সরকার পতনের ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাসনাতের অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখছে ভারতীয় হাইকমিশনসহ গোয়েন্দা সংস্থা। এর অংশ হিসেবেই জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা ও গণহত্যার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘আপসহীন’ ভাবমূর্তির কারণে রাজনীতির যে উচ্চতায় খালেদা জিয়া উঠেছেন, তাতে বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে অপরিহার্য হলেও চলমান সংকটে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়াতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
দীর্ঘ ৪ মাস পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
সোমবার (৫ মে) এনসিপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন নিয়ে দলটির আনুষ্ঠানিক এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাতের সই করা বিবৃতিটি এনসিপির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, ডিসেম্বরে ভোট ধরেই তারা প্রস্ততি নিচ্ছে। সরকারের তরফ থেকেও আগের মতোই বলা যাচ্ছে, সংস্কারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে হবে।
একই তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি লিকেছেন, হাসনাতের গাড়িতে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী গাজীপুর এলাকায় হামলা করেছে। গাড়ির গ্লাস ভেঙে গিয়েছে, হাত রক্তাক্ত হয়েছে। আশপাশে যারা আছেন হাসনাতকে প্রটেক্ট করুন।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে ইসলামি দলগুলোর প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, (নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের) প্রস্তাবনা ঠিক মনে না হলে মত-দ্বিমতের সুযোগ রয়েছে। সেটা না করে পুরো কমিশন বাতিলের কথা তোলা হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে? এই কমিশনের
সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। আওয়ামী লীগের মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশে, তার জানাজা হয়েছে দিল্লিতে। আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। শেখ মুজিব বাকশাল কায়েম করে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছেন। ৩০ হাজার জাসদকর্মীকে হত্যা করেছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার হাসিনা বাংলাদেশকে ভারতের কাছে একটি পুতুল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে যখন এ দেশের মানুষ তাদের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেমেছে, ঠিক তখনই ভারত সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আপনি ভুলে যাবেন না, আমরা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি।
নুরুল হক নুর বলেন, যে গণঅভ্যুত্থানে দুই সহস্রাধিক মানুষ জীবন দিয়েছে, ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছে, ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা ঘটিয়েছে সেই আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ প্রশ্নে ও গণহত্যার বিচারের প্রশ্নে বিগত ৮ মাসে আমরা কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করিনি। অন্তবর্তীকালীন সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, এ বিষয়ে কোনো টালব
সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, আজ থেকে ৯ মাস আগে আগস্টের ৩ তারিখে ঠিক এমন বিকেলে শহীদ মিনারের উন্মুক্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবাই এক হয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলাম। আজ ২ মে ছাত্র জনতা এক হয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আবারও রায় দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশে খুনি আওয়ামী লীগে
ডা. তাসনিম জারা বলেন, আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে, যে দল বিগত বছরগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে গুম করেছে, খুন করেছে। সন্তান জানে না পিতা মারা গেছে নাকি রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে, নাকি কোথায় আছে। জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষকে খুন করেছে। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি।
আওয়ামী লীগের বিচার আর সংস্কার না হলে জুলাইয়ের মতো মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। শুক্রবার (২ মে) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে আওয়ামী নিষিদ্ধের ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ এ কথা বলেন তারা।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করার নৈতিকতা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে গণসংহতি আন্দোলন সক্রিয় থাকলেও ৫ আগস্টের পর নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে দল দুটির মধ্যে কিছু মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপির সঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের জোট হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জি এম কাদের বলেন, যারা সরকারে থেকে দল করছেন, তারা সরকার থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতির মাঠে আসুন। দেশের জনগণ যাকে মেনে নেয়, আমরাও তাকেই গ্রহণ করব। সরকারের ক্ষমতা আর মববাজি দিয়ে দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার চালাবে, আমরা তা মেনে নেব না।