ঈদের শুভেচ্ছায় ইসলামি রীতি

আমাদের নবি (সা.) ও তার সাহাবিরা (রা.) তাদের জামানায় কীভাবে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতেন, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। সাধারণভাবে বর্তমান সময়ে ঈদের দিন একে অন্যকে ‘ঈদ মোবারক’ সম্ভাষণ করে থাকেন। কিন্তু নবি (সা.)-এর আমলে ‘ঈদ মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানানোর রীতি প্রচলিত ছিল না। তখন ঈদের দিন দেখা হলে একে অন্যকে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’। এর অর্থ, আল্লাহ যেন আপনার এবং আমার গুনাহ মাফ করে দেন। [বায়হাকি, ২ । ৩৯]
বর্তমানে আমরা সবাই ঈদের দিন ‘ঈদ মোবারক’ বলে থাকি। শব্দ দুটো আরবি। ‘ঈদ’ অর্থ খুশি, আনন্দ, উৎসব। ‘মোবারক’ অর্থ মঙ্গল, শুভ বা পবিত্র। দুটি শব্দ মিলিয়ে ‘ঈদ মোবারক’-এর অর্থ দাঁড়ায় ‘খুশি মঙ্গল’ বা ‘আনন্দ শুভ’ বা উৎসব পবিত্র’ বা এমন কিছু। অর্থাৎ ‘ঈদ মোবারক’ শব্দগুচ্ছ দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর যে আকাঙ্ক্ষা, সেটি পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয় না।
তবে যদি বলা হয় ‘ঈদ মোবারকবাদ’, তখন কিন্তু অর্থ অনেকটাই পূর্ণতা পায়। কারণ ‘মোবারকবাদ’ শব্দের অর্থ ‘অভিনন্দন’। তাহলে ‘ঈদ মোবারকবাদ’ অর্থ দাঁড়ায় ‘খুশি অভিনন্দন’ বা ‘আনন্দ অভিনন্দন’ বা ‘উৎসবের অভিনন্দন’ ইত্যাদি। [বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ব্যবহৃত বিদেশি শব্দের অভিধান, সম্পাদনা: মোহাম্মদ হারুন রশিদ, বাংলা একাডেমি ২০২০]

এখন আমরা কী করব! কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, সাংঘর্ষিক না হলে আমরা তো এটা ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু মূল সুন্নত আমরা ঢেকে দিতে পারি না। যদি জানার পরও ঢেকে দেই, তাহলে এটি সাংঘর্ষিকই হলো।
আমরা বরং এটি সমন্বয় করতে পারি। বলতে পারি, ‘তাকাবালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম, ঈদ মোবারক’।
তবে এ বিষয়ে ফয়সালা দিতে পারেন জ্ঞানী আলেমরা। সহি তরিকার উলামা হজরতরা আমাদের এ বিষয়ে পথ দেখাবেন নিশ্চয়ই।
লেখক: লেখক ও গবেষক