
অরুণ কুমার

কলকাতা তখন স্বপ্নের শহার, বাংলা সাহিত্যের আঁতুড়ঘর। বড় বড় সাহিত্য পত্রিকা সব সেখান থেকেই বের হয়।
তাই বড় বড় কবি-সাহিত্যিকেরদের বাস কলকাতাতেই। জসীমউদদীনের খুব ইচ্ছে ছিল, কলকাতার সাহিত্যিকদের সঙ্গে পরিচিত হবেন। বিশেষ করে চারুচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। চারচন্দ্র তখন বিখ্যাত ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক।
তাঁর লেখা ‘সওগত’ গল্পগ্রন্থ জসীমউদদীনের ভীষণ প্রিয়। এই গল্পে চারুবাবু গরীব মুসলমাদের জীবনচিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
অনেক খুঁজেপেতে ‘প্রবাসী’র অফিসের ঠিকানা জোগাড় করে সেখানে গেলেন জসীমউদদীন। দারোয়নকে জিজ্ঞেস করলেন, চারুচন্দ্র আছেন কিনা। দারোয়ান একজনকে দেখিয়ে দিল।
জসীমউদদীন খুব বিনয়ের সঙ্গে তাঁকে সালাম দিয়ে সামনে দাঁড়ালেন। কিন্তু অচ্ছুৎ কাউকে দেখলে মানুষ যেমন সিঁটকে সরে দাঁড়ায়, ভদ্রলোক জসীমউদীদনকে দেখে তেমনটা করলেন।
ভদ্রলোক বললেন, কী চাই?
জসীমউদদীন তাঁর লেখার বড্ড ভক্ত, এক কথা জানিয়ে বললেন, নিজের লেখা কিছু কবিতা এনেছেন, তিনি যদি একটু দেখেন কষ্ট করে…
ভদ্রলোক জানালেন তাঁর হাতে কবিতা দেখার সময় মোটেও নেই। আরেকদিন যেন আসেন জসীমউদদীন। জসীমউদদীনের হাতে আসলে অতটা সময় ছিল না। তিনি কলকাতার পাট চুকিয়ে গ্রামে চলে আসতে চান। তার আগেই যদি চারবাবু তাঁর লেখাটা দেখেন, তাহলে খুব উপকার হয়—জসীম উদদীন জানালেন।
ভদ্রলোক দয়া করে চলে আসার তারিখের আগে আরেকটা দিন সময় দিলেন। জসীমউদদীন সেদিন গিয়ে হাজির। ভদ্রলোক তাঁকে চিনলেনই না। জসীমউদদীন তখন আগের দিনের কথা মনে করিয়ে দিলেন। কিন্তু ভদ্রলোক বললেন, কবিতা লিখে কী হয়? আপনি বরং গদ্য লিখুন।
জসীমউদদীন বললেন, আজ্ঞে আমি গদ্যও টুকটাক লিখি, সঙ্গে এনেছিও, আপনি দেখবেন?
ভদ্রলোক তখন দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বললেন, ভেবেছেনটা কী! আপনার ওই আজেবাজে লেখা পড়ার সময় আছে আমার!
জসীমউদদীন কষ্ট পেলেন, কিন্তু তাঁর মনে হলো এমন বাজে আচরণ যাঁর, তিনি আর যেই হোন, চারুচন্দ্র হতে পারেন না। নিশ্চয়ই ইনি অন্য কেউ! অফিসের এক কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হলেন, ইনি চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় নন!
তারপর জসীমউদদীন অনেক কষ্টে চারুবাবুর বাড়ির ঠিকানা জোগাড় করে একদিন তাঁর বাড়ি গিয়ে হাজির। এবার আসল চারুচন্দ্র, কিন্তু আচরণ আগের জনের চেয়েও খারাপ। আগের জনের মতোই জিজ্ঞেস করলেন, কী চাই?
জসীমউদদীন তাঁর ইচ্ছের কথা জানালেন। শুনে চারুচন্দ্র অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে কর্কশস্বরে বললেন, কবিতা দেখাতে বাড়ি পর্যন্ত আসতে হলো?
জসীমউদদীনের ভুল ভাঙল। বুঝলেন আসল চারুচন্দ্রও বদমেজাজি। ক্ষমাভিক্ষা করে মনে কষ্ট নিয়ে ফিরে এলেন।
এরপর বহু বছর কেটে গেছে। জসীমউদ্দীন লেখাপড়া শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন। তথদিনে চারুচন্দ্রও পত্রিকার চাকরি ছেড়ে ঢাকা চলে এসেছেন। অধ্যাপক হয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা জগন্নাথ কলেজের। ঢাকার তরুণ সাহিত্যিকদের তিনি উদ্বুদ্ধ করছেন, সুপরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছেন। একদিন তাঁর সঙ্গে এক আড্ডায় জসীমউদদীন কথায় কথায় সেদিনের দুর্ব্যবহারের কথা বললেন। চারুচন্দ্র মনে করতে পারলেন না কিছুই। শুধু বললেন, ‘আমার জীবনে এই ঘটনা ঘটেছে, এ তো অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।’
সূত্র: স্মৃতিকথা সমগ্র/জসীমউদদীন

কলকাতা তখন স্বপ্নের শহার, বাংলা সাহিত্যের আঁতুড়ঘর। বড় বড় সাহিত্য পত্রিকা সব সেখান থেকেই বের হয়।
তাই বড় বড় কবি-সাহিত্যিকেরদের বাস কলকাতাতেই। জসীমউদদীনের খুব ইচ্ছে ছিল, কলকাতার সাহিত্যিকদের সঙ্গে পরিচিত হবেন। বিশেষ করে চারুচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। চারচন্দ্র তখন বিখ্যাত ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক।
তাঁর লেখা ‘সওগত’ গল্পগ্রন্থ জসীমউদদীনের ভীষণ প্রিয়। এই গল্পে চারুবাবু গরীব মুসলমাদের জীবনচিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
অনেক খুঁজেপেতে ‘প্রবাসী’র অফিসের ঠিকানা জোগাড় করে সেখানে গেলেন জসীমউদদীন। দারোয়নকে জিজ্ঞেস করলেন, চারুচন্দ্র আছেন কিনা। দারোয়ান একজনকে দেখিয়ে দিল।
জসীমউদদীন খুব বিনয়ের সঙ্গে তাঁকে সালাম দিয়ে সামনে দাঁড়ালেন। কিন্তু অচ্ছুৎ কাউকে দেখলে মানুষ যেমন সিঁটকে সরে দাঁড়ায়, ভদ্রলোক জসীমউদীদনকে দেখে তেমনটা করলেন।
ভদ্রলোক বললেন, কী চাই?
জসীমউদদীন তাঁর লেখার বড্ড ভক্ত, এক কথা জানিয়ে বললেন, নিজের লেখা কিছু কবিতা এনেছেন, তিনি যদি একটু দেখেন কষ্ট করে…
ভদ্রলোক জানালেন তাঁর হাতে কবিতা দেখার সময় মোটেও নেই। আরেকদিন যেন আসেন জসীমউদদীন। জসীমউদদীনের হাতে আসলে অতটা সময় ছিল না। তিনি কলকাতার পাট চুকিয়ে গ্রামে চলে আসতে চান। তার আগেই যদি চারবাবু তাঁর লেখাটা দেখেন, তাহলে খুব উপকার হয়—জসীম উদদীন জানালেন।
ভদ্রলোক দয়া করে চলে আসার তারিখের আগে আরেকটা দিন সময় দিলেন। জসীমউদদীন সেদিন গিয়ে হাজির। ভদ্রলোক তাঁকে চিনলেনই না। জসীমউদদীন তখন আগের দিনের কথা মনে করিয়ে দিলেন। কিন্তু ভদ্রলোক বললেন, কবিতা লিখে কী হয়? আপনি বরং গদ্য লিখুন।
জসীমউদদীন বললেন, আজ্ঞে আমি গদ্যও টুকটাক লিখি, সঙ্গে এনেছিও, আপনি দেখবেন?
ভদ্রলোক তখন দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বললেন, ভেবেছেনটা কী! আপনার ওই আজেবাজে লেখা পড়ার সময় আছে আমার!
জসীমউদদীন কষ্ট পেলেন, কিন্তু তাঁর মনে হলো এমন বাজে আচরণ যাঁর, তিনি আর যেই হোন, চারুচন্দ্র হতে পারেন না। নিশ্চয়ই ইনি অন্য কেউ! অফিসের এক কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হলেন, ইনি চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় নন!
তারপর জসীমউদদীন অনেক কষ্টে চারুবাবুর বাড়ির ঠিকানা জোগাড় করে একদিন তাঁর বাড়ি গিয়ে হাজির। এবার আসল চারুচন্দ্র, কিন্তু আচরণ আগের জনের চেয়েও খারাপ। আগের জনের মতোই জিজ্ঞেস করলেন, কী চাই?
জসীমউদদীন তাঁর ইচ্ছের কথা জানালেন। শুনে চারুচন্দ্র অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে কর্কশস্বরে বললেন, কবিতা দেখাতে বাড়ি পর্যন্ত আসতে হলো?
জসীমউদদীনের ভুল ভাঙল। বুঝলেন আসল চারুচন্দ্রও বদমেজাজি। ক্ষমাভিক্ষা করে মনে কষ্ট নিয়ে ফিরে এলেন।
এরপর বহু বছর কেটে গেছে। জসীমউদ্দীন লেখাপড়া শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন। তথদিনে চারুচন্দ্রও পত্রিকার চাকরি ছেড়ে ঢাকা চলে এসেছেন। অধ্যাপক হয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা জগন্নাথ কলেজের। ঢাকার তরুণ সাহিত্যিকদের তিনি উদ্বুদ্ধ করছেন, সুপরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছেন। একদিন তাঁর সঙ্গে এক আড্ডায় জসীমউদদীন কথায় কথায় সেদিনের দুর্ব্যবহারের কথা বললেন। চারুচন্দ্র মনে করতে পারলেন না কিছুই। শুধু বললেন, ‘আমার জীবনে এই ঘটনা ঘটেছে, এ তো অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।’
সূত্র: স্মৃতিকথা সমগ্র/জসীমউদদীন

গত ৬ আগস্ট রাত ১২টা থেকে দর্শকদের জন্য সিনেমাটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। সাইফ চন্দন পরিচালিত অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল।
১৪ দিন আগে
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন সহশিল্পী, অভিনয়শিল্পী ও দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। স্বাগত দের প্রয়াণে বাংলা লোকসংগীত অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পী ও সংস্কৃতিজনেরা।
১৬ দিন আগে
প্রথমে তিনি সংক্ষিপ্ত আলাপ পরিবেশন করেন। পরে ঝাপতাল ও তিন তালে নিবদ্ধ গৎ পরিবেশন করেন। এরপর তিনি পরিবেশন করেন রাগ হংসধ্বনি। পর্যায়ক্রমে রাগ জয়-জয়ন্তীসহ আরও কয়েকটি রাগ সংক্ষিপ্তভাবে বাঁশিতে তুলে ধরেন প্রখ্যাত এই শিল্পী।
২২ দিন আগে