
এ এম কামরুল ইসলাম

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস বলে, কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচার টিকে থাকে তখনই, যখন তার বিরুদ্ধে কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না। প্রতিবাদ যদি কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকে, তার প্রভাব অনেক সময় ক্ষণস্থায়ী হয়। কিন্তু কূটনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যুক্ত হলে সেই প্রতিবাদ দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
ভারতের মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বহু বছর ধরেই দেশ-বিদেশে উদ্বেগ ও বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বিজেপির শাসনামলে ধর্মীয় মেরুকরণ, সংখ্যালঘু অধিকার ও নাগরিক সমতার প্রশ্নে নানা সমালোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে এটিও সত্য, ভারতের সমাজ কোনো একক রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না। সেখানে অসংখ্য নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু অধিকারের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।
তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত— মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত?
আমার মতে, এর উত্তর সহিংসতা, প্রতিশোধ বা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ নয়। বরং প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ কূটনীতি, মানবাধিকারের পক্ষে দৃঢ় আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা। এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসতে পারে একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারণা— ‘ইসলামি দিনার’।
আধুনিক বিশ্বে অর্থনীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে কার্যকর শক্তিগুলোর একটি। একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করে তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক বাজারে অবস্থানের ওপর। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিপুল জ্বালানি, খনিজ, কৃষি, জনশক্তি ও ভৌগোলিক সম্ভাবনার অধিকারী। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন, আঞ্চলিক সংঘাত, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সমন্বয়ের অভাবে সেই শক্তি আজও পূর্ণ বিকাশ লাভ করতে পারেনি।
এ বাস্তবতায় মুসলিম দেশগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো। সেই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমন্বয়ের প্রতীক হতে পারে একটি অভিন্ন হিসাব একক বা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মুদ্রা— ‘ইসলামি দিনার’।
তবে এর অর্থ এই নয়— সব মুসলিম দেশ অবিলম্বে নিজেদের জাতীয় মুদ্রা বাতিল করে নতুন মুদ্রা চালু করবে। বাস্তবে তা অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে সদস্য দেশগুলো নিজেদের জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করেই পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়াতে পারে। এরপর একটি যৌথ পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে, যেন আন্তর্জাতিক লেনদেনে তৃতীয় কোনো মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমে।
এর পরবর্তী পর্যায়ে একটি অভিন্ন হিসাব একক চালু করা যেতে পারে, যা কেবল আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্যে ব্যবহৃত হবে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সমন্বয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই একটি অভিন্ন মুদ্রার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এ ধারণার সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী যৌথ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কার্যকর অর্থনৈতিক সমন্বয় এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে একটি সুপরিকল্পিত কাঠামো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ‘ইসলামি দিনার’ যেন কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রতীক না হয়। বরং এটি হোক শান্তি, ন্যায়, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক। অর্থাৎ আমরা কোনো দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নই, আমরা অন্যায়, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে। এই নৈতিক অবস্থান মুসলিম বিশ্বের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও বাড়াতে পারে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ও মুসলিম বিশ্বের বহু দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তাই ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি সবসময় কাম্যও নয়। বরং সম্পর্ক বজায় রেখেই সংখ্যালঘু অধিকার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে কূটনৈতিকভাবে উদ্বেগ জানানো, আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর আওতায় শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণই হতে পারে কার্যকর পথ।
তবে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাইরের কোনো শক্তি নয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। সুন্নি-শিয়া বিভাজন, আরব-অনারব বৈরিতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্মিলিত শক্তিকে দুর্বল করেছে। তাই কোনো অভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগের আগে প্রয়োজন আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন উন্নয়ন-দর্শন গড়ে তোলা।
এ ভিত্তির প্রধান স্তম্ভ হতে হবে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং শান্তিপূর্ণ কূটনীতি। কারণ যে সমাজ নিজের নাগরিকের জন্য উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, শুধু নতুন মুদ্রা চালু করলেই সে শক্তিশালী হয়ে ওঠে না।
একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের মানবাধিকার নীতিও হতে হবে সর্বজনীন। ভারতে মুসলিমদের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, আদিবাসী বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধেও সমানভাবে সোচ্চার হতে হবে। কারণ মানবাধিকার ধর্ম, জাতি বা ভূগোলভেদে ভিন্ন হতে পারে না। ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান তখনই বিশ্বাসযোগ্য হয়, যখন তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
‘ইসলামি দিনার’ হয়তো আজ একটি ধারণা, হয়তো আগামীকালও তার বাস্তবায়ন হবে না। কিন্তু প্রতিটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয় একটি দূরদর্শী চিন্তা থেকে। মুসলিম বিশ্বের প্রয়োজন এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াবে, স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধি করবে, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবে এবং মানবসম্পদকে কাজে লাগাবে। ভবিষ্যতে সেই অর্থনৈতিক সমন্বয় যদি কোনো অভিন্ন মুদ্রার জন্ম দেয়, তার নাম যা-ই হোক, সেটি যেন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সহযোগিতা ও শান্তির প্রতীক হয়।
ভারতের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে সেই প্রতিবাদ ঘৃণার ভাষায় নয়, ন্যায়বিচারের ভাষায়; প্রতিশোধের ভাষায় নয়, মানবাধিকারের ভাষায়। কারণ সত্যিকারের শক্তিশালী জাতি অন্যকে দুর্বল করার ক্ষমতায় নয়, বরং নিজের জনগণকে শিক্ষিত, সমৃদ্ধ, মর্যাদাবান ও নিরাপদ করে তোলার সক্ষমতায় বড় হয়ে ওঠে।
আজকের আহ্বান হতে পারে— ঐক্য হোক সহযোগিতার, প্রতিবাদ হোক শান্তিপূর্ণ, আর অর্থনৈতিক শক্তি হোক ন্যায়, মানবতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।
লেখক: সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা, সোনামুখ পরিবার

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস বলে, কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচার টিকে থাকে তখনই, যখন তার বিরুদ্ধে কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না। প্রতিবাদ যদি কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকে, তার প্রভাব অনেক সময় ক্ষণস্থায়ী হয়। কিন্তু কূটনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যুক্ত হলে সেই প্রতিবাদ দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
ভারতের মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বহু বছর ধরেই দেশ-বিদেশে উদ্বেগ ও বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বিজেপির শাসনামলে ধর্মীয় মেরুকরণ, সংখ্যালঘু অধিকার ও নাগরিক সমতার প্রশ্নে নানা সমালোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে এটিও সত্য, ভারতের সমাজ কোনো একক রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না। সেখানে অসংখ্য নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু অধিকারের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।
তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত— মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত?
আমার মতে, এর উত্তর সহিংসতা, প্রতিশোধ বা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ নয়। বরং প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ কূটনীতি, মানবাধিকারের পক্ষে দৃঢ় আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা। এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসতে পারে একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারণা— ‘ইসলামি দিনার’।
আধুনিক বিশ্বে অর্থনীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে কার্যকর শক্তিগুলোর একটি। একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করে তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক বাজারে অবস্থানের ওপর। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিপুল জ্বালানি, খনিজ, কৃষি, জনশক্তি ও ভৌগোলিক সম্ভাবনার অধিকারী। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন, আঞ্চলিক সংঘাত, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সমন্বয়ের অভাবে সেই শক্তি আজও পূর্ণ বিকাশ লাভ করতে পারেনি।
এ বাস্তবতায় মুসলিম দেশগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো। সেই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমন্বয়ের প্রতীক হতে পারে একটি অভিন্ন হিসাব একক বা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মুদ্রা— ‘ইসলামি দিনার’।
তবে এর অর্থ এই নয়— সব মুসলিম দেশ অবিলম্বে নিজেদের জাতীয় মুদ্রা বাতিল করে নতুন মুদ্রা চালু করবে। বাস্তবে তা অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে সদস্য দেশগুলো নিজেদের জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করেই পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়াতে পারে। এরপর একটি যৌথ পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে, যেন আন্তর্জাতিক লেনদেনে তৃতীয় কোনো মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমে।
এর পরবর্তী পর্যায়ে একটি অভিন্ন হিসাব একক চালু করা যেতে পারে, যা কেবল আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্যে ব্যবহৃত হবে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সমন্বয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই একটি অভিন্ন মুদ্রার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এ ধারণার সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী যৌথ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কার্যকর অর্থনৈতিক সমন্বয় এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে একটি সুপরিকল্পিত কাঠামো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ‘ইসলামি দিনার’ যেন কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রতীক না হয়। বরং এটি হোক শান্তি, ন্যায়, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক। অর্থাৎ আমরা কোনো দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নই, আমরা অন্যায়, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে। এই নৈতিক অবস্থান মুসলিম বিশ্বের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও বাড়াতে পারে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ও মুসলিম বিশ্বের বহু দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তাই ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি সবসময় কাম্যও নয়। বরং সম্পর্ক বজায় রেখেই সংখ্যালঘু অধিকার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে কূটনৈতিকভাবে উদ্বেগ জানানো, আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর আওতায় শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণই হতে পারে কার্যকর পথ।
তবে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাইরের কোনো শক্তি নয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। সুন্নি-শিয়া বিভাজন, আরব-অনারব বৈরিতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্মিলিত শক্তিকে দুর্বল করেছে। তাই কোনো অভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগের আগে প্রয়োজন আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন উন্নয়ন-দর্শন গড়ে তোলা।
এ ভিত্তির প্রধান স্তম্ভ হতে হবে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং শান্তিপূর্ণ কূটনীতি। কারণ যে সমাজ নিজের নাগরিকের জন্য উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, শুধু নতুন মুদ্রা চালু করলেই সে শক্তিশালী হয়ে ওঠে না।
একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের মানবাধিকার নীতিও হতে হবে সর্বজনীন। ভারতে মুসলিমদের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, আদিবাসী বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধেও সমানভাবে সোচ্চার হতে হবে। কারণ মানবাধিকার ধর্ম, জাতি বা ভূগোলভেদে ভিন্ন হতে পারে না। ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান তখনই বিশ্বাসযোগ্য হয়, যখন তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
‘ইসলামি দিনার’ হয়তো আজ একটি ধারণা, হয়তো আগামীকালও তার বাস্তবায়ন হবে না। কিন্তু প্রতিটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয় একটি দূরদর্শী চিন্তা থেকে। মুসলিম বিশ্বের প্রয়োজন এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াবে, স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধি করবে, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবে এবং মানবসম্পদকে কাজে লাগাবে। ভবিষ্যতে সেই অর্থনৈতিক সমন্বয় যদি কোনো অভিন্ন মুদ্রার জন্ম দেয়, তার নাম যা-ই হোক, সেটি যেন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সহযোগিতা ও শান্তির প্রতীক হয়।
ভারতের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে সেই প্রতিবাদ ঘৃণার ভাষায় নয়, ন্যায়বিচারের ভাষায়; প্রতিশোধের ভাষায় নয়, মানবাধিকারের ভাষায়। কারণ সত্যিকারের শক্তিশালী জাতি অন্যকে দুর্বল করার ক্ষমতায় নয়, বরং নিজের জনগণকে শিক্ষিত, সমৃদ্ধ, মর্যাদাবান ও নিরাপদ করে তোলার সক্ষমতায় বড় হয়ে ওঠে।
আজকের আহ্বান হতে পারে— ঐক্য হোক সহযোগিতার, প্রতিবাদ হোক শান্তিপূর্ণ, আর অর্থনৈতিক শক্তি হোক ন্যায়, মানবতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।
লেখক: সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা, সোনামুখ পরিবার

আজ ৫ আগস্ট ২০২৬। সেই দুপুরের ঠিক দুই বছর পর। যে মিছিল সেদিন শাহবাগ, শহিদ মিনার আর যমুনার সামনের রাস্তায় থেমে গিয়েছিল আনন্দ-উল্লাসে, তার পায়ের শব্দ আজও যেন মিলিয়ে যায়নি। বদলেছে সরকার, বদলেছে সংসদ, বদলেছে রাষ্ট্রের নথিপত্র। কিন্তু সেই দিনের প্রশ্নগুলো এখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা কয়েক সপ্তাহের ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ, রক্তক্ষয় এবং দেশ জুড়ে অশান্তির পর ক্ষমতা ত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে চেপে বসা ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশ আজ আর সাহায্যনির্ভর রাষ্ট্র নয়; বরং উদীয়মান একটি আঞ্চলিক অর্থনীতি। সেই বাস্তবতার আলোকে কূটনীতিও হতে হবে আত্মবিশ্বাসী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং দূরদর্শী। বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে, কিন্তু কারও প্রভাববলয়ে আবদ্ধ না হয়ে, বাংলাদেশ তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অটু
৪ দিন আগে
মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে মাছে প্রবেশ করে? নদীতে ফেলা প্লাস্টিক সূর্যের আলো, তাপ, ঢেউ ও ঘর্ষণের ফলে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে যায়। প্ল্যাংকটন, চিংড়ি, শামুক এবং ছোট মাছ এগুলো খাদ্য ভেবে গ্রহণ করে। পরে বড় মাছ সেই ছোট মাছ খায়।
৭ দিন আগে