, ‘ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত ঘটছে। এ সম্পর্কে অবহিত করার জন্য আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ জন শিক্ষক পৃথক পৃথক বিবৃতিতে ঢাকার ‘পাকিস্তান অবজারভার’ পত্রিকার গণবিরোধী ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আজ থেকে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’ এবং পাকিস্তান টেলিভিশন ‘ঢাকা টেলিভিশন’ হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে। বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পীরা এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, যতদিন পর্যন্ত দেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ সংগ্রামে লিপ্ত থাকবেন, ততদিন পর্যন্ত বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে তারা অংশ নেবেন না। এই বিবৃতিতে সই করেন লায়লা আর্জুমান্দ বেগম, আফসারী খানম, আতীকুল ইসলাম, ফেরদৌসী রহমান, মুস্তফা জামান আব্বাসী, গোলাম মোস্তফা, হাসান ইমাম, জাহেদুর রহিম, আলতাফ মাহমুদ, ওয়াহিদুল হক, এ এম হামিদসহ আরও কয়েকজন।
পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন এ দিন জরুরি এক সভায় বাংলার জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানায়। ওই সভা থেকে ৬ই মার্চ সাংবাদিকদের মিছিল এবং বায়তুল মোকাররমে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
লেখক: চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
১৬ দিন আগে
মানুষের জীবনে কিছু প্রয়োজন আছে, যেগুলো নিয়ে কোনো আপস চলে না। খাদ্য তার প্রথম সারিতে। সকালে শ্রমজীবী মানুষের নাশতার রুটি, দুপুরে পরিবারের ভাতের হাঁড়ি, কৃষকের গোলায় ধান কিংবা দুর্যোগে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়া খাদ্যসহায়তা—সবকিছুর পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনার কেন
১৮ দিন আগে
বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঢাকার রাস্তায় যখন নারী চালক, নারী সহকারী আর নারী যাত্রীদের নিয়ে বাস চলছে, তখন সেটা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার ভেতরেই কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, যে প্রশ্নগুলো শুধু বাসের রং নিয়ে নয়, বরং আ
১৯ দিন আগে
মানুষের একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে— সে নিজেকে যেমন, তার চেয়ে একটু ভালো করে দেখাতে চায়। আগে এই প্রবণতার সীমা ছিল পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, অফিস কিংবা বন্ধুমহল পর্যন্ত। এখন সেই ছোট পরিসরটি বিস্ফোরিত হয়ে গেছে। হাতে একটি স্মার্টফোন, সামনে একটি ক্যামেরা, আর পেছনে কোটি কোটি দর্শকের সম্ভাবনা। ফলে মানুষ এখন
২০ দিন আগে